৩০ নভেম্বর ২০২০

টঙ্গীতে দুই সহোদর তরুণী গণধর্ষণের শিকার, আটক ২

-

টঙ্গীতে দুই সহোদর তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। বখাটে যুবকরা দুই বোনকে জোরপূর্বক দেশীয় মদের সাথে যৌন উত্তেজনা ট্যাবলেট খাইয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের শিকার বড় বোনের বয়স ১৮ ও ছোট বোনের বয়স ১৭ বছর। তাদের বাসা রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় এবং গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায়।
গত মঙ্গলবার রাতে টঙ্গী হাজী মাজার বস্তির পিংকি গার্মেন্টের পেছনের খালি জায়গায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তাদেরকে টঙ্গী বাজার তুরাগ নদীর পাড় থেকে জোরপূর্বক নৌকায় তুলে নিয়ে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় একজন অজ্ঞাত পরিচয় নারীসহ ছয়জনের নামে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে। র্যাব-১ এর সদস্যরা গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক দলের দুই সদস্য শরিফ ও মোমেনকে গ্রেফতার করেছে। তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন জানান, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের স্থানীয় (টঙ্গী) প্রতিনিধি জয়নালের সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই দুই বোন বাড্ডা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার (জয়নালের) সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে। তারা টঙ্গী বাজার এসে জয়নালকে ফোন দিলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পায়। এ সময় তারা টঙ্গী বাজার কাচারি খেয়াঘাটের কাছে অপেক্ষা করছিল। এ সময় একজন নারীসহ ছয় যুবক এসে তাদেরকে চড়থাপ্পড় দিয়ে জোরপূর্বক নৌকায় তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদেরকে ইজতেমা মাঠের পূর্বে হাজী মাজার বস্তির পিংকি গার্মেন্ট কারখানার পেছনের খোলা জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করে। তারা দুই বোনই ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে তারা পুলিশকে জানায়।
তবে এটি গণধর্ষণের ঘটনা নয় এমন দাবি করে ওসি (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন বলেন, নাঈম নামের এক যুবক বড় বোনকে ও রাসেল নামের অপর যুবক ছোট বোনকে পৃথকভাবে একই সাথে ধর্ষণ করেছে। বাকি যুবকরা ও অজ্ঞাত নারী ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে বলে তিনি দুই বোনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান। এ ঘটনায় অজ্ঞাত এক মহিলাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ এবং আরো দু’জনকে অজ্ঞাত আসামি করে জিএমপির টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদি হয়েছেন ধর্ষণের শিকার বড় বোন। ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে জয়নাল নামের ওই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১ জানায়, ধর্ষণের সংবাদ পেয়ে র্যাব-১ এর এএসপি কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজীর মাজার বস্তিসংলগ্ন কবরস্থানের পাশে অভিযান চালিয়ে শরিফ (২২) ও মমিন মিয়াকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। শরিফ হাজীর মাজার বস্তির বাবুল মিয়ার ছেলে এবং মমিন মিয়া বস্তির সান্দারপাড়ার নাজিম মিয়ার ছেলে। গ্রেফতারকৃত শরিফ ও মমিন র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা ও পলাতক সহযোগী নাঈম, রাসেল, আবুল হোসেন ও আরাফাত রাত ৯টায় দুই কিশোরী বোনকে মিলে ধর্ষণ করে। এর আগে আসামি নাঈম ও রাসেলের নেতৃত্বে তারা ওই দুই বোনকে টঙ্গী বাজার তুরাগ নদীর পাড় থেকে চড়থাপ্পড় মেরে জোরপূর্বক নৌকায় তুলে টঙ্গী ইজতেমা মাঠের নির্জন জায়গায় নিয়ে আসে। তারা প্রথমে জোরপূর্বক দুই বোনকে দেশীয় চোলাই মদ এবং মদের সাথে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খাওয়ায়। এতে দুই ভারসাম্য হারালে সবাই মিয়ে ধর্ষণ করে। এ পর্যায়ে দুই বোনের চিৎকারে স্থানীয়রা জড়ো হলে ধর্ষণকারীরা পালিয়ে যায়। ওই দুই বোনের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা ধর্ষণকারীরা ছিনিয়ে নেয় বলেও জানায় র্যাব।


আরো সংবাদ