Naya Diganta
সিরিয়ার ইদলিবে মানবিক বিপর্যয়

হামলা নয়, সংলাপই সমাধান

সিরিয়ার ইদলিবে মানবিক বিপর্যয়

সিরিয়ায় চরম সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত ইদলিবে সিরীয় সরকারের মুরব্বি দেশ রাশিয়ার বিমান হামলা চলছে। পুতিনের বিমানবাহিনীর সাথে মিলে সিরিয়ার আসাদ সরকারের সৈন্যরা রাসায়নিক হামলা চালাতে পারেÑ এ আশঙ্কায় ইদলিবের শিশুদেরও আত্মরক্ষার জন্য মুখোশ পরানোর ছবি মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে। ‘ইদলিব’ নামটি সিরিয়ার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের সুবাদে গত কয়েক বছরে বহুবার উচ্চারিত হয়েছে। এখন ইদলিব এলাকাভেদে সিরিয়ার সরকারি ও বিদ্রোহী বাহিনী ছাড়াও কুর্দি মিলিশিয়া এবং বিদেশীদের মধ্যে তুরস্ক, ইরান ও রাশিয়ার পাঠানো সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতএব, ইদলিবের পরিস্থিতি যে অত্যন্ত জটিল এবং সেখানে চলমান লড়াই রক্তক্ষয়ী ও প্রলম্বিত হতে পারে, সে আশঙ্কাই জেগেছে। দামেস্কের বাশার আল আসাদ সরকার রুশ ও ইরানি সৈন্যদের ব্যাপক সহায়তা নিয়ে সম্প্রতি বিদ্রোহীদের হাত থেকে একের পর এক এলাকা পুনর্দখলে আনার ধারাবাহিকতায় ইদলিবেও তাদের কর্তৃত্ব যেকোনো উপায়ে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রধানত এ কারণে ইদলিবের যুদ্ধে প্রাণহানি ও সম্পদ ধ্বংসসহ ভয়াবহ বিপর্যয়ের শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
নয়া দিগন্তসহ পত্রপত্রিকার খবরে আরো জানা যায়, সিরিয়ায় ‘বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি’ ইদলিবে অস্ত্রবিরতি ঘোষণার প্রশ্নে একমত হতে পারেনি তুরস্ক, ইরান ও রাশিয়া। রুশ হামলা শুরু করার দিন, গত শুক্রবার সিরীয় যুদ্ধের এই তিন বিদেশী কুশীলবের প্রেসিডেন্টরা তেহরানে বৈঠকে মিলিত হলেও ইদলিব সঙ্কট অনিষ্পন্ন থেকে যাওয়ায় সেখানে মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা অনেক বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ইদলিবের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে দলে দলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তেহরান বৈঠকের পর এরদোগান, রুহানি ও পুতিনের যৌথ বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়, ‘সামরিক পন্থায় সিরিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটবে না।’ তাই তারা রাজনৈতিক পথে এগিয়ে যেতে বলেছেন। অথচ একই দিন প্রত্যুষে রুশ যুদ্ধবিমান আর সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ইদলিবে হামলা শুরু করে দিয়েছে। অর্থাৎ তারা নিজেরাই চায় সর্বোচ্চ মাত্রার সহিংসতা। এ অবস্থায় দেশ ধ্বংসের দায় অবশ্যই বাশার সরকার এবং তার বিদেশী মদদদাতাদের নিতে হবে।
সিরিয়াতে অন্তত অর্ধ-শতাব্দী ধরে চরম স্বৈরতান্ত্রিক ও নিপীড়ক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। ২০১১ সালের গোড়ার দিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো সিরিয়াতেও সূচনা হয়েছিল ‘আরব বসন্তের’। কিন্তু বিশেষত, একনায়ক বাশার আল আসাদের একগুঁয়েমি ও নিষ্ঠুরতার জের ধরে নিয়মতান্ত্রিক গণবিক্ষোভ সশস্ত্র প্রতিরোধ ও অব্যাহত সহিংসতায় পর্যবসিত হয়েছে। এরপর থেকে অব্যাহত গৃহযুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু, অজস্র নারী-পুরুষ আহত ও পঙ্গু হওয়া এবং অপরিমেয় সম্পদহানির পাশাপাশি কয়েক মিলিয়ন বনি আদম উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগ তুরস্কে এবং অন্যরা জর্দান, ইরাক, লেবানন প্রভৃতি দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সশস্ত্র সঙ্ঘাত বন্ধ করে সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সুরাহার তাগিদ বাড়ছে।
এ মুহূর্তেই সিরিয়ার সব পক্ষকে হামলা বন্ধ করে সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধানে ব্রতী হতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই মানবাধিকারকে মর্যাদা না দিলে যুদ্ধাপরাধ বন্ধ হবে না। বরং ধ্বংসের উন্মত্ততা সিরিয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রকে বিরান জনপদে পরিণত করবে।