৩০ এপ্রিল ২০২৪, ১৭ বৈশাখ ১৪৩১, ২০ শাওয়াল ১৪৪৫
`


পাখির কলকাকলিতে মুখরিত নিলুয়ার বিল

-

পাখির কলকাকলিতে মুখর ‘নিলুয়ার বিল’। হাজার হাজার পাখি সারাক্ষণ মুখরিত করে রেখেছে এই বিল। পাখি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন পাখিপ্রেমীরা। বিলটির অবস্থান মানিকগঞ্জের ঘিওর-দৌলতপুর উপজেলার মাঝখানে। পাশ দিয়েই চলে গেছে আরিচা-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক। যদিও বিলটির এখন পানি অনেকটাই কমে গেছে, তবুও এর সৌন্দর্য কমেনি একফোঁটাও।
নিলুয়ার বিলে অতিথি পাখির আনাগোনা বেড়েছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। প্রতি বছর শীত মৌসুমে বিলটি যেন হয়ে যায় পাখির আবাসস্থল। এবারো এ বিলে বাসা বেঁধেছে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখিসহ হাজারো অতিথি পাখি। ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখিপ্রেমীরা দল বেঁধে আসছেন পাখি দেখতে। শীতকাল এলেই এই নিলুয়ার বিল অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে। খুব বড় না হলেও বিলটি পাখির কারণে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি, উড়ে চলা, নীরবে বসে থাকা মানুষকে আকৃষ্ট করে। তাই দূরদূরান্ত থেকে লোকজন একনজর পাখি দেখার জন্য এখানে আসেন। চলমান এ রাস্তার লোকজন গাড়ি থামিয়ে অথবা পায়ে চলার পথে এখানে একদণ্ড দাঁড়াতে বাধ্য হন। প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমান এখানে। উপভোগ করেন মনোরম দৃশ্য। নিলুয়ার বিলে পাখির মেলা থাকে নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত। দল বেঁধে যখন পাখিগুলো আকাশে ওড়ে, তার সাথে যেন উড়ে চলে মনও। পুরো এলাকাটিই সরব করে রাখে এই পাখপাখালি। পাখিদের এই মিছিলে আছে দেশীয় বক, বালিহাঁস, পানি কাউর, পানকৌড়িসহ নাম না জানা অনেক অতিথি পাখি। গ্রামের গাছে গাছে বাসা বেঁধে বাচ্চা ফোটায়। আর বাচ্চা বড় হলেই গ্রাম ছেড়ে চলে যায়।
সরেজমিন গত শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শান্ত জলের বুকে কচুরিপানার সবুজ গালিচার মাঝে ঝাঁক বেঁধে ডানা মেলছে অতিথি পাখির দল। উড়ে চলা পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত চারপাশ। পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজা হাঁস, বালিহাঁস, পাতিকূটসহ দেশী জাতের শামুকখোল, পানকৌড়ি, ছন্নি হাঁস বিল এলাকা মুখরিত করে তুলছে। কিন্তু পরিমাণে গত বছরের প্রায় অর্ধেক। এ বছর তিব্বতীয় মানিকচক, সাইবেরিয়ান ফিদ্দাসহ অনেক অতিথি পাখিই চোখে পড়েনি।
নিলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফারজানা আক্তার সীমা জানান, নভেম্বর এলেই পাখিগুলো যে কোথা থেকে আসে তা জানি না। তবে প্রচুর পাখি আসে এই গ্রামে, যা মানিকগঞ্জের আর কোথাও দেখা যায় না।
নিলুয়া বিল এলাকার পাখির ছবি তুলতে আসা ঘিওরের সাংবাদিক শফি আলম জানান, এই বিলে বেশ কয়েক বছর ধরেই পাখি আসে। তবে বিলটি আগের মতো নেই। বিলে পাখি অনেক কমে গেছে। বিল ঘেঁষে মানিকগঞ্জ-দৌলতপুর সড়ক হওয়ায় বিল সঙ্কীর্ণ হয়েছে এবং যানবাহন চলাচলের কারণে অনেক পাখি অন্যত্র চলে যাচ্ছে। তিনি জানান, সম্প্রতি কিছু দুষ্কৃতকারী বন্দুক ও বিভিন্ন ফাঁদ দিয়ে পাখি ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
ঢাকার গাবতলী থেকে টাঙ্গাইলের ধুবড়িয়াগামী বিআরটিসি কিংবা ভিলেজ লাইন বাসে উঠলে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন নিলুয়া। ভাড়া নেবে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মতো। বাসস্ট্যান্ডে নামলে পাশেই দেখবেন এই বিলটি। চাইলে নৌকা করে ঘুরতেও পারেন বিলের মধ্যে। পাখির কিচিরমিচিরে ভালো সময়ই কাটবে আপনার।
এবার আসছি প্রকৃতির সৌন্দর্য-রাজ্যের কথায়। সরিষার জন্য মানিকগঞ্জ এমনিতেই বিখ্যাত। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড পার হলেই দু’চোখে শুধু হলুদ আর হলুদ। নিলুয়া গ্রামের আশপাশেও অনেক সরিষার খেত আছে। পথিমধ্যে চোখে পড়বে অগণিত সবজি ও বিভিন্ন ফসলি জমি। ছবি তুলতে ভুল হওয়ার কথাই ওঠে না। এলাকার মানুষও খুবই ভালো, সরলতা আর আতিথেয়তা মুগ্ধ করে।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আক্তার বলেন, পাখি প্রকৃতির অলঙ্কার। এ অলঙ্কার ধ্বংস করা মানে পরিবেশ ধ্বংস করা। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য পাখির বিচরণ ক্ষেত্র মুক্তভাবে রক্ষা করতে হবে। আমাদের দেশ ক্রমে ক্রমে অতিথি পাখির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। শুধু আইন দিয়েই পাখি শিকার বন্ধ করা যাবে না। সর্বস্তরের মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। গ্রাম ও শহরের সব বয়সী মানুষ অতিথি পাখি দেখতে ভিড় করেন এখানে। বিলটির উন্নয়ন ও অতিথি পাখির নিরাপদ অভয়াশ্রম করার লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি। সংশ্লিষ্ট দফতরে এ ব্যাপারে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।
সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের সাথে অতিথি পাখিদের হৃদয়ের সম্পর্ক অনেক গভীর ও প্রাচীন। আমাদের অসচেতনতায়, সামান্য স্বার্থের কারণে বা শখের কারণে আমরা শীতের পরিযায়ী পাখিদের শিকার করে মেরে ফেলছি। এতে করে আমরাই আমাদের এই সুন্দর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছি। পাখিরা নিজ আবাস ভূমি ছেড়ে চলে আসে। সেই পাখিগুলোর বেশির ভাগই আবার তাদের নিজ ভূমিতে শীত শেষে ফিরে যেতে পারে না এক শ্রেণীর অর্থলোভী পাখি শিকারিদের অত্যাচারে। এটা আমাদের জন্য খুবই মর্মদায়ক। মানুষের সৃষ্ট কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেহেতু প্রকৃতির বড় একটি উপাদান পাখি সমাজ। তাই আমাদের দেশীয় পাখি কিংবা অতিথি পাখি বা পরিযায়ী পাখিই বলি না কেন তাদের রক্ষা করতে হবে। তাদের বিচরণ ক্ষেত্র সুরক্ষা করতে হবে। মুক্ত আকাশে ওড়া খাল, বিল, হাওর-বাঁওড়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে তার ব্যবস্থা অবশ্যই আমাদের করতে হবে।
ছবি : লেখক


আরো সংবাদ



premium cement
চলতি সপ্তাহেই গ্রেফতার হতে পারে নেতানিয়াহু সিংড়ায় তাপদাহে শ্রমিকদের পাশে পরিবেশ কর্মীরা চেলসি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন থিয়াগো সিলভা ৪৩ ডিগ্রিও ছাড়িয়ে গেল পাবনার তাপমাত্রা আবুল কাশেম ও শাহনাজ পারভীনের ইন্তেকালে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের শোক বান্দরবানে উপজেলা নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেন আ’লীগের প্রার্থী যশোরে ইজিবাইকচালকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার পদত্যাগ করুন দেশের মানুষকে বাঁচান : সরকার‌কে ফারুক ‘জয়বাংলা ব্লাড স্কিম’ রাবি ছাত্রলীগের সিট দখলের নতুন কৌশল ইসরাইলি পণ্য বয়কট : মালয়েশিয়ায় কেএফসির শতাধিক আউটলেট বন্ধ গাজায় বিধ্বস্ত ভবনগুলোর নিচে চাপা পড়েছে ১০ হাজারের বেশি লাশ

সকল