Naya Diganta

নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বিষোদগারে বিব্রত আ’লীগ

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর থেকে বড় কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। তবে ফুরফুরে মেজাজে থাকা দলটির কয়েকজন নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বিষোদগারে জড়িয়ে পড়া এবং শীর্ষ নেতাদের নিয়ে তীর্যক মন্তব্য হাইকমান্ড অনেকটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। নেতাদের মন্তব্যগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যেও নানা আলোচনার ডালপালা মেলেছে। যদিও বিষয়গুলোকে দলটির শীর্ষ নেতারা ব্যক্তিগত ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে ঘটনাগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করছে দলটির নীতিনির্ধারকেরা।
জানা গেছে, রাজধানীর গুলিস্তানের একটি মার্কেট উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বিষোদগারে জড়িয়ে পড়েন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। দু’জনের অভিযোগের তীর দু’জনের দিকে। দু’জনেই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। সাঈদ খোকন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং শেখ তাপস বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব পদে রয়েছেন। সাঈদ খোকন অভিযোগ করেন, তাপস মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। মেয়র তাপস সাঈদ খোকনকে নিয়ে তেমন কোনো মন্তব্য না করলেও তার বক্তব্যে সম্মানহানি হয়েছে বলে দাবি করেছেন। এর জের ধরে ইতোমধ্যে সাঈদ খোকনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবিও উঠেছে। এ ঘটনা শেষমেষ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন নয়া দিগন্তকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত ও অত্যন্ত দুঃখজনক। দল বিব্রতবোধ করে এমন কোনো বক্তব্য দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে দেয়া উচিত নয়। এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বিষয়ে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন যে বক্তব্য দিয়েছেন এগুলো তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।
অন্য দিকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সম্প্রতি নির্বাচন, রাজনীতি, আওয়ামী লীগের এমপি ও নেতাদের নিয়ে একাধিকবার তীর্যক মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আবদুল কাদের মির্জা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাই। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী, ফেনীর এমপি নিজাম হাজারী ও সিপিবির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্সের কঠোর সমালোচনা করেছেন। আবদুল কাদের মির্জা বসুরহাট পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী। গত ৩১ ডিসেম্বর বসুরহাট পৌরভবন চত্বরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের কিছু চামচা নেতা আছেন, যারা বলেন অমুক নেতা, তমুক নেতার নেতৃত্বে বিএনপির দুর্গ ভেঙেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বৃহত্তর নোয়াখালীতে তিন-চারটি আসন ছাড়া বাকি আসনে আমাদের এমপিরা পালানোর দরজা খুঁজে পাবে না। তিনি আরো বলেন, ‘নোয়াখালীর মানুষজন বলে, শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এটি সত্য। কিন্তু আপনাদের জনপ্রিয়তা বাড়েনি। আপনারা প্রতিদিন ভোট কমান। টাকা দিয়ে বড় জনসভা করা, মিছিল করা কোনো ব্যাপার না।
এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নোয়াখালীতে কাদের মির্জা সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমাদের দলে এ রকম বক্তব্য বহু আগে অনেকেই দিয়েছেন। আমাদের দলে স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার সবার আছে। তার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে আবদুল কাদের মির্জা সাহেবের বক্তব্য। কিন্তু আগের বক্তব্যগুলো এত প্রকাশ হয়নি। কারণ তখন যারা বক্তব্য দিয়েছেন, তারা তো দলের সাধারণ সম্পাদকের ভাই ছিলেন না। এখন যেহেতু সাধারণ সম্পাদকের ভাই বক্তব্য দিয়েছেন, এ জন্য এগুলো প্রতিদিন প্রচার পায়। এই হচ্ছে পার্থক্য। আমাদের দলে যে মন খুলে সবাই কথা বলতে পারে সেটিরই বহিঃপ্রকাশ এটি।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে তার একটি দ্বন্দ্বের কারণে ক্ষোভের সাথে তিনি একথা বলেছেন। এটা সামগ্রিক কোনো রাজনৈতিক চিত্র নয়। তিনি বলেন, যারা যে পর্যায়ে দলে দায়িত্বশীল আছেন তাদের উচিত হচ্ছে যেকোনো বক্তব্য দেয়ার আগে তাকে আরো দায়িত্বশীলভাবে কথা বলা। কারণ তার কথায় দল বিব্রতবোধ করে এ ধরনের কথা বলা মোটেও ঠিক নয়।