Naya Diganta

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রবেশ পথে যানজট : দুর্ভোগে লাখো মানুষ

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রবেশ মুখের রাস্তা খুবই সরু হওয়ায় নিত্যদিনের যানজটে দুর্ভোগ পোহাতে হয় লাখো মানুষের। বিশেষ করে অফিস টাইমে যানজটের মাত্রা বেড়ে নাকাল দশা হয়। যানজটের যন্ত্রণা থেকে বাদ যায় না স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা) নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রবেশ মুখ সরু হয়ে আছে মূলত জেলা পরিষদের ডাক বাংলো এবং চাষাঢ়া-হাজীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কারণে। এ কারণে সড়কটির ওই অংশে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী ও ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলার কারণে সৃষ্টি হয় যানজট। এটা পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে লাখ লাখ মানুষ। এ ছাড়া এখানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ ও মহিলা কলেজ। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন কেউ না কেউ দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীর পণ্যভর্তি গাড়িগুলো যাতায়াত করে এখান দিয়ে।
ভুক্তভোগী অনেকে জানান, এ দু’টি স্থাপনার কিছু অংশ ভেঙে দিয়ে রাস্তাটি প্রশ^স্ত করলে যানজটের এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেন নগরবাসী। রাস্তা প্রশ^স্ত করতে নগরবাসীর এ দাবি দীর্ঘ দিনের। তবে সম্প্রতি আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য চাষাঢ়া-হাজীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি দু’টি ভেঙে দেয়া হয়েছে।
আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য চাষাঢ়া-হাজীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ভেঙে ফেলায় সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের আগে রাস্তা প্রশ^স্ত করার জন্য কিছু জমি ছেড়ে দিতে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি। গত বৃহস্পতিবার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুলিশ সুপারের কাছে আবেদনপত্রটি জমা দেন।
কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিক বলেন, চাষাঢ়ায় এ দু’টি স্থাপনার কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের নারায়ণগঞ্জের প্রবেশ মুখটি সরু হয়ে গেছে। ফলে রাস্তার এ অংশেই যানজটের সৃষ্টি হয়। অতীতে নগরে যানবাহনের চাপ কম থাকায় তখন কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতিনিয়ত রাস্তার এ অংশে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে যানজট ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরময়। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ হচ্ছে এ দু’টি স্থাপনার আংশিক ভেঙে দিয়ে রাস্তাটি প্রশ^স্ত করা।
নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, রাস্তার এ অংশের পাশেই রয়েছে একটি ক্লিনিক ও বেসরকারি একটি ইংলিশ মাধ্যমের স্কুল। তা ছাড়া চাষাঢ়া ডাক বাংলোর পাশের রাস্তা দিয়েই সরকারি তোলারাম কলেজে যাওয়ার পথ। কিন্তু যানজটের কারণে স্কুল-কলেজ এবং ক্লিনিকে আসতে যেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থী এবং রোগীদের। আর যানজটে পড়ে নগরবাসীর মূল্যবান কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে। তাই সঙ্গত কারণেই আমরা দাবি জানিয়েছি যেন পুলিশ ফাঁড়ি ও ডাক বাংলোর কিছু অংশ ভেঙে দিয়ে রাস্তাটি প্রশ^স্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়।
নাগরিক কমিটির এ দুই নেতা আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে সার্কিট হাউজ নির্মাণের পর জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর প্রয়োজন কমে এসেছে। তাই ডাক বাংলোর কিছু অংশ ভেঙে দিয়ে রাস্তা প্রশ^স্ত করলে কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। বরং এতে জনগণের কল্যাণ হবে। জনগণের ভোগান্তি লাঘব হবে। যেহেতু এখন বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পুলিশ ফাঁড়ি দু’টি ভেঙে দেয়া হয়েছে তাই জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কিছু অংশ প্রশ^স্ত করার জন্য জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর কিছু অংশ ভেঙে দেয়া এখন সময়ের দাবি।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি দু’টি ভেঙে ফেলা হয়েছে আধুনিক ফাঁড়ি ভবন নির্মাণের জন্য। এটা সরকারের প্রকল্প। নাগরিক কমিটির আবেদন পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ জন্য আবেদন করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, জনগণের সুবিধার্থে যদি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাতে পরিষদের কোনো আপত্তি নেই। তিনিও স্বীকার করেন সড়কটির ওই অংশ প্রশ^স্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, যেহেতু রাস্তাটি আমার নির্বাচনী এলাকায় তাই এটিকে প্রশ^স্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদেক্ষপ নেয়ার দায়িত্ব আমার ওপরও বর্তায়। যেহেতু এখন পুলিশ ফাঁড়ি দু’টি ভেঙে দেয়া হয়েছে তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আমি ডিও লেটার দেবো যাতে রাস্তাটি প্রশ^স্ত করতে ফাঁড়ি ও ডাক বাংলোর সামনের কিছু জমি ছেড়ে দেয়া হয়।