Naya Diganta

দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে রেমিট্যান্স প্রবাহ : নভেম্বরে কমলো ২৫.২৬ শতাংশ

গত নভেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে এসেছিল ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। এ হিসেবে গত এক মাসে কমেছে ২৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ রিমিট্যান্স একক মাস হিসেবে গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
প্রতি মাসেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এমনিতেই ডলারের আন্তঃপ্রবাহ কমে গেছে। সেই সাথে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে আমদানি ব্যয়। এতে ব্যাংকগুলোর ডলারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ কারণে বেড়ে যাচ্ছে ডলারের দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মজুদ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাচ্ছে। যেমন, অর্থবছরের প্রথম মাসে জুলাইয়ে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিট্যান্স কম এসেছিল প্রায় ২৮ শতাংশ। পরের মাসে আগস্টে তা কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে কম এসেছে প্রায় ২০ শতাংশ। এরই ধারাবাহিকতা অক্টোবরে কমেছে ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আর গত নভেম্বরে কমেছে ২৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৩ কোটি ডলার। এর পর ১৫৫ কোটি ডলারের উপরেই ছিল রেমিট্যান্স প্রবাহ। এ হিসেবে গত দেড় বছরের মধ্যে গত মাসে এলো সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স প্রবাহ। এ সুবাদে অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) কমেছে ২১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কিছু কিছু ব্যাংক ডলারের সংস্থান না করেই পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলছে। মূল্য পরিশোধের সময় পড়ছে বেকায়দায়। এ দিকে রেমিট্যান্স কমায় ডলারের আন্তঃপ্রবাহ কমে গেছে। বাজারে ডলারের সঙ্কট থাকায় তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় তার বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থেকে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে। এভাবেই চাপ বেড়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ওপর।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি না করলে ডলারের দাম আরো বেড়ে যেত। গতকাল আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার লেনদেন হয়েছে ৮৫ টাকা ৮৫ পয়সায়। কিন্তু খোলাবাজারে বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা ৫০ পয়সার কাছাকাছি। মূলত ক্যাশ ডলার কমে যাওয়ায় খোলাবাজারে ডলারের দাম বাড়ছে বেশি হারে। সামনে এ চাপ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যাংকাররাও।