Naya Diganta

ইলিয়াসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

অভিযুক্ত ইলিয়াস

বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা পচাকোড়ালিয়া গ্রামের স্থানীয় প্রভাবশালী ইলিয়াসের ভয়ে দিন কাটছে অনেকের। সাধারণ মানুষের রাত কাটে তার ভয়ে আর আগুন আতঙ্কে। কেউ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই মারধরসহ ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এমন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে স্থানীয়রা মুখ খুললেন তার বিরুদ্ধে।

ইলিয়াস উপজেলার জালিয়াঘাটা গ্রামের মৃত মোক্তার আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদকের ব্যবসা, মানুষের বাড়িতে চুরি-ডাকাতি, মেয়েদের উত্যক্ত করা, সুদের ব্যবসা, সাধারণ মানুষকে মারধরসহ রাতের আঁধারে ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। আবার অনেকে অভিযোগ করে বলেন, সুদের টাকা দিতে দেরি হলে ঘরের নারীদের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসে সে। কুপ্রস্তাবে বাধা দিলে মারধর ও রাতের আঁধারে ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় ইলিয়াস ও তার সহযোগীদের চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিভিন্ন সময় এলাকার নারীদের দেয়া হয় কুপ্রস্তাব, তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে বিভিন্ন সময় হয়রানী করা হয়। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে বিভিন্ন হয়রানীসহ রাতের আঁধারে ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ওই এলাকার মানুষ তার হায়রানি থেকে মুক্তি পেতে চায়।

ওই গ্রামের ইলিয়াসের লালসার শিকার দেলোয়ারের স্ত্রী তাজেনুর বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী চাকরির জন্য এলাকার বাইরে থাকার সুযোগে ইলিয়াস আমায় নানা কুপ্রস্তাব দেয় আর রাতে এসে দরজা খুলতে বলে। আমি চিৎকারে আশপাশের মানুষ দৌড়ে এলে সে পালিয়ে যায়। পরে এরকম অন্য আরেক একদিন সে আসলে আমি চিৎকার করলে আমার ভাসুর ও ভাগিনা ছুটে আসে। পরে ইলিয়াস তাদের বেদম মারধর করে। এরপর আমি থানায় মামলা করলে সে এক মাস হাজতেও থাকে। এভাবে দিনের পর দিন আমার সাথে এরকম করার কারণে আমার স্বামী আমায় তালাক দিয়েছে। আমার তালাকেই সে ক্ষান্ত হয়নি, আমার ছোট ছেলের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থানায় মামলা করে। সে এখন দিনের পর দিন বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে।’

এ ব্যাপারে দেলোয়ার বলেন, ‘ইলিয়াস তিন মাস আগে আমার রিকশা পুড়িয়েছে, আবার আমার গ্যারেজে আগুন দেয়। আমি থানায় মামলা করতে গেলে থানায় মামলা নেয়নি।’

ওই বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, ‘ইলিয়াস একজন নিকর্মা মানুষ। তার কোনো কাজ নেই, ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু এলাকায় তার একটা দাপট আছে। একটু খোঁজ নিলেই বুঝতে পারবেন। তার বিরুদ্ধে নারী সম্পর্কিত অভিযোগ আছে। দেলোয়ারের স্ত্রীকে সে উত্যাক্ত করে। এ নিয়ে তাদের মাঝে বিরোধ চলছে অনেক বছর ধরে। ইলিয়াস বিভিন্ন সময় বাজারে আগুন, বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে ঘটিয়েছে।’

ফকিরহাট বাজার কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, ‘তার বিরুদ্ধে কিছু বললেই হয়তো রাতে আমার ঘরে আগুন দিয়ে দিবে। ইলিয়াস খুবই ভয়ানক লোক। সে পারে না এমন কোনো কাজ নেই। কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু বললেই তার ঘরে আগুন দেয়। তার ভয়ে ও যড়যন্ত্রের কারণে অনেকেই এলাকা ছেড়েছে।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইলিয়াসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নিরিহ মানুষ। আমার বাবার কিছু জমি আছে তা লুটপাট করার জন্যই দেলোয়ার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাহবুদ্দিন বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। এখানে আসার পরে কেউ এরকম অভিযোগ নিয়ে আসেনি। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি।’