Naya Diganta

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হত্যা, বন্ধুদের মুখে ‘লোমহর্ষক বর্ণনা’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হত্যা, বন্ধুদের মুখে ‘লোমহর্ষক বর্ণনা’

রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস অব বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় নিহত তরুণীর বান্ধবী নেহাকে গ্রেফতারের জন্য খুঁজছে পুলিশ। সে বর্তমানে সুস্থ কিংবা জীবিত আছে কি-না, এ বিষয়ে জানতে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এছাড়াও ওই তরুণীর নিহত বন্ধু আরাফাতের দাফন সম্পন্ন করেছে পরিবার। তার লাশ কবর থেকে তোলারও আবেদন করা হবে।

সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাজধানীর উত্তরার ব্যাম্বু সুট রেস্টুরেন্টে মোট ৫ জন ছিলেন। যাদের মধ্যে ওই তরুণীসহ আরাফাত নামের একজন মারা গেছে। আরাফাত রাজধানীর সিটি জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছে। চিকিৎসক মৃত্যুর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত মদ্যপান উল্লেখ করেছে। মৃত্যুর পরপরই বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে তার লাশ দাফন করে দেয়া হয়। ইতিমধ্যে এই ঘটনার রহস্য জানতে আরাফাতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। মামলার আসামি হিসেবে প্রয়োজনে কবর থেকে তার লাশ উত্তোলনের আবেদন করা হতে পারে।

গ্রেফতার মর্তুজা রাহয়ান চৌধুরী ও নুহাত আলম তাফসিরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পুলিশি তদন্তে ঘটনার একটি প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে। তাদের তথ্যমতে, নিহত তরুণী ও রায়হান আগে থেকেই প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে ২৮ তারিখ বিকালে দেখা করার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। এদিন বিকেলে তারা হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজার সামনে একত্রীত হন। সেখানে তাদের সাথে দেখা হয় তাদের বন্ধু আরাফাতের। সেখানে আরাফাত তাদেরকে গুলশানে একটি রেস্টুরেন্টে দাওয়াত আছে বলে নিমন্ত্রণ দেন। সেই দাওয়াতে যাওয়ার জন্য তারা প্রথমে আরাফাতের বাসায় (লালমাটিয়া) যান। সেখান থেকে একযোগে উবার নেন। শেষ মুহূর্তে আরাফাত তাদের জানায়, রেস্টুরেন্টের লোকেশন একটু বদল হয়েছে, উত্তরায় যাচ্ছি আমরা। তখন তারা উবার নিয়ে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ব্যাম্বু সুট রেস্টুরেন্টে যান।

রেস্টুরেন্টে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ওই তরুণীর বন্ধু নেহা ও তার আরেক ছেলে বন্ধু। রেস্টুরেন্টে তারা ৫ জন একত্রীত হয়ে মদ্যপান শুরু করেন। মদ সরবরাহ করে নেহার ছেলে বন্ধু (অজ্ঞাত)।

সন্ধ্যায় পরপরই তারা একসঙ্গে মদ খাচ্ছিল। একপর্যায়ে প্রথমে নেহা অসুস্থতা বোধ করলে তার বন্ধুসহ চলে যায়। রেস্টুরেন্টে আরাফাত, রায়হান ও ওই তরুণী মদ্যপান করতেই থাকে। একপর্যায়ে নিহত তরুণী টয়লেটে গিয়ে বমি করে। সেই অবস্থা দেখে রায়হান ও আরাফাত ওই তরুণীকে নিয়ে একসাথে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে উবার নেয়। উবারে ওই তরুণী ও রায়হানকে গুলশান-২ এ নামিয়ে দেয় আরাফাত।

গুলশান-২ এ নেমে ওই তরুণী বলে যে, সে বাসায় যাবে না, তাকে তার বান্ধবী তাফসিরের বাসায় নিয়ে যেতে বলে। তখন তারা দুইজন মিলে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মাদকীয়া হোমস লিমিটেডের ৯ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসায় যায়। সেই বাসায় তাফসির তার মার সঙ্গে থাকতো। তবে সেদিন তাফসির একা ছিল। ২৮ তারিখ রাতে তারা তাফসিরের বাসায় ঢুকে। এর পরপরই ওই তরুণী বমি করে। সেই বমি পরিষ্কার করে তাফসির ও রায়হান। এরপর রায়হান ও ভিক্টিম তরুণীকে এক রুমে রেখে অন্য রুমে চলে যায় তাফসির।

রাতে রায়হানের সঙ্গে একাধিকবার ওই তরুণীর শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর ২৯ তারিখ ভোরেই ভিক্টিমকে তাফসিরের বাসায় রেখে নিজের বাসায় চলে যায় রায়হান। সকাল থেকে দুর্বল বোধ করছিলেন ভিক্টিম তরুণী। দুপুরে তাফসিরের বাসায় এসে আবার খোঁজ-খবর নিয়ে যায় রায়হান। শুক্রবার মধ্যরাতে রায়হান তার বন্ধু কোকোকে ফোন দিয়ে ভিক্টিমের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানায়। তখন কোকো এসে তাকে প্রথমে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তবে হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা না থাকায় ৪০ মিনিট পর তাকে ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আইসিইউতে রাখা হয় ভিক্টিম তরুণীকে। তখন রায়হান ভিক্টিমের বাবাকে ফোন করে এ বিষয়ে জানায়। ভিক্টিমের বাসা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন। পরদিন ৩০ তারিখ মধ্যরাতে নেহার মৃত্যুর আগেই তার বাবা মোহাম্মদপুর থানায় এসে একটি মামলা করে। পরদিন ৩১ তারিখে তার মেয়ের মৃত্যু হয়।