২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া পলিটেকনিক ছাত্রের সন্ধান মিলছে না

-

ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক ছাত্রকে তার মেস থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার চার দিন পরও ওই ছাত্রের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফরিদপুরের র‌্যাব, পুলিশ বা ডিবি কেউই ওই ছাত্রকে তুলে নেয়ার কথা স্বীকার করছে না। বিষয়টি নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ওই পরিবারের। এ ঘটনায় নিখোঁজ ওই ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
নিখোঁজ ওই কলেজছাত্রের নাম সোহান শরীফ (২০)। তিনি সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মোসলেম শরীফের ছোট ছেলে। সোহান ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। শহরের বায়তুল আমান এলাকায় চোকদার ভিলা নামে একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার মেসে থাকতেন তিনি। ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অদূরে অবস্থিত এ চোকদার ভিলায় প্রায় ৭০ জনের মতো ছাত্র রয়েছে। তারা সবাই পলিটেকনিকের ছাত্র। ওই মেসে থেকেই পড়াশোনা করেন।
সোহানের বড় ভাই সোহাগ শরীফ বলেন, শনিবার বিকেলে তাদের মেসের সামনে দুটি মাইক্রোবাস ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। এর একটি সাদা ও একটি কালো রঙের নোহা গাড়ি ছিল। এ সময় দাড়ি ও টুপি পরিহিত এক ব্যক্তি সিট ভাড়া নেয়ার জন্য খোঁজ করতে মেসে আসে। ওই লোকটি চলে যাওয়ার পরপরই তিনজন লোক সাদা পোশাকে ওই মেসের তৃতীয় তলায় এসে সোহানকে দেখে জামাকাপড় পরে তাদের সাথে যেতে বলে।
সোহাগ বলেন, ওরা সম্ভবত সোহানকে আগে থেকেই চিনত। তাকে দেখেই জামাকাপড় পরে নিয়ে তাদের সাথে যেতে বলে। এরপর ওই তিন ব্যক্তি সোহানকে নামিয়ে নিয়ে কালো রঙের গাড়িতে করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা সোহানের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়।
অবশ্য তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে সোহান তাদের কাছে জানতে চান আপনারা কারা? প্রত্যুত্তরে তারা বলে, বুঝতে পারছ না আমরা কারা? হাবভাবে তাদের ডিবি বলেই মনে হচ্ছিল। তবে তাদের পরনে ডিবির কোনো জ্যাকেট ছিল না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চোকদার মেসের এক ছাত্র এ কথা জানায়।
সোহান কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয় উল্লেখ করে তার ভাই সোহাগ বলেন, সে ফেসবুকে মাঝে মধ্যে ইসলামি পোস্ট দিত। এ জন্যই তাকে ধরে নিয়ে গেছে কি না বুঝতে পারছি না। আমরা ফরিদপুরের ডিবি পুলিশের অফিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবার কাছেই গেছি। কেউই এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানাতে পারেনি। এরপরই কোতোয়ালি থানায় এ ব্যাপারে একটি জিডি করা হয়।
ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ওসি এ এফ এম নাসিম জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কারা সোহানকে তুলে নিয়ে গেছে এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme