Naya Diganta

শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি : ভারতের অস্তিত্বের জন্য হুমকি

শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি : ভারতের অস্তিত্বের জন্য হুমকি

গত ৫ আগস্ট ছিল ভারত শাসিত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের এক বছর পূর্তি। একই দিন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অযোধ্যায় ভেঙে ফেলা মধ্যযুগের বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ শুরু করেন। গত বছর নভেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নজিরবিহীনভাবে এই মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়। সে সময় তাদেরই এক সাবেক বিচারপতিসহ অনেকে এই রায়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কারণ রায়টি প্রমাণের ভিত্তিতে হয়নি, হয়েছে একদল মানুষের বিশ্বাসের ভিত্তিতে। আদালত সে কথা স্বীকারও করেছে। এভাবে প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাসের ভিত্তিতে রায় দেয়া শুরু হলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে বলে আইনবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দেন। কাশ্মিরের মর্যাদা বাতিল ও রামমন্দির নির্মাণ- দুটোই ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নির্বাচনী অঙ্গীকার। তবে মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণ করে মোদি তার বলদর্পী হিন্দুত্ববাদী দর্শনকে জাহির করতে চেয়েছেন কি না সেই প্রশ্ন অনেকে তুলেছেন। রামমন্দির নির্মাণ অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করে তিনি সেকুলার ভারতের কবর রচনা ও হিন্দুত্ববাদভিত্তিক একটি রাষ্ট্রের সূচনা করলেন বলেও অনেকে মনে করেন।

কাশ্মিরের মর্যাদা বাতিলের দিন মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ শুরুর মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্য অনেক। এটা কি আট শ’ বছর মুসলিম শাসনে থাকতে হয়েছে বলে সৃষ্ট কোনো ধরনের হিনম্মন্যতা ঘোচানোর প্রয়াস? সেই বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে কাশ্মির প্রসঙ্গে আমার একটি অভিজ্ঞতার কথা বলছি। আমি তখন সৌদি আরবের জেদ্দায় কর্মরত। ছাত্রাবস্থা থেকেই পত্রিকায় লেখালেখি করার অভ্যাস ছিল আমার। তখন ওআইসিতে কাশ্মির একটি আলোচিত ইস্যু। আমাকে আরব নিউজের পক্ষ থেকে কাশ্মির সঙ্ঘাত নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখার জন্য অনুরোধ করা হয়। আমি তাতে সাড়া দিই। নিবন্ধে আমার সার কথা ছিল : পাকিস্তান ও ভারত যদি কাশ্মিরকে আলাদা একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় তাহলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এটি বাফার স্টেট হিসেবে থাকবে। এতে কোনো দেশের মনেই প্রাপ্তি ও বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি হবে না। কাশ্মির যেহেতু স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র হবে, তাই নিজের স্বার্থেই তাদের প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলতে হবে। জাতিসঙ্ঘের এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তখন আমার নিবন্ধটি বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কাশ্মির সঙ্কট শুরু হওয়ার পর জাতিসঙ্ঘ অনেক প্রস্তাব পাস করেছে। কিন্তু সেই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। মূলত জাতিসঙ্ঘের নীরবতাই কাশ্মির সমস্যাকে আজো জিইয়ে রেখেছে।

ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর ভারতীয় নেতাদের মধ্যে একধরনের ঔপনিবেশিক মানসিকতা তৈরি হয়। এই উপমহাদেশে অনেক রাজন্য শাসিত রাজ্য ছিল। দিল্লি সেনাবাহিনী পাঠিয়ে সেগুলো একে একে দখল করে নেয়। শুধু মুসলিম রাজ্যই নয়, এই ১৯৬১ সালেও ক্ষুদ্র রাজ্য গোয়া দখল করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। নেহরুর আমল থেকেই ভারতে এই ঔপনিবেশিক মানসিকতার রাজনীতি চলছে। সময়ের পরিক্রমায় তা এখন আরো তীব্র হয়েছে। গোয়া দখলের পর সেটি ইউনিয়ন টেরিটরিতে পরিণত করা হয়। কাশ্মিরের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নং অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মিরের রাজ্যত্ব কেড়ে নেয়া হয়। এরপর ইউনিয়ন টেরিটরিতে পরিণত করা হয়। সম্প্রতি চীনের সাথে যে সীমান্ত সঙ্ঘাত সেখানেও ভারতের একই মানসিকতা কাজ করেছে বলে জানা গেছে। কথিত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় সেনারা নাকি চীনা ভূখণ্ডে ঢুকে সেখানে দখলদারিত্ব পোক্ত করার চেষ্টা করছিল।

অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছিল। চীনারা তাতে বাধা দিলে সঙ্ঘাত বাধে। আসলে এই দখলদারিত্বের মনোভাব যেন ভারতীয় নেতাদের বৈশিষ্ট্য হয়ে গেছে। এ যেন পরাধীন থাকতে থাকতে কেউ যখন কেউ স্বাধীন হয় তখন তার মধ্যে অন্যকে পরাধীন করার প্রবণতা সৃষ্টির মতো। কিন্তু ভারতের বর্তমান নেতারা উগ্রবাদ ও ঘৃণার রাজনীতি পরিহার না করেন তাহলে দেশটির ভবিষ্যতের জন্য তা শুভ ফল বয়ে আনবে না। এর অনেক রাজ্য স্বাধীনতার জন্য মুখিয়ে আছে। সেখানে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা ছাইচাপা আগুনের মতো ধিকি ধিকি জ্বলছে। তারা সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে। বারুদের স্তূপে বসে আছেন মোদির মতো নেতারা।

ব্রিটিশরা ভারতের ক্ষমতা নিয়েছে মুসলমানদের হাত থেকে। আর নরেন্দ্র মোদিরা ক্ষমতা নিয়েছেন ব্রিটিশদের হাত থেকে। মুসলমানরা ৮০০ বছর দিল্লি শাসন করেছে। এটা ঐতিহাসিক সত্য যে বিজয়ীর ধর্ম দেখে এই উপমহাদেশের মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেনি। মুসলিম নবাব, সম্রাটদের আগেই এখানে অনেক সুফি, দরবেশ, মুসলিম বণিক এসেছেন। তাদের ইসলামিক মূল্যবোধ দেখে এই অঞ্চলের মানুষ মুসলমান হয়েছে। আবার, হিন্দু ধর্মের বর্ণপ্রথাও যে এই উপমহাদেশে ইসলামের বিস্তারে বিপুল ভূমিকা রেখেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। নি¤œবর্ণের কোনো হিন্দু তাদের ধর্মগ্রন্থের বাণী শুনলে তার কানে গরম সিসা ঢেলে দেয়া হতো। আর নামাজের সময় হলে মুসলমানরা এক কাতারে শামিল হতো। সেখানে ধনী-গরিব কোনো বিভেদ করা হতো না। সাম্যের এই সর্বোৎকৃষ্ট অনুশীলন দেখেই অচ্ছুৎ হিন্দুরা মুগ্ধ হয়ে বর্ণপ্রথা থেকে মুক্তির আকাক্সক্ষায় মুসলমান হয়েছে। বর্ণ হিন্দুরা সবসময় তাদের দমিয়ে রাখতে চেয়েছে। ফলে বর্ণ হিন্দুদের এই উৎপীড়ক চরিত্র হিন্দু ধর্মের মতেই পুরনো ও মজ্জাগত, যা আজ মোদির মতো নেতাদের আচরণে প্রকাশ পাচ্ছে।

মুসলমানরা যখন ভারত শাসন করেছে তাদের হিন্দুদের সাথে থাকতে অসুবিধা হয়নি। যদি তাই হতো তাহলে আজকের ভারতে একজন হিন্দুও খুঁজে পাওয়া যেত না। প্রতাপশালী মুসলিম সম্রাটদের দরবারে অনেক হিন্দু পণ্ডিত, জ্ঞানীগুণী সমাদর পেয়েছে, গুণীর কদর ছিল। ব্রিটিশরা এই উপমহাদেশে এসেছিল লুটপাট করার জন্য। সেই লুটপাটের সম্পদ দিয়ে তারা উন্নত হয়েছে। সারা দুনিয়াতেই তারা সে কাজ করেছে। কিন্তু মোগলরা বাইরে থেকে এসে সম্পদ লুট করে নিয়ে চলে যায়নি। এমনকি বাংলার স্বাধীন সুলতানরাও একইভাবে এসে এখানে থেকে গেছেন। এই অঞ্চলের মানুষের সাথে মিশে গেছেন। অথচ ব্রিটিশদের কাছ থেকে ক্ষমতা পাওয়ার মাত্র ৭০ বছরের মাথায় ভারতের শাসকরা নিরঙ্কুশ হিন্দু রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। যেখানে অন্য ধর্মের লোকজন দ্বিতীয় শ্রেণীর হিসেবে বিবেচিত হবে। এ জন্য আইন করা হচ্ছে। কাশ্মিরের ঘটনা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে সেখান স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ বর্ণের প্রাধান্য হবে। ফলে নি¤œবর্ণের হিন্দুরা যে মধ্যযুগের মতো অবস্থায় নিপতিত হবে না তার গ্যারান্টি কোথায়? সংখ্যাগরিষ্ঠ ভিন্ন ধর্মের মানুষের ভারতকে শত শত বছর মুসলমানদের শাসন করতে পারার মূল রহস্য ছিল তারা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন। ব্রিটিশরা এসে সেখানে ‘ডিভাইড অ্যাণ্ড রুল’ নীতি অনুসরণ করে। আর এখনকার শাসকরা সেই ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ নীতিটিকেই বিসর্জন দিতে যাচ্ছেন।

আমার মনে হয়, ভারতের স্বাধীনতা অনেকের জন্য অভিশাপ হয়েছে। এই অঞ্চলের শত কোটি মানুষের জন্য এটা যেন অভিশাপ। এসব খেটে খাওয়া মানুষ যেমন ব্রিটিশদের দ্বারা যেমন নিপীড়িত হয় তেমনি এখন ঘৃণার ফেরিওয়লাদের হাতে নিপীড়িত। এটি এখনো বিশ্বের অন্যতম গরিব অঞ্চল। এই গরিবদের ভাগ্য উন্নয়নের দিকে নজর না দিয়ে ভারত অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে নজর দিয়েছে। প্রথমে পাকিস্তানের সাথে পাল্লা দেয়। পরে ১৯৬২ সালের যুদ্ধে চীনের কাছে হেরে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে নামে। এটা করতে গিয়ে দেশটি এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক। সম্প্রতি তারা ফ্রান্স থেকে রাফাল আমদানি করেছে। কিন্তু এই জেট দিয়ে লড়াই করতে হলে প্রশিক্ষণ শেষ করতেই অন্তত তিন বছর লাগবে। এগুলো এমন কিছু নয় যে আজকে আনলাম আর কালকেই সেগুলো দিয়ে লড়াই শুরু করে দিলাম। ভারতের বর্তমান শাসকদের উগ্রবাদী রাজনীতির কারণে দেশটির সাথে প্রতিবেশী সব দেশের গণ্ডগোল চলছে। উগ্রতা দিয়ে শান্তি আনা যায় না, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে চাই ভালোবাসা। এটা হাজার বছরের ইতিহাসের শিক্ষা। হিটলার উগ্রবাদ নিয়ে টিকে থাকতে পারেননি।

তবে কাশ্মির ও মুসলমান নিয়ে হিন্দুত্ববাদী শাসকদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে আমার মনে হয়। কাশ্মির ইস্যুতে আমাদের সরকার যাই বলুক না কেন এ দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু ভিন্ন। তারা কাশ্মিরিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। কাশ্মির ইস্যুতে তুরস্ক ও ইরান পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছে। মালয়েশিয়া করেছে। মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সৌদি আরবকে আমরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে নিশ্চুপ দেখছি কিন্তু অনেকেই হয়তো জানে না পাকিস্তানের সাথে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দেশটির সামরিক বাহিনীতে পাকিস্তানের বিপুল সংখ্যক সেনা কাজ করে। ফলে সৌদি আরবের ওপর পাকিস্তানের বিপুল প্রভাব রয়েছে। ভারতে মুসলিম নিপীড়নকে ঘিরে মুসলিম বিশ্বে এক ধরনের মেরুকরণ হচ্ছে। ওআইসির বর্তমান সভাপতি তুরস্ক। মানে, ওআইসির সভাপতি হলেন প্রকারান্তরে বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের প্রেসিডেন্ট। তুরস্ক কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকার ঘোষণা দেয়ার পর সৌদি আরবের মধ্যেও নমনীয় ভাব দেখা যাচ্ছে। ভারতের ২০ কোটি মুসলমান রয়েছে। পাকিস্তানে আছে ২৫ কোটি। বাংলাদেশে আছে ১৬ কোটি। এরা কিন্তু বিজেপির হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। তাই আমি বলছি, ওআইসি সিদ্ধান্ত নিলে ভারতকে মুসলিম নির্যাতনের জন্য বড় মূল্য গুনতে হবে। আমরা আমেরিকাকে পরাশক্তি বলি। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ওই পরাশক্তির চেয়ে কোনো অংশে কম বলে আমি মনে করি না।

আমি হিসাব করে দেখেছি, উপমহাদেশের সব রাষ্ট্র আমার চেয়ে বয়সে ছোট। আমার জন্ম ব্রিটিশ ভারতে। এরপর পাকিস্তানের নাগরিক ছিলাম। এখন স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রায় পঞ্চাশ বছর পার করার পথে। শুরু থেকেই দেখছি যে এসব দেশকে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বগুলো খেলছে। জাতিসঙ্ঘ তো কার্যকর কোনো সংস্থা নয়, অনেক আগেই এর আত্মিক মৃত্যু ঘটেছে। সেখানে গিয়ে কারো পক্ষে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। পশ্চিমাদের বস্তুবাদী মূল্যবোধ, বাজারভিত্তিক মূল্যবোধ, নৈর্ব্যক্তিক সম্পর্ক, স্বার্থপরতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সম্পর্ক এবং পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়- এগুলো পশ্চিমা সমাজের ভিত্তি। তারা অস্ত্র ছাড়া আর কিছু চেনে না। আমরা সাধারণ মানুষ কি এখন কোনো আমেরিকান পণ্য ব্যবহার করি, ব্রিটিশ পণ্য ব্যবহার করি? ফ্রান্সের বা জাপানের পণ্য ব্যবহার বাজারে পাওয়া গেলেও নামকাওয়াস্তে। তারা বিভক্তি সৃষ্টি করে বিশ্বকে শাসন করছে। এভাবে পরোক্ষভাবে ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম রেখেছে তারা।

আমাদের মতো গরিব দেশগুলো যেন কখনো মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, যেন নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে ব্যস্ত থাকে, আর তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেনে সেটিই পশ্চিমা বিশ্বের লক্ষ্য। পশ্চিমারা আমাদের সাহায্য দেয়, এতে আমরা খুশি হই। কিন্তু তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার পেছনে যে ব্যয় করি তা ওই সাহায্যের কত অংশ তা কি কখনো হিসাব করেছি? প্রকৃত দামের চেয়ে শত গুণ বাড়িয়ে অস্ত্র রফতানি করে তারা। এই অস্ত্র যেমন আমাদের মধ্যে হানাহানি জিইয়ে রেখেছে তেমনি আমাদের সম্পদের ওপর পরোক্ষভাবে পশ্চিমাদের দখলদারিত্ব কায়েম করেছে।

তাই আমি বলব, অস্ত্রের শক্তি দেখিয়ে ভারত কোনো প্রতিবেশীকে জয় করতে পারবে না। এই বিপজ্জনক পথ থেকে ফিরে এসে মোদির উচিত হবে ক্ষুদ্র গোষ্ঠী স্বার্থের বদলে মানবজাতির স্বার্থে কাজ করা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই মানুষ। ঘৃণার রাজনীতি বন্ধ করে সাধারণ মানুষের কল্যাণের দিকে মনোযোগী হতে হবে, ভালোবাসার রাজনীতি করতে হবে তাকে।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড; সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, জেদ্দা

[email protected]