Naya Diganta

আলমডাঙ্গার ১৩টি ইউনিয়নে আ.লীগ ৫, বিদ্রোহী ৫ ও স্বতন্ত্র ৩ প্রার্থী জয়ী

বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া রোববার চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে বেসরকারিভাবে পাঁচটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও তিনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু সাঈদ পিণ্টু, ডাউকী ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রাথী তরিকুল ইসলাম, জামজামি ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম, খাদিমপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোজাহেদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস, গাংনী ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুন্সি এমদাদুল হক, হারদী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে আশিকুজ্জামান ওল্টু, চিৎলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চশমা প্রতীকে হাসানুজ্জামান সরোয়ার, জেহালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকে শিলন আলী, বেলগাছি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে মাহমুদুল হাসান চঞ্চল, খাসকররা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে তাফসির আহমেদ লাল, ভাঙবাড়িয়া ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহানুর রহমান সোহান, বাড়াদি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকে তোবারক হোসেন, কালিদাসপুর ইউনিয়নে চশমা প্রতীকে আশাদুল হক মিকা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার ও পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। এসময় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি আলম নুর, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. মুন্না বিশ্বাসসহ জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিটি কেন্দ্রর ফলাফল আসতে শুরু করে। পরে আলমডাঙ্গার ১৩টি ইউনিয়নের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এতে বেসরকারিভাবে কুমারী ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু সাঈদ পিণ্টু ৪ হাজার ৬১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সেলিম রেজা তপন ৪ হাজার ২৬৪ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, আনারস প্রতীকে মোজাম্মেল হক পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬১ ভোট ও মোটরসাইকেল প্রতীকে বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন ৯৯৪ ভোট।

ডাউকী ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রাথী তরিকুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের নাজমুল হুসাইন ৩ হাজার ৪২২ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, মোটরসাইকেল প্রতীকের শফিউল আলম পেয়েছেন ২ হাজার ৪১৯ ভোট ও আনারস প্রতীকে কাউসার আহমেদ পেয়েছেন ৫৯১ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে আব্দুল মজিদ পেয়েছেন ৭৫ ভোট ও চশমা প্রতীকে সোহানুর রহমান পেয়েছেন ৫৪ ভোট।

জামজামি ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের নজরুল ইসলাম ৬ হাজার ৮০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের জয়নাল আবেদীন চৌধুরী বাবলু ৫ হাজার ২০০ ভোট পেয়েছেন।

খাদিমপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের মোজাহেদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস ৮ হাজার ৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকে আব্দুল হালিম ম-ল ৩ হাজার ৪৯১ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, হাতপাখা প্রতীকে মিজানুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ ভোট।
গাংনী ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের মুন্সি এমদাদুল হক ৫ হাজার ৪৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের ইফতেখার রাসুল ৩ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, চশমা প্রতীকে আজহারুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ১৩ ভোট, মোটরসাইকেল প্রতীকে বজলুর রহমান পেয়েছেন ২ হাজার ৮০৫ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে নাজিম উদ্দীন পেয়েছেন ৩১৯ ভোট এবং আনারস প্রতীকে সাইফুল ইসলাম মামুন পেয়েছেন ২৪ ভোট।

ভাঙবাড়িয়া ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহানুর রহমান সোহান ৪ হাজার ৩৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের নাহিদ হাসনাত ৪ হাজার ১৭৪ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, মোটরসাইকেল প্রতীকে সানোয়ার হোসেন লাড্ডু পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৮৯ ভোট, চশমা প্রতীকে মনিরুদ্দীন পেয়েছেন ২ হাজার ৯৮০, আনারস প্রতীকে কাউসার আহমেদ বাবলু পেয়েছেন ১ হাজার ৯৫২ ভোট ও হাতপাখা প্রতীকে বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন ৭৪ ভোট।

হারদী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আশিকুজ্জামান ওল্টু। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চশমা প্রতীকে শাহজাহান আলী ৬ হাজার ৪০০ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, নৌকা প্রতীকে নূরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৫৪ ভোট ও হাতপাখা প্রতীকে আমিনুল হক পেয়েছেন ৪২৮ ভোট।

বাড়াদি ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তোবারক হোসেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চশমা প্রতীকে উজ্জ্বল হোসেন ৩ হাজার ৬৬৮ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, নৌকা প্রতীকে আশাবুল হক পেয়েছেন ৩ হাজার ৫২ ভোট, আনারস প্রতীকে মাসুদ পারভেজ পেয়েছেন ১ হাজার ৬৯৪ ও ঘোড়া প্রতীকে আশিকুর রহমান পেয়েছেন ৫৭০ ভোট।

চিৎলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চশমা প্রতীকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ১০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন হাসানুজ্জামান সরোয়ার। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকে রবিউল ইসলাম ৪ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, মোটরসাইকেল প্রতীকে আব্দুস সালাম বিপ্লব পেয়েছেন ২ হাজার ৫৬৯ ভোট, নৌকা প্রতীকে আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮২৭ ভোট, অটোরিক্সা প্রতীকে উজির আলী পেয়েছেন ৪২ ভোট ও হাতপাখা প্রতীকে ইমদাদুল হক পেয়েছেন ৬৬৪ ভোট।

জেহালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকে প্রতীকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন শিলন আলী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকে হাসানুজ্জামান হাসান ৬ হাজার ২৩ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, হাতপাখা প্রতীকে ইদ্রীস আলী পেয়েছেন ৬৯০ ভোট ও আনারস প্রতীকে মশিউর রহমান পেয়েছেন ৩৬৩ ভোট।

কালিদাসপুর ইউনিয়নে চশমা প্রতীকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আশাদুল হক মিকা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকে আসাদুল হক ২ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, নৌকা প্রতীকে জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ২ হাজার ৩২৩ ভোট, আনারস প্রতীকে আব্দুল্লাহ আল হুসাইন দীপক ২ হাজার ১৯৩ ভোট, অটোরিক্সা প্রতীকে এরশাদ আলী পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮৮ ভোট, টেবিল ফ্যান প্রতীকে কেএম রাসেল পারভেজ ১ হাজার ৪১৫ ও ঘোড়া প্রতীকে আহসান উল্লাহ পেয়েছেন ৬৮০ ভোট।
বেলগাছি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মাহমুদুল হাসান চঞ্চল। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকে আমিরুল ইসলাম মণ্টু ৩ হাজার ৪৮ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, ঘোড়া প্রতীকে গোলাম সরোয়ার শামিম পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২ ভোট ও নৌকা প্রতীকে সমীর কুমার দে পেয়েছেন ১০২ ভোট।

খাসকররা ইউনিয়নে আনারস প্রতীকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৯৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তাফসির আহমেদ লাল। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নু ৬ হাজার ৭২১ ভোট পেয়েছেন। তাছাড়া, হাতপাখা প্রতীকে আব্বাস উদ্দীন পেয়েছেন ৪১৩ ভোট।

এদিকে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য নির্বাচনে পর্যাপ্ত সংখ্যক অফিসার, ফোর্স নিয়োগ করা হয়। ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি ২৬টি মোবাইল টিম, ১৩টি স্ট্রাইকিং টিম, দাঙ্গা দমন মোকাবিলায় রায়ট গিয়ারে ২ প্লাটুন এপিবিএন টিম, ২ প্লাটুন র‌্যাবের টিম, ৩ প্লাটুন বিজিবি টিম, সাদা পোশাকে ডিএসবি নজরদারি, ডিবির ঈগল-১ টিম এবং অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোবকাপ টিম উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। এছাড়াও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন।