Naya Diganta

ফিরেছে খেলা এতেই আনন্দ

ফিরেছে খেলা এতেই আনন্দ

টানেল স্প্রে দিয়েই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমন্যাসিয়ামে প্রবেশ। টানেল পর্বের আগে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা। প্রত্যেক তায়কোয়ানডো খেলোয়াড়ের মুখে মাস্ক। সবার শরীরের তাপমাত্রাও মাপা হলো। এই প্রক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর আন্ত: জেলা পুমসে তায়কোয়ানডো।

এই স্বাস্থ্য বিধি অনুসরনের সাথে তারা খুশী করোনার মধ্যেও ফের খেলা শুরু হওয়ায়। ৬ ক্লাব এবং ১৪ জেলার প্রায় দুই শত খেলোয়াড়ের উপস্থিতিতে শুরু করোনাকালে দেশের প্রথম কোনো খেলা। ১২টি ইভেন্টে ৩৬টি স্বর্নের জন্য তাদের লড়াই চলবে আগামী কাল পর্যন্ত। তায়কোয়ানডোতে খেলা বলতে ফাইট বা গেরুগে ইভেন্টের সাথেই পরিচিত সবাই। করোনা সংক্রমনের ঝুঁকিতে এই গেরুগে ইভেন্ট নেই। তাই শুধু পুমসে (ডিসপ্লে) ইভেন্টই আয়োজন। তবে গত এসএ গেমসে পুমসেতে বাংলাদেশকে প্রথম স্বর্ন এনে দেয়া দীপু চামকা এই আসরে দর্শকের কাতারে। নেপথ্য ইনজুরি। জানান তিনি।

২০০৬ কলম্বোর এস এ গেমসে বাংলাদেশ প্রথম তায়কোয়ানডোতে স্বর্ন জয় করে মিজানুর রহমানের কল্যানে। তিনি গেরুগের খেলোয়াড়। তাই তিনি কাল এসেছেন সেনাবাহিনীর কোচ হয়ে। নিজে এই পুমসে খেলতে না পারলেও গর্বিত করোনা কালে তায়কোয়ানডো দিয়েই দেশে খেলা ফের শুরু হওয়ায়। গত এসএ গেমসে পুমসে বাংলাদেশ একটি স্বর্ন এবং ১০টি ব্রোঞ্জ পদক জয় করে। এই ব্রোঞ্জ জয়ীদের একজন কামরুল ইসলাম।

তার মতে, ‘খেলতে পারছি এতেই খুশী। এক সময়তো মনে হয়েছিল খেলাই শুরু হবে না। হারিয়ে যাবে সব।’ বিজিবির খেলোয়াড় আলী আকবর জানান, ‘এতোদিন বলতে গেলে বন্দীই ছিলাম। এখন দারুন লাগছে পুনরায় ম্যাটে নামতে পেরে।’ বিজিবির আরেক খেলোয়াড় রুবেল খান রবিনের সন্তুস্টি স্বাস্থ্য বিধি নেমে পুমসে তায়কোয়ানডো শুরু করায়। একই বক্তব্য, উঠতি খেলোয়াড় বিনতে আমজাদেরও। তবে ছয় মাস পরে শুরু হওয়া খেলায় খেলোয়াড় কম থাকায় মন খারাপ সাউথ পয়েন্ট স্কুলের এই ছাত্রীর। রবিনের আশা তায়কোয়ানডোকে দেখে অন্য ফেডারেশনগুলোও পুনরায় শুরু করবে খেলা।
খেলোয়াড় এবং জাজরা ঠিকমতো স্বাস্থ্য বিধি মানছেন কি না সেদিকে নজর রাখছিলেন ফেডারেশন সেক্রেটারী মাহমুদুল ইসলাম রানা।

খেলোয়াড়দের কয়েক মাস আগে করোনা টেস্ট করানো হয় বলে জানান ব্রোঞ্জ জয়ী কামরুল। তবে কাল এনএসসির এই ভেন্যূতে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে পাশা পাশি বসে পরস্পরের সাথে কথা বলতে দেখা গেছে মুখে মাস্ক না পরেই।