Naya Diganta

চৌগাছায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি

যশোরের চৌগাছায় পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কুকুরে কামড়ে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে স্কুলগামী শিশু ও পথচারীরা। শহরের বিভিন্ন অলি-গলি, রাস্তায় দল বেঁধে উপদ্রব চালাচ্ছে এসব বেওয়ারিশ কুকুর। পৌরবাসীরা এদের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগের আশঙ্কায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-মাদরাসা পড়–য়া কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে হচ্ছে অভিভাবকদের।

চৌগাছা মডেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় প্রতিদিনই ৪/৫ জন বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসে হাসপাতালে।

এদিকে গত কয়েকদিনের মধ্যে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রতিষেধক গ্রহণ করেছেন শহর ও শহরতলির বেশ ক’জন শিশু, বৃদ্ধ, যুবক ও মহিলা। চৌগাছা পৌরসভা থেকে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। যার প্রতিটির মূল্য ২শ’ টাকা করে। প্রতি ডোজ ৫টি, যার মোট মূল্য এক হাজার টাকা।

পৌর এলাকার আম্রকানন পাড়ার আব্দুল মান্নান জানান, আমার ছোট ছেলে আবু সাঈদ (৯) স্থানীয় বেলা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ছাত্র। কুকুরের ভয়ে তার সাথে প্রতিদিন যাওয়া-আসা করতে হয়। শহরের বিভিন্ন অলি-গলি, রাস্তায় দল বেঁধে বেওয়ারিশ কুকুরের মিছিল দৌড়া-দৌড়ি, কামড়া-কামড়ি ও উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে।

পৌর কমিশনার আব্দুর রহমান বলেন, জলাতঙ্ক রোগ থেকে বাঁচতে হলে র‌্যাবিস প্রতিষেধক হিসেবে ভারতের বেরোরার নামক ভ্যাকসিন রয়েছে যার মূল্য ৪ হাজার ৫শ’ টাকা। যা গরীব লোকদের বেলায় ব্যবহার করা অসম্ভব। এ ভ্যাকসিন এক দিন পর পর নাভির গোড়ায় দিতে হয়। যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তাই বিশেষ করে গরীব জনগোষ্ঠী ও কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের কথা চিন্তা করে চৌগাছা পৌর শহরের বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করা দরকার।

এ ব্যাপারে কমিশনার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতি বছরই বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করা হত। কিন্তু মাননীয় হাইকোর্ট কুকুর না মারার জন্য একটি রুল জারি করার ফলে কুকুর মারা বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। শিগগিরই কুকুর নিধন অভিযানে ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে চৌগাছা উপজেলা মডেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আওরঙ্গজেব বলেন, রাবীপুর ও র‌্যাবিক্স ভিসি কোম্পানির ভ্যাকসিন হাসপাতালে সরবরাহ না থাকায় এ সব রোগীকে আমরা চিকিৎসা দিতে পারি না।