Naya Diganta

ভুল চিকিৎসায় অনাগত সন্তান প্রসূতির মৃত্যু, পালানোর সময় চিকিৎসক আটক

ভুল চিকিৎসায় অনাগত সন্তান প্রসূতির মৃত্যু, পালানোর সময় চিকিৎসক আটক

শ্রীনগরে ক্লিনিকে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মাসহ অনাগত সন্তানের মৃত্যু ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। উপজেলার ঝুমুর হল-সংলগ্ন বিক্রমপুর হাসপাতাল ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। নিহত প্রসূতির নাম লাবনী আক্তার (২৬)। তার স্বামী মো: মুহিন শ্রীনগর থানায় ডা: প্রদীপ কুমার মন্ডলকে প্রধান আসামী করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত ডা: প্রদীপ কুমার ওই ক্লিনিকের মালিক ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওই দিন বিকালে লৌহজং উপজেলার কনকসার এলাকার বেদে সম্প্রদায়ের লাবনীকে দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের জন্য ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লাবনীকে ওটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। এর এক ঘণ্টা পরে ডাক্তাররা কৌশলে এম্বুল্যান্স ডেকে লাবনীকে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেন। এসময় স্বজনরা বুঝতে পারেন যে লাবনী আক্তার মারা গেছেন। তারা বিষয়টি নিয়ে কথা তুললে ডাক্তার প্রদীপ কুমার মন্ডলসহ ৩ থেকে ৪ জন পালিয়ে যান।

স্বজনদের মতে, ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কারণে লাবনীর সাথে অনাগত সন্তানটিও মারা গেছে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ওটি সহকারী সঞ্জয় রায়, নার্স রিতা আক্তার ও সুমনাকে আটক করে।
লাবনীর স্বজনরা অভিযোগ জানান, সিজারের জন্য ক্লিনিকটির সাথে তাদের ১৩ হাজার টাকার চুক্তি হয়। লাবনীকে ওটি রুমে নেয়ার আগেই বিভিন্ন অজুহাতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের থেকে ১৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক বছর ধরে দুই ভাই ডা: প্রদীপ কুমার মন্ডল ও দিলিপ কুমার মন্ডল মিলে ক্লিনিক খুলেছেন। তবে ক্লিনিকটিতে প্রদীপ মন্ডল একাই এনেসথেসিয়া দেন ও অপারেশন করেন।
শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।