Naya Diganta

আবার সোহেলের ভুল এবং বাংলাদেশের বিদায়

আবার সোহেলের ভুল এবং বাংলাদেশের বিদায়

পরপর দুই ম্যাচ জিতেও সাফের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশকে। ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে শনিবার নেপালের কাছে ০-২ গোলে হেরে ২০১১, ২০১৩ এবং ২০১৫ সাফের মতো ২০১৮ সাফেরও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় লালসবুজদের। দুই ম্যাচ জিতে পয়েন্ট সমান ৬ পয়েন্ট নেপাল, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের। এতে হেড টু হেড এই তিন দলই সম পর্যায়ে। ফলে বিবেচনায় আসে গোল পার্থক্য। এতে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে পড়ে ছিটকে পড়তে হলো জেমি ডে বাহিনীকে।

বাংলাদেশ এই তিন দলের পারস্পরিক ম্যাচে ১ গোল দিয়ে হজম করেছে দুই গোল। তাদের গোল পার্থক্য মাইনান ১। পাকিস্তান ২ গোল দিয়ে খেয়েছে ২ গোল। তাদের ব্যবধান শূন্য। অন্য দিকে নেপাল তিন গোল দিয়ে খেয়েছে ২ গোল। তাদের প্লাস ১। ফলে ৬ পয়েন্ট নিয়েও গোল পার্থক্যে গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিতে গেল নেপাল। পাকিস্তান হয়েছে রানার্সআপ। আর গোল ব্যবধানে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বিদায় বাংলাদেশের। অথচ ভুটান এবং পাকিস্তানকে হারানোর পর সেমিতে যেতে শনিবার নেপালের সাথে ড্র দরকার ছিল জামাল, মামুনুল, সুফিল ,তপুদের। অথচ বাজে ম্যাচ খেলে তারা হেরে গেল।  রোববার ভারত ও মালদ্বীপের ম্যাচের জয়ী দলকে সেমিতে পাবে পাকিস্তান। নেপাল শেষ চারে খেলবে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের সাথে। সেমিতে যেতে আজ ড্র দরকার মালদ্বীপের। তারা ০-৩ গোলে হারলে সেমিতে খেলেবে শ্রীলংকা। ভারত আগেই সেমি নিশ্চিত করে।

দারুন ছন্দে খেলা একটি দলের পতনের জন্য একজন গোলরক্ষকের মারাত্মক ভুলই যথেষ্ট। যেখানে গোলরক্ষক হলেন দলের প্রান। তার একটি সেভই দারুন ভাবে উজ্জীবিত করে দলকে । সেখানে তিনি যদি পাড়া মহল্লার খেলোয়াড়ের মতো হাস্যকর ভুল করেন তাহলে দলের অন্য ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে। বরাবরের মতো গতকাল নেপালের বিপক্ষেও সেই একই ভুল করে বসলেন দীর্ঘ দেহের জন্য জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া শহীদুল আলম সোহেল। ৩৩ মিনিটের ঘটনা। ৩৩ মিনিটে ৩৫ দূরে ওয়ালী ফয়সালের ফাউলের ফলে ফ্রিকিক পায় নেপাল।

বাংলাদেশের হেমন্তের সাথে নেদারল্যান্ডস এ ট্রায়ালে যাওয়া নেপালে বিমল ঘার্তি মাগার একবারেই সাধারন মানের ফ্রি-কিক নেন। বলটি ভাসছিল সোহেলের মুখের সামনে। সেই বল ধরতে যান তিনি । অথচ বল তার হাতের ছোঁয়া নিয়ে জালে গিয়ে উল্লাসে মাতায় নেপালীদের। এতোক্ষন ভালো খেলা বাংলাদেশ এই গোলের পর সে যে খেই হারিয়ে ফেললো আর ফিরতে পারেনি ম্যাচে।

বারবারই দলতে এইভাবে ডোবান সোহেল। ২৯ মার্চ নীলফামারীতে শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশের হারের কারনও তিনি। দূর থেকে আসা বলে ফ্লাইট মিস তার।বল জাােল। ২০১১ সালে দিল্লী সাথে শেষ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে নেয়া নেপালের সাগর থাপার ফ্রি-কিকেও ব্যর্থ এই সোহেল। ২০১৫ সালের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালেও তার মারাত্মক ভুলে বাংলাদেশের জালে মালয়েশিয়ার দল দুই বার বল জালে যায় এবং হার বাংলাদেশের।

শেখ জামালের হয়ে এএফসি কাপেও মারাত্মক ভুল এই কিপারের। এবং দলের হার। এরপরও তিনি জাতীয় দলে তাকে নিয়মিত রাখা হচ্ছে ঢাকা আবাহনীর খেলোয়াড় হওয়ার কারনে। দলের ফুটবলারদেরই এই অভিযোগ। অথচ এশিয়াডে চমৎকার খেলা গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাকে রাখা খেলনো হয়নি। এবারের সাফে বাংলাদেশ দলের ২০ জনের ৯ জনই আবাহনীর।

একদিকে সোহেলের ভুল। অন্য দিক অন্য ফুটবলাদের বাজে পরফরম্যান্স ছিল হাতাশা জনক। বদলিরা পারেননি কিছু করতে। জঘন্য ছিল সোহলে রানা এবং ইমন বাবুর খেলা। পিছিয়ে পড়ার পর তাদের মধ্যে সমতা আনার ক্ষুধাই দেখা যায়নি। যদিও প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পর সবাই এবার আশাবাদী ছিল তাদের নিয়ে।

ম্যাচে বাংলাদেশ ৭০ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায়। এরপর ৭৮ ও ৮০ মিনিটে। প্রতিবারই ব্যর্থ বদলী স্ট্রাইকার সাখাওয়াত রনি। ৫৪ মিনিটে সোহেল অবশ্য দলকে রক্ষা করেন ভারত খাওয়াজের বল ঠেকিয়ে।

৯০ মিনিটে নেপাল তাদের জয় নিশ্চিত করে সুনীল বলের থ্রু থেকে নবোজত শ্রেষ্ঠার শটে। বাংলাদেশ দল: সোহেল, তপু, বিশ্বনাথ, ওয়ালী, বাদশা, জামাল, মামুনুল, সাদ উদ্দিন ( রনি ৫৩ মি.), বিপলু ( সোহেল রানা ৫১ মি.) সুফিল, জনি ( ইমন বাবু ৬০ মি.)।