Naya Diganta

নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ

বগুড়ার নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের সীমাহীন দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা বারবার অভিযোগ করলেও উপজেলা প্রশাসন ও গভর্নিং বডি নীরব ভূমিকা পালন করছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আরো একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়, সিরাজুল ইসলাম ২০০৬ সালে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন এ পর্যন্ত কলেজের পুকুর ও জমি পত্তনির টাকা এবং কলেজ জাতীয়করণের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। কলেজের গ্রন্থাগার থেকে বিভিন্ন মূল্যবান বই প্রধান গ্রন্থাগারিকের সহযোগিতায় বিক্রি করেছেন। অধ্যক্ষ একক নামে কলেজের অ্যাকাউন্ট খুলে সেই অ্যাকাউন্টে কলেজের টাকা-পয়সা জমা রেখে গভর্নিং বডির অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে ব্যাংক থেকে তুলে আত্মসাৎ করেন। তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দেন, যা পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশির ) তদন্ত প্রতিবেদনে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। নম্বরবিহীন ও ভুয়া রসিদ সংযোজন করে অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময় কলেজের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন। গভর্নিং বডির অনুমতি ছাড়াই কলেজের ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) ভেঙে অধ্যক্ষ অর্থ আত্মসাৎ করেন। নির্বাচন ছাড়া শিক্ষকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অধ্যক্ষ গভর্নিং বডিতে বিদ্যুৎসাহী ও অভিভাবক সদস্য হিসেবে আত্মীয়স্বজনদের মনোনীত করেন। স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অধ্যক্ষ গভর্নিং বডিতে বিদ্যুৎসাহী ও অভিভাবক সদস্য হিসেবে আত্মীয়স্বজনদের মনোনীত করেন। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ফজলুল করিম সুজার নিয়োগ নিয়ে ঘোরতর অনিয়ম হয়েছে। এই ফজলুল করিম সুজা ও জীববিজ্ঞানের প্রভাষক রুহুল কুদ্দুস পুটু ২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কলেজের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় থাকলেও ২০১৬ সাল থেকে আজ অবধি তারা কোনো নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেননি যা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বিধি পরিপন্থী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোর গভর্নিং বডি সংশোধিত সংবিধানের ১৪-এর গ ধারা লঙ্ঘন করে মোবারক আলীকে গভর্নিং বডির সভায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেন অধ্যক্ষ।
এ ব্যাপারে ওই কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিফা নুসরাত বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।