০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`
আ’লীগের অধীনে নির্বাচন নয়

ইসি নিয়ে আইন ‘পচা কদু’: বিএনপি

-

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়োগে মন্ত্রিসভায় যে আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে সেটা ‘পর্বতের মুষিক প্রসব’ বা একটি ‘পচা কদু’ হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। গত সোমবার রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এতে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশন গঠনে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, অনুগত ও অপদার্থ ইসি গঠনের চলমান প্রক্রিয়াকে দলীয় স্বার্থে আইান রূপ দেয়ার সরকারি অপপ্রয়াসের ফলাফল হবে ‘যেই লাউ, সেই কদু’। এবার সম্ভবত হতে যাচ্ছে একটি পচা কদু। এটা পর্বতের মুষিকের চেয়ে বেশি কিছু প্রসব করবে না। এতদিন ধরে যেটা প্রশাসনিক কায়দায় হয়েছে এখন সেটা আইনি কায়দায় হবে। আমরা ওইজন্য বলেছি যে, ‘যেই লাউ, সেই কদু’।
‘পচা কদু’ কারণ ব্যাখ্যা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পচা কদু এজন্য বলছি যে, খসড়া আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, সরকারি চাকরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছাড়া কেউ এটার সদস্য হতে পারবেন না। অর্থাৎ সিভিল সোসাইটির কেউ অথবা কোনো শিক্ষাবিদ, কোনো আইনজ্ঞ তারা কেউ সদস্য হতে পারবেন না। দুনিয়ার কোথায় এরকম বিধিনিষেধ আছে? এই যে সারা জীবন সরকারি আদেশ মেনে চলা যাদের অভ্যাস সেই সরকারি কর্মকর্তা বা যাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার তাদেরই দিয়ে শুধু ইসি হবে এরকম একটা আইন করাÑ এটা তো সেই কদু, আমরা সেজন্য বলেছি যে, সম্ভবত পচা কদু হতে যাচ্ছে। খসড়া আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিনা ভোটের অনির্বাচিত একটি অবৈধ সরকারের কাছে জনগণ এর চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশা করে না। জনগণ মনে করে যে, একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন যোগ্য ইসি গঠনের নৈতিক যোগ্যতা ও সামর্থ্য আছে শুধু একটি নির্বাচিত সরকারের।
‘শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়’ : নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা তো এই সরকারের এবং এই সরকারি প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন করতে রাজি না। আমরা এটা বলে দিয়েছি যে, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত না। তারা গণবিরোধী এবং তাদের সাজানো প্রশাসনের অধীনে কোনো নির্বাচনে আমরা যাব না। আর তাদের করা যে নির্বাচন কমিশন অযোগ্য, অপদার্থ হিসেবে সারা দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত তাদের অধীনে তো আমরা নেই। তারা এবার যেটা করতে যাচ্ছে এটা আলটিমেটলি একই জিনিস দাঁড়াবে। আইনে যেটা উল্লেখ করা হয়েছে তাতে। দেখেন আমাদের সংবিধানে পরিষ্কার বলা আছে যে, সমস্ত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। কাজেই যেই আইন বলেন, আর যাই বলেন ফাইনালি তার অনুমোদন ছাড়া কিছুই হবে না। আর উনি এই এত দিন ধরে যা করে আসছেন তার বাইরে কিছু করবেন তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নাই। কাজেই এই সরকার, প্রশাসন এবং এই সরকার কর্তৃক কোনো ইসির অধীনে আমাদের নির্বাচনে যাওয়ার কথা তো পরে, জনগণ নির্বাচন করবে কিনা সেটা দেখা যাবে।
‘রাষ্ট্রপতির সংলাপ অর্থহীন’: নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা দেখলাম একদিকে রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতা নাই, যারা গেছেন তাদেরও কোনো ক্ষমতা নাই। এই সংলাপ অর্থহীন এটা ইতিহাস প্রমাণ করে। এই সংলাপে কিছুই অর্জিত হয়নি। বরং ক্রমান্বয়ে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এবার কী হলো? রাষ্ট্রপতি সংলাপ আহ্বান করলেন, অনেকেই গেলো, নানা প্রস্তাব করলেন তার কাছে। বিভিন্নভাবে প্রস্তাব। একজন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারেও বলেছেন। কিন্তু এর কোনো কিছু কি আমরা দেখলাম? আমরা কি জানি যে, রাষ্ট্রপতি কি প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব করেছেন যে আপনি একটা আইন করেন। অর্থাৎ সংলাপের জায়গায় সংলাপ, সিদ্ধান্তের জায়গায় সিদ্ধান্ত। উনাকে সংলাপ করতে দিয়ে মন্ত্রিসভা আইন প্রণয়নের কাজ করেছে। কাজেই এই সংলাপ, সেই কারণেই আমরা যাই না। এটার কোনো অর্থ নাই।
বাকশাল দিবস পালন করবে বিএনপি : এ দিকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের দিন ২৫ জানুয়ারি দিনটিকে এবার ‘বাকশাল দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এত দিন এই দিনটি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছে দলটি। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান নজরুল ইসলাম খান জানান। তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির সভায় আগামী ২৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার দেশব্যাপী সব মহানগর ও জেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ ফসল গণতন্ত্রকে জবাই করে একদলীয় স্বৈরশাসন জারির দিনটিকে ‘বাকশাল দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি ওই দিন সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত দলমত নির্বিশেষে গণতন্ত্রমনা বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
১৯৭৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করার বিল পাস করে।

 


আরো সংবাদ


premium cement