Naya Diganta

ফেলে আসা বসন্তের দিনগুলো

সেই দিনটাকে খুঁজি আমি। ভরা বসন্তের মধ্য দুপুর। গাছের পাতার আড়ালে অজস্র ঝিঁঝি পোকাদের বিরতিহীন ডাক। ঝিনঝিন রবে চার দিক মাতিয়ে তুলেছে তারা। ক্ষণে ক্ষণে ভেসে আসছে কুকিলের ডাক। ভ্যাপসা গরমে হাফপ্যান্ট পরা এক কিশোর বসে আছে বাঁশঝাড়ের নিচে। ঠাণ্ডা বালুর ওপর। উদ্দীপ্ত সূর্যের আলো গাছের পাতার ফাঁক-ফোকড় দিয়ে কিশোরের নাকে-মুখে এসে পড়ছে। বালুর ওপর লেপটে বসে থাকা কিশোর হাতের মুটোয় বালু নিয়ে অল্প করে গায়ে-গতরে লেপটে দিচ্ছে। ভ্যাপসা এই গরমে ঠাণ্ডা বালু গতরে মাখতে বেশ ভালো লাগছে। সে এক স্বর্গীয় অনুভূতি। দোদুল্যমান গাছের পাতাগুলোর ওপর তাকিয়ে আছে নির্নিমেষ। আচ্ছা ওই পোকাগুলো দেখতে কেমন? খুব কি বড়? না, তাহলে তো আমি দেখতেই পেতাম। আচ্ছা এত ছোট্ট পোকা এত আওয়াজ কিভাবে করে? এমন অজস্র প্রশ্ন নিয়ে গাছের দিকে তাকিয়ে থেকে কত সময় যে গত হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। দিন যায় রাত আসে, রাত শেষে দিন আসে। ঝিনঝিন শব্দের রহস্য তার কাছে রহস্যই রয়ে গেল। এরই মধ্যে গত হয়েছে বেশ কিছু বসন্ত। কৈশোর পেরিয়ে সে আজ টগবগে তরুণ। এখনো বসন্ত আসে, ডাকে ঝিঁঝি পোকারাও, কিন্তু সেই মধ্যদুপুরে বাঁশঝাড়ের নিচে ঠাণ্ডা বালুর ওপর বসার সুযোগ আর হয় না। গায়ে আর মাখা হয় না বালু। অদ্ভুত সব ভাবনারাও আর আসে না। তবে খুব মনে চায় সেই দিনটাতে ফিরে যেতে। খুব, খুব মনে চায়।
ভালুকবেড়, ময়মনসিংহ।