Naya Diganta

জীবননগরে লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে এবার আলুর আবাদ

জীবননগরে লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে এবার আলুর আবাদ

দাম বেশি পাওয়ায় আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চাষীদের মধ্যে আলু চাষে হিড়িক পড়ে গেছে। এবার লক্ষ্যমাত্রার অনেক বেশি জমিতে আলুর আবাদ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রবি মওসুমে অধিক লাভের আশায় আগে ভাগে চাষীরা জমি প্রস্তুত, আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ, হিমাগার থেকে বীজ উত্তোলন করে জমিতে আলু রোপণের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জীবননগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের সব জায়গায় পুরোদমে আলু চাষের প্রস্তুতি চলছে। জমি প্রস্তুতের পর জমিতে ডায়মন্ড, গ্রানুলা, কার্ডিনাল জাতের আলু বীজ রোপণ করা হচ্ছে। বেশি লাভের আশায় অনেক চাষী আমন ধান কাটার পর পরই জমিতে আলু রোপণ করায় চারা গাছে পোকা-মাকড় দমনে স্প্রে করছে। মওসুমের শুরুতে বাজার দর ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা।

জীবননগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি মওসুমে উপজেলায় কার্ডিনাল, ডায়মন্ড জাতের আলু বেশি চাষ হয়েছে। গত মওসুমে উপজেলায় ৮৮০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিল। চলতি বছরও ৮৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এ পর্যন্ত জীবননগর উপজেলায় এক হাজার ২৭ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আলু চাষীরা জমি প্রস্তুত করে আলু লাগানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, উপজেলা লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে এবার আলুর আবাদ হবে।

উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের চাষি রমজান বলেন, গত দুই বছর ধরে আলুর ভালো দাম পাওয়ায় চাষীরা আলু চাষে ঝুঁকেছে। তবে এ বছর শ্রমিক সঙ্কটের পাশাপাশি বীজেরও সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আমি এ বছর ১২ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছি। বর্তমানে বাজারে আলুর দাম খুব ভালো। সার ও বীজের দামও অনেক বেশি। বাজারে প্রতি কেজি বীজ আলু ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


উপজেলার মিনাজপুর গ্রামের কৃষক কদম আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। আমাদের এলাকার কৃষকেরা এখনো আলু লাগাচ্ছে। আলু বীজের একটু সঙ্কট থাকলেও আমাদের এলাকায় শ্রমিক সঙ্কট নেই। তবে এ বছর সার-কীটনাশকের দাম একটু বেশি। এখন বাজারে আলুর দাম যেভাবে আছে,তা অব্যাহত থাকলে এবং ফলন ভালো হলে খরচ পুঁষিয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শিরিন সারমিন বলেন, এবার বছর জুড়ে আলুর ভালো দাম পাওয়ায় আলু চাষে চাষীরা ব্যাপক হারে ঝুঁকে পড়েছে। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কৃষকেরা আলু রোপণ করতে পারবেন। অনেক কৃষক এ সময়ের পরও আলু রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। ধারণা এ বছর লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে আলুর আবাদ হবে। এ বছর উপজেলায় ৮৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকেরা যাতে আলুর ভালো ফলন পান সেজন্য সার,সেচ ও পোকামাড়ক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সঠিকভাবে ধারণা দিচ্ছি। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ফলন ভালো হলে উৎপাদিত আলু এলাকার চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে সরবরাহ করা যাবে।

চাষীদের আলু চাষে বিশেষ প্রশিক্ষণ, কৃষক পর্যায়ে সরাসরি আলু ক্রয় ও চাষে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হলে চাষীদের আলু চাষে আগ্রহ বাড়বে বলে কৃষকদের দাবি।