Naya Diganta

নিউ ইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর কোনো সফলতা নেই : মির্জা ফখরুল

নিউ ইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ‘সফলতা’ নেই বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কৃষক দলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি হাসান জাফির তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলসহ নেতাকর্মীদের নিয়ে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্জন একটাই, তা হলো আরো মিথ্যাচার কিভাবে করা যায়। আপনারা লক্ষ করে দেখবেন তার গোটা বক্তৃতার মধ্যে দেশে যে গণতন্ত্র নেই, দেশে যে মানুষের অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছে, দেশে যে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে তার কোনো উল্লেখ নেই।
তিনি বলেন, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনের জন্য যে সব উপাদান দরকার তার প্রতিটি ধ্বংস করে দিয়ে এখানে সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ অবস্থা থেকে কিভাবে উনি দ্রুত সত্যিকারার্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করবেন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিণত করবেন, জনগণের এখন যে দুর্ভোগ, অসহায় অবস্থা কিভাবে দূর করবেন সেই সম্পর্কে তিনি কোনো কিছু উল্লেখ করেননি। প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফরে আমি কোনো কোনো আউটকাম পাইনি। এমনকি রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা সেই সমস্যারও তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কোনো সমাধান নিয়ে আসতে পারেননি।
মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বলেন কিংবা এই সরকার বলেন তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি। এখন পর্যন্ত শুধু রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো সফর করেনি, বিশেষ করে যারা স্টেকহোল্ডার আছে, যেমন চীন ও ভারত তাদের কাছে এখন পর্যন্ত যেতে পারেনি এবং এই সমস্যার কোনো সমাধান কোনো পথ তারা বের করতে পারেনি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সুবিধা নিচ্ছে সরকার : রোহিঙ্গা ইস্যু জিইয়ের রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহমর্মিতা নিচ্ছে কি না প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, সঠিকভাবেই বলেছেন। এই ইস্যুটাকে জিইয়ের রেখে তারা আন্তর্জাতিক যে সুবিধা সেই সুবিধাগুলো গ্রহণ করতে চায় পশ্চিমা বিশ্বের।
তিনি বলেন, তার (শেখ হাসিনা) সম্পর্কে যেসব বক্তব্য পত্র-পত্রিকায় মিডিয়াতে উঠে এসেছে তা খণ্ডন করার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক কথা উনি বলেছেন যার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক : বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা যা সব সময় প্রত্যাশা করি যে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য জনগণের যে অধিকার, তার ভোটের যে অধিকার, তার বাকস্বাধীনতার যে অধিকার, তার বেঁচে থাকার যে অধিকার তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তারা সত্যিকারার্থেই এখানে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় তারা নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন যাতে সত্যিকারভাবে জনগণের পার্লামেন্ট ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে।
কৃষক দলের নবগঠিত কমিটির কাছে প্রত্যাশা রেখে তিনি বলেন, বর্তমানে যে একটি ফ্যাসিস্ট দানবীয় সরকার নির্বাচন না করেই ক্ষমতা দখল করে আছে, তাদেরকে সরিয়ে দেয়ার জন্য জনগণের মধ্যে একটি আন্দোলন ও একটা গণ অভ্যুত্থানের জন্য কাজ করতে হবে আমাদের সবাইকে। ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা করতে সক্ষম হবো কৃষক দলের নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ প্রচার সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিন, কৃষক দলের নতুন কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সহসভাপতি গৌতম চক্রবর্তী, যুগ্ম সম্পাদক টি এস আইয়ুব, মোশাররফ হোসেন ও দফতর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর কৃষক দলের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয় বিএনপি।