Naya Diganta

২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-৪৫

প্রিয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের ‘দ্বিতীয় অধ্যায় : ইবাদত’ থেকে আরো ২টি বর্ণনামূলক প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হলো।
প্রশ্ন : মসজিদের আদবগুলো কী কী?
উত্তর : মসজিদ হলো আল্লাহর ঘর। দুনিয়ার সবচেয়ে পবিত্র ও সম্মানিত স্থান। আল্লাহ তায়ালা আমাদের খালিক, মালিক। তিনি আমাদের জীবন-মৃত্যুরও মালিক। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সাক্ষাৎ ঘটে। বান্দা তার মাবুদের দরবারে হাজিরা দেয়। আল্লাহর দরবারে অতি বিনয় ও বিনম্রভাবে হাজির হতে হবে। অত্যন্ত কাতরভাবে অন্তরের আকুতি জানাতে হবে। সুতরাং মসজিদের কতগুলো আদব মেনে চলতে হয়। যেমনÑ
১. পাক-পবিত্র শরীর ও পোশাক নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়।
২. পবিত্র মন ও বিনয়-বিনম্রতার সাথে মসজিদে প্রবেশ করা।
৩. মসজিদে প্রবেশের সময় এ দোয়া পড়াÑ হে আল্লাহ, আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাগুলো খুলে দাও।
৪. মসজিদে প্রবেশের সময় হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি না করা। মসজিদে কোনো খালি জায়গা দেখে বসা। নিজে না গিয়ে অন্যকে সামনে যেতে বলা উচিত নয়। বেশি জায়গা জুড়ে বসবে না, অন্যদের বসার জায়গা করে দেবেন।
৫. লোকজনকে ডিঙিয়ে সামনের দিকে না যাওয়া।
৬. মসজিদে কোনো অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা।
৭. নীরবতা পালন করা। উচ্চস্বরে কথা না বলা।
৮. কুরআন তিলাওয়াত ও ধর্মীয় কথাবার্তা শোনা।
৯. কোনো অবস্থায় হইচই, শোরগোল না করা।
১০. সালাতরত কোনো মুসল্লির সামনে দিয়ে যাতায়াত না করা।
১১. মোবাইল খোলা রেখে বা অন্য কোনোভাবে মসজিদের শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করা।
১২. মসজিদে বিনয় ও একাগ্রতার সাথে ইবাদত করা।
১৩. মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এ দোয়া পড়াÑ হে আল্লাহ আমি তোমার অনুগ্রহ কামনা করছি।
সুন্দর সমাজ ও শিক্ষা সংস্কৃতি সৃষ্টিতে মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রশ্ন : জাকাতের মাসারিফ কয়টি ও কী কী বর্ণনা করো।
উত্তর : ‘মাসারিফ’ অর্থ ব্যয়ের খাতসমূহ। যাদের জাকাত দেয়া যায় তাদের বলে জাকাতের মাসারিফ। সবাইকে জাকাত দেয়া যায় না। কেবল আট শ্রেণীর লোককে জাকাত দেয়া যায়। তারা হলো :
১. ফকির বা অভাবগ্রস্ত, ২. মিসকিন বা সম্বলহীন,
৩. জাকাতের জন্য নিয়োজিত কর্মচারীরা,
৪. ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে এমন ব্যক্তি,
৫. দাসমুক্তি, ৬. ঋণগ্রস্ত, ৭. আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী ও ৮. অসহায় পথিকদের জন্য। জাকাতের এ খাতগুলো আল্লাহর নির্ধারিত।
জাকাত দিলে মাল পবিত্র হয়। সম্পদ ও সওয়াব বৃদ্ধি পায়। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর হয়। মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়। সমাজ থেকে অভাবজনিত, অসামাজিক কার্যকলাপ ও অপরাধ দূর হয়। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপিত হয়। আল্লাহ তায়ালা খুশি হন। জাকাত না দিলে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বৃদ্ধি পায়। বৈরিতা সৃষ্টি হয়। সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হয়। আখিরাতে কঠিন আজাব ভোগ করতে হয়। আমরা হিসাব করে নিয়মিত জাকাত দেবো। আল্লাহর পথে অকাতরে ব্যয় করব। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে সচেষ্ট হবো।