০৯ মে ২০২৪, ২৬ বৈশাখ ১৪৩১, ২৯ শাওয়াল ১৪৪৫
`


বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাকাল ফরিদপুরবাসী

-

একদিকে বৈরি আবহাওয়া আর অন্যদিকে কারিগরি ত্রুটি ও মাত্রাতিরিক্ত চাহিদার কারণে ফরিদপুরে মারাত্মক বিদ্যুত বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের পাশাপাশি শহরেও দেখা দিয়েছে বিদ্যুতের তিব্র সংকট। দিনদিন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও বাড়ছে না সরবরাহ। এছাড়া পুরনো যন্ত্রপাতি ও ট্রান্সমিটার ঘসামাজা করে চলছে কাজ। এ নিয়ে ফরিদপুরবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিদ্যুতের সংকটে ফরিদপুরবাসীর এবারের ঈদ আনন্দ যেনো পুরোটাই মাঠে মারা গেছে। বিদ্যুতের এই নাকাল পরিস্থিতিতে চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলে পছন্দের দলের খেলাও অনেকে দেখতে পাচ্ছেন না। এনিয়েও তারা ক্ষুব্ধ।
জানা গেছে, ঈদের আগের রাতে বজ্রপাতে বৈদ্যুতিক খুটির পিন ইনস্যুলেটন ক্র্যাশ করে। এর ফলে ঈদের আগের রাত থেকেই সারাদিন ফরিদপুরে বিদ্যুৎ ছিলো না। কোথাও কোথাও সামান্য সময় বিদ্যুত থাকলেও সরবরাহ হয়েছে অত্যন্ত লোভোল্টেজে। আর এ সমস্যা কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘœ হতে সময় লেগেছে রাত অব্দি। এরপর গতকাল সোমবারও শহরের ঝিলটুলীতে পিন ইনস্যুলেটর ক্র্যাশ করে।
যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করেছে, বিদ্যুৎ সংকট নয় বরং সঞ্চালন যন্ত্রাংশের ত্রুটির কারণে এবারের ঈদে এ সমস্যা পোহাতে হয়েছে ফরিদপুরবাসীকে। আর বিদ্যুতের এ সমস্যা চিহ্নিত করতে গিয়ে শুক্রবার রাত থেকে শুরু করে পুরো ঈদের দিনেই হিমশিম খেতে হয়েছে ওয়েষ্টজোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউটর কোম্পানী তথা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের। অবশেষে সারাদিনের দুর্ভোগ শেষে যখন সমস্যা খুঁজে বের করা গেছে তখন শেষ হয়ে গেছে ঈদের পুরো দিনটাই।
এ ব্যাপারে জানতে আজ সোমবার দুপুরে যোগাযোগ করা হয় ওজোপাডিকো, ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামানের সাথে। তপ্ত রোদের মাঝে তিনি তখনও ব্যস্ত সময় পার করছিলেন কোমরপুরের সাব ষ্টেশনে। জানালেন, নিজে কিডনী রোগী। সকালে হার্ড ফাউন্ডেশন থেকে ডাক্তার দেখিয়েই আবার নেমে পড়েছেন কাজে। চিকিৎসক তাকে বারণ করেছেন রোদের মধ্যে কাজ না করতে। তবু নিরুপায় হয়ে কাজে নামতে হয়েছে তাকে।
নিজের শারিরীক এই অসুস্থ্যতার কথা জানিয়ে ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ঈদের আগের রাতে বজ্রপাতে অম্বিকাপুরে বেলালের দোকানের সামনে একটি বিদ্যুতের খুটির ‘পিন ইনস্যুলেটর’ ক্র্যাক করার ফলে এ দুর্ভোগের সূত্রপাত হয়। ক্ষতিগ্রস্থ ওই পিন ইনস্যুলেটরটি খুঁজে পেতে তাদেরকে চরম বেগম পেতে হয়। এ কারনে ফরিদপুরে ঈদের আগের রাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘœ ঘটেছে। ওয়াদিুজ্জামান জানান, সমস্যা খুঁতে পেতে তাদেরকে বিদ্যুতের প্রতিটি পোষ্টে নজর দিতে হয়েছে। কোমরপুর থেকে অম্বিকাপুর হয়ে রেললাইন পাড় হয়ে কবি জসীমউদ্দিনের বাড়ি হয়ে যেতে হয়েছে বেলালের দোকানের সামনের অকুস্থলে। এরপরই পাওয়া গেছে ক্ষতিগ্রস্থ পিনটি।
তিনি জানান, যদি সঞ্চালন লাইনে গাছ পড়ে ট্রান্সমিটার বাষ্ট হতো তবে সেটি খুঁজে পেতে সমস্যা হতো না। কিন্তু ৩৩ হাজার কেভির লাইনের সাথে বিদ্যুতের খুটির সংযোগের এই পিনটি খালি চোখে দেখা যায় না। যখন এটি ক্যাক করে তখন সামান্য স্পার্ক হয়। যা খেয়াল না করলে দেখাও যায় না। আর এই সমস্যা খুঁজে পেতে প্রতিটি খুটিতে লোক নিযুক্ত করে তারপর বের করতে হয়েছে। গতকাল রোববারও উকিল পাড়া ফিডারে একটি খুটির পিন ইনস্যুলেটর ক্রাশ হয়। এতে আবারও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘœ ঘটে। এই সমস্যা খুঁজে বের করে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রায় ৩ ঘন্টার মতো সময় লাগে বলে জানা নির্বাহী প্রকৌশলী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে সবমিলিয়ে বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার। ফরিদপুর শহরের ৭টি এবং কানাইপুরের ২টি মিলিয়ে মোট ৯টি ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে ১৬ মেগাওয়াট। চাহিদা রয়েছে এরচেয়েও বেশি। ফরিদপুর শহর ও কানাইপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় কোমরপুর সাব স্টেশন থেকে। সেখানে ৩৩ হাজার কেভির লাইনের সাথে ফিডার লাইনের সংযোগ ব্রেকারও পুরনো। সেটি মেরামত করে ঠিক রাখা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী। এছাড়া শহরের সঞ্চালন লাইনেও নানাবিধ ত্রুটি রয়েছে। সামান্য বাতাস ও বজ্রপাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক স্থানে পুরনো ট্রান্সমিটার দিয়ে সঞ্চালন করা হচ্ছে বিদ্যুত সরবরাহ। ট্রান্সমিটার সাময়িক বিকল হয়েও অনেকস্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।


আরো সংবাদ



premium cement