Naya Diganta

স্বপ্নহীন নির্মম বাস্তবতা এবং আত্মার মৃত্যু

ঘটনার দিন কাকডাকা ভোরে কিছু বাজার-সদাইয়ের জন্য বের হয়েছিলাম। বাসা থেকে বের হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে হেঁটে ধানমন্ডির একটি অস্থায়ী কাঁচাবাজারে পৌঁছি। সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যেই বাজারটি সরগরম হয়ে ওঠে এবং ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে আবার ভেঙে যায়। ধানমন্ডির যে সড়কটিতে আলোচিত জাহাজবাড়িটি ছিল অথবা যে সড়কের মাথায় কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবস্থিত এর উল্টো পাশে রোজ সকালে কাঁচাবাজারটির দেখা মেলে। তরিতরকারি, মাছ এবং দু-একটি গোশতের দোকান নিয়ে বাজারটি বসে। আয়োজন সীমিত। কিন্তু ধানমন্ডির বাসিন্দাদের রুচি-প্রয়োজন এবং সামর্থ্যরে সাথে সামঞ্জস্য রেখে, দোকানিরা বাজারের সেরা পণ্যগুলো অতি সহজে উঁচু মূল্যে বিক্রির জন্য এখানে ভিড় করেন। অন্য দিকে নতুন ও পুরনো টাকাওয়ালারা এখানে এসে নিজেদের পছন্দের পণ্যগুলো কিনে একধরনের তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে তুলতে বাড়ি ফেরেন।

আমি ধানমন্ডি এলাকার পুরোনো বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও বাজারটি সম্পর্কে জানতাম না। এক বন্ধু তার বাসায় একদিন নিমন্ত্রণ করেছিলেন এবং আমার মুখে তরতাজা মাছের তরকারিগুলোর বাহারি বিশেষণ শোনার পর তিনি বেশ গর্ব করে জানালেন যে, ওমুক বাজার থেকে তিনি তরতাজা মাছ কিনে থাকেন। করোনার মধ্যে আমি একদিন সকালে সেই বাজারে গিয়ে দেখলাম, পণ্যের চেয়ে ক্রেতার সংখ্যা বেশি। সব কিছু টাটকা এবং সেরা বটে; তবে মধ্যবিত্তের মনমানসিকতা নিয়ে ওসব পণ্যের দরদাম করা সেই বাজারের ভব্যতার মধ্যে পড়ে না। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বেশির ভাগই পূর্বপরিচিত এবং তারা দরদাম করেন না। ক্রেতারা ব্যাগ ধরেন এবং বিক্রেতারা পণ্য বোঝাই করার পর কড়কড়ে নোটগুলো গুণে নেন। আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে বাজারের দৃশ্য দেখার পর কেমন যেন হতোদ্যম হয়ে পড়লাম। ফলে সেখান থেকে কিছু না কিনেই আমার প্রিয় মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারের দিকে রওনা দিলাম।

উল্লিখিত ঘটনার প্রায় দুই বছর পর আমি সেই বাজারে কেন গেলাম এবং কী দেখলাম সে কথা না বললে আজকের শিরোনাম প্রসঙ্গে আলোচনা শুরু করা দুরূহ হয়ে পড়বে। গত দুই বছরে আমার ক্রয়ক্ষমতা ক্রমহ্রাসমান হারে কমেছে। আগে বাজারে গিয়ে এত মাছ-গোশত একসাথে কিনতাম, যা শেষ করতে কমবেশি দুই-তিন মাস লেগে যেত। আর এসব নিয়ে গিন্নির বিরক্তমিশ্রিত ভর্ৎসনা আমার দৈনন্দিন চা-নাশতার মতো অপরিহার্য ছিল। আমার ক্রয়ক্ষমতা এবং ক্রয়ের ইচ্ছার লাগাম টানার জন্য স্ত্রী মহোদয়া মাঝে মধ্যে আমার সাথে বাজারে যেতেন। এর বাইরে নেহাত প্রয়োজন না হলে বাজারে যাওয়ার কথা মুখে আনতেন না। কারণ তিনি জানতেন যে, আমি বাজারে গেলেই একগাদা মাছ-গোশত নিয়ে আসব যার একটি অংশ নির্ঘাত পচা-গলা হবে এবং অপর অংশ মানসম্পন্ন হলেও দামের ক্ষেত্রে ঠকে যাবো। তার অভিযোগ আমাকে কেউ ‘স্যার’ বলে সালাম দিলে আমার নাকি মাথা ঠিক থাকে না! দাতা হাতেম তাইয়ের মতো ম্যানিব্যাগ খুলে দেই এবং অচল মালগুলো ব্যাগ ভর্তি করে নিয়ে আসি।

আমার ৩৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের চিরায়ত বাৎচিত ইদানীংকালে চলছে না। গত ছয় সাত মাস হলো কোনো কাঁচাবাজারে যাইনি। যে গিন্নি শাসন করেও আমার বাজারে গমন বন্ধ করতে পারেননি সেই তিনি গত দুই মাস ধরে বারবার বলার পরও বাজারে যাওয়ার হিম্মত পাচ্ছি না। কিন্তু কয়েক দিন আগে বাসায় মেহমান হিসেবে একমাত্র জামাতার আগমন উপলক্ষে বাজারে যেতে বাধ্য হলাম। সকালে হাঁটতে গিয়ে জীবনে প্রথমবারের মতো টের পেলাম যে, আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং ইন্দ্রিয়গুলোর সক্ষমতা আগের মতো নেই। হাঁটছি বটে কিন্তু আগে যেভাবে ছন্দময় গতিতে হাঁটতে পারতাম ওমনটি পারছি না। নিজের অজান্তে পদক্ষেপগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আমার একদম পাশ দিয়ে রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলে যাচ্ছে; কিন্তু আমি কেবল তখনই টের পাচ্ছি যখন দেখছি এগুলো আমার গা ঘেঁষে অতিক্রম করছে এবং একটু এদিক-ওদিক হলেই আমার শরীরের সাথে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। নিজের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের এহেন দুর্বলতা দেখার পর ভয়ে আমার শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল। রাস্তা ছেড়ে ফুটপাথ ধরে অতি সতর্কতার সাথে বাজারের দিকে হাঁটতে আরম্ভ করলাম।

বাজারে পৌঁছে দেখি, ভালো ভালো পণ্যে পুরো বাজার ভরপুর; কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। যারা এসেছেন তারা প্রায় সবাই দরকষাকষি করছেন। বিক্রেতারা মরিয়া হয়ে অনুনয়-বিনয় করে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করছেন এবং অন্যান্য সাধারণ বাজারের দরদামের মতোই বিক্রিবাট্টা হচ্ছে। আমি সামর্থ্য অনুাযী কয়েক পদের মাছ কিনলাম এবং বাসায় ফেরার জন্য রিকশা খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, কয়েকটি রিকশা দাঁড়িয়ে আছে এবং রিকশাওয়ালাদের সবাই উদাস হয়ে কী যেন ভাবছে। আমি সবচেয়ে উদাসী এবং হতাশাগ্রস্ত বলে যে রিকশাওয়ালাকে চিহ্নিত করলাম তার রিকশার সামনে গিয়ে বললাম, ‘নিউ মার্কেট ঢাকা কলেজের পেছনে নায়েম রোড যাবেন কি না। তিনি নির্লিপ্তভাবে বললেন- ওঠেন।’ তবে ক্ষণেকের জন্য আমার মুখের দিকে তাকালেন কি না সন্দেহ।

রিকশায় ওঠার পর টের পেলাম যে, রিকশাওয়ালা আমার গন্তব্যের কথা শোনেননি। তিনি উল্টো পথে চালাতে লাগলেন। আমি তাকে পুনরায় গন্তব্যের কথা বলার পর তিনি ধীরেসুস্থে চালাতে চালাতে আমার বাড়ির সামনে রিকশা থামালেন। আমি তাকে ১০০ টাকার একটি নোট দিলাম। তিনি আমার দিকে না তাকিয়েই জবাব দিলেন, তার কাছে ভাঙতি নেই। বললাম, ভাঙতি লাগবে না। পুরোটাই রাখেন। তিনি কোনো কথা বললেন না এবং আমার দিকে এবারও তাকালেন না। একটু অবাক হলাম। কারণ কোনো রিকশাওলাকে দ্বিগুণ ভাড়া দেয়া হলে তারা খুশি হন। কেউ কেউ কৃতজ্ঞতায় হেসে দেন- আবার কেউবা ধন্যবাদ জানান। কিন্তু সে দিনের রিকশাওয়ালা ওসব কিছুই করলেন না- বরং টাকাটি তিনি যখন পকেটে রাখতে যাবেন ঠিক তখন তার মোবাইলে রিং বেজে উঠল।

আমি মালসামানা নামাতে নামাতে শুনলাম- রিকশাওয়ালা মহাবিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করছেন- এই সময়ে ফোন করছ কেন? কে মরছে? আমি কী করব? আমি আসতে পারব না- আমার ভাড়া নেই। আমি বাড়ির মধ্যে ঢুকতে গিয়ে তার কথাগুলো শুনলাম এবং তার অদ্ভুত চরিত্র-কর্কশ কথাবার্তা এবং দুর্বল জীর্ণশীর্ণ দেহের তেজ নিয়ে পরে চিন্তাভাবনা করব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি যখন লিফটে উঠতে যাবো তখন কৌত‚হলবশত পেছনে ফিরে রিকশাওলাকে দেখার চেষ্টা করলাম। দেখলাম, তিনি গেটের সামনে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে অঝোরে কাঁদছেন এবং ক্ষণে ক্ষণে চোখের পানি মুছছেন। দৃশ্যটি দেখার পর আমার অন্তর হু হু করে উঠল। দারোয়ানকে বললাম, রিকশাওয়ালাকে ডেকে আনার জন্য। তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় মাথা নিচু করে এলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কে মারা গেছে? তিনি বললেন, আমার মা। আমি পকেট থেকে পাঁচ শ’ টাকা বের করে দিলাম। তিনি মাথা নিচু করে গ্রহণ করলেন এবং কোনো কথা না বলে কাঁদতে কাঁদতে রিকশার কাছে ফিরে গেলেন।

বাসায় ফেরার পর পুরো ঘটনা অর্থাৎ বাসা থেকে বাজারে গমন এবং ফিরে আসার সময় যা হলো তা আমাকে রীতিমতো উতলা করে তুলল। আমি প্রথমে রিকশাওয়ালার কথা ভাবলাম। বাজারে তিনি যখন উদাসীনভাবে বসেছিলেন তখন পর্যন্ত মায়ের মৃত্যুসংবাদ পাননি। কিন্তু প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে প্রিয়জন হারানোর বেদনা তার অন্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, চলমান সময়ের নিষ্ঠুরতা এবং অর্থনৈতিক দৈন্য তার আবেগ-অনুভ‚তি এতটা ভোঁতা করে দিয়েছে যার কারণে অত সকালে তার স্ত্রীর ফোন পেয়ে প্রথমেই কর্কশভাবে বলেছিলেন, ফোন দিছ কেন? আমি কি শুইয়্যা-বইস্যা থাকি? তারপর তিনি যখন মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেলেন তখন দারিদ্র্যের নির্মম নিষ্ঠুরতায় পিষ্ট হওয়া মানুষটি মানবিক গুণ পরিহার করে কর্কশভাবে বললেন- মরছে তো কী হয়েছে, আমি কী করুম? আমি কিভাবে আসুম? ভাড়া নাই। এহন ভাড়া পামু কই!

উল্লিখিত বক্তব্য দেয়ার খানিক পরে রিকশাওয়ালার হৃদয়ের মধ্যে যে মানবিকতার বীজ ছিল তা হঠাৎ করেই গজিয়ে উঠতে থাকে। মায়ের মৃত্যু এবং মায়ের সাথে তার সুখময় স্মৃতির পাশাপাশি বাড়ির টান যুগপৎভাবে বিদ্যুতের গতিতে বিক্রিয়া শুরু করে। ফলে নিজের অজান্তে শুরু করেন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে অঝোরে কান্না। রিকশাওয়ালার প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে এবার নিজের সম্পর্কে কিছু বলব এবং পরিশেষে উল্লিখিত কাঁচাবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতার রসায়নে কিভাবে আমাদের আত্মার মৃত্যু ঘটছে এবং আমরা কিভাবে স্বপ্নহীন নির্মম বাস্তবতার কবলে পড়ে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছি সে বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনার মাধ্যমে আজকের নিবন্ধের ইতি টানব।

আমি শৈশব থেকেই নিয়মিত খেলাধুলা এবং শরীরচর্চা করি। এর বাইরে ধর্মকর্ম, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন এবং সুষম খাদ্যগ্রহণ আমার দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। পরিশ্রম, অধ্যয়ন, ধ্যান এবং অবসরে নির্মল বিনোদন ছাড়াও আত্মার শান্তি লাভ হয় এমন কর্ম করার ফলে ইহজাগতিক অস্থিরতা-দুঃখবেদনা-রোগ-শোক আমাকে বেশিক্ষণ তাড়িত করতে পারে না। ফলে সর্বাবস্থায় সুখে থাকার অদ্ভুত সব কারণ আমি খুঁজে বের করি এবং আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় আমার সমসাময়িক এবং সমপর্যায়ের প্রিয়জনদের টেক্কা দিয়ে তাদের ঈর্ষার বস্তু হয়ে বেশ ভালোই দিন কাটিয়ে আসছি। কিন্তু গত দুই বছরের করোনার তাণ্ডব আমার নিজের মন-মস্তিষ্ক এবং জ্ঞানবুদ্ধির সীমা-পরিসীমা ভেদ করে সব কিছুর অজান্তে সর্বাঙ্গে বেশ কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আয়নার সামনে দাঁড়ালে টের পাই যে, আমার গণ্ডদেশের চামড়ায় বার্ধক্যের ছায়া পড়েছে। হররোজ ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাই। স্মরণে থাকা বিষয়গুলো সাবলীলভাবে আগের মতো মনে করতে পারি না। এ ছাড়া ঘুম-বিশ্রাম-আহারেও অরুচি চলে এসেছে।

উল্লিখিত বায়োলজিক্যাল বিষয়াদি ছাড়াও আমার প্রেম-ভালোবাসা, আবেগ অনুভূতি, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ এবং সর্বোপরি মায়া-দয়ার ক্ষেত্রগুলোও যেন ওলটপালট হতে চলেছে। গভীর অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে নিজের দিকে তাকালে মাঝে মধ্যে নিজেকে কেমন যেন অচেনা মনে হয়। অনাগত দিনে বেঁচে থাকার স্বপ্ন, কোনো কমনীয় রমণীয় বিষয়াদি অর্জনের আকাক্সক্ষা, মন্দ ও নষ্ট বিষয়গুলো পরিহার ও ঘৃণা করার যে দৃঢ়তা তা-ও নির্জীব হতে বসেছে। চোখের সামনে লোকজন গড়গড়িয়ে মিথ্যা বলছে, অন্যায় করছে এবং দেশ জাতির সর্বনাশ ঘটাচ্ছে। অথচ আগেকার দিনের মতো ওগুলো আমাকে নিদারুণভাবে আহত করছে না। আমি যখন পরিচিত বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং পরিচিত জনদের সাথে কথা বলি তখন লক্ষ করি যে, গত দুই বছরে তাদের অনেক কিছুই তছনছ হয়ে গেছে। অন্য দিকে গত দুই বছরে দৃষ্টান্ত হতে পারে এমন একটি উদাহরণও আমার পরিচিত কারো জীবনে ঘটেনি।

আমাদের শহরে নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের দুরবস্থা নিয়ে পত্রপত্রিকায় অনেক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। গত দুই বছরে বাস্তুচ্যুত মানুষ অর্থাৎ যারা বসতবাড়ি হারিয়েছেন বা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন অথবা যারা শহর ছেড়ে গ্রামে যেতে বাধ্য হয়েছেন কিংবা গ্রাম ছেড়ে দেশের অন্য কোথাও বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের সংখ্যা কত তা আমরা জানি। তবে যারা এমনটি করেছেন তাদের সবারই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে এবং অনাগত দিনে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখার সামর্থ্যও তারা হারিয়ে ফেলেছেন।

চলমান দুর্বোধ্য সময়ে যাদের খুব সুখী মানুষ বলে মনে হয় তারা হলেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি দলের ক্ষমতাধর নেতাকর্মী এবং একই দলভুক্ত জনপ্রতিনিধি। এসব শ্রেণীর বাইরে সরকারি দলের দালাল ফড়িয়া চাটুকার সরবরাহকারী এবং ধামাধরাদের একটি গ্রুপ গত দুই বছরের করোনাকে পুঁজি করে অঢেল অর্থবিত্তের মালিক হয়ে পড়েছে এবং তাদের সংখ্যা সাকুল্যে লাখ পঞ্চাশের মতো হবে। এক হিসাবে দেখা গেছে যে, গত দুই বছরে নতুন করে কুড়ি হাজার কোটিপতি আমাদের দেশে গজিয়ে উঠেছে। এসব লোকজন তাদের কালো টাকা দিয়ে মহাবিপদের মধ্যে পড়েছে। করোনাকালে যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে এবং আপনজনদের বেগমপাড়ার বাসিন্দা বানিয়েছে তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর ভারসাম্যহীন বিকারগ্রস্ত মানসিক রোগীতে পরিণত হয়েছে।

যারা সোনা-ডলার কিনে গোপন স্থানে পুঞ্জীভূত করেছে তারাও ধরা পড়ার ভয়ে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অন্য দিকে যারা জায়গা-জমি, ফ্ল্যাট-বাড়ি ক্রয় করা ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করেছেন তারাও ভালো নেই। ফলে সরকারি অফিসগুলোর দুর্নীতিগ্রস্ত টেবিল-কামরা-ভবনে করোনার চেয়েও ভয়াবহ ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হয়েছে। উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশের ১৭ কোটি মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্ন-তাদের মধ্যকার মানবিক মূল্যবোধ এবং তাদের আত্মাগুলো নিদারুণ এক মৃত্যুফাঁদের কবলে পড়ে মরণযন্ত্রণায় ছটফট করছে। কেবল সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব, রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, সুশাসন, ধর্মীয় মূল্যবোধ, দুষ্টের দমন শিষ্টের লালন এবং সর্বস্তরে নীতিনৈতিকতা অনুসরণ করলে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে রহমত ও বরকত নাজিল করেন সেই অমূল্য নিয়ামত ছাড়া বর্তমান সঙ্কট থেকে রেহাই পাওয়া অসম্ভব!
লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য