২০ জুন ২০২১
`

সমবণ্টন চায় ছোট ক্লাবগুলো

-

মাঠে টুকটাক খেলা চললেও খেলোয়াড়দের রুটি রুজির যে প্রিমিয়ার হকি লিগ সেটিই অনিয়মিত। তিন চার বছর গ্যাপ দিয়ে লিগ হয় বলে কেউ কেউ প্রিমিয়ার লিগকে তুলনা করেছেন এশিয়ান গেমস কিংবা ওয়ার্ল্ড কাপের সাথে। কারণ ওই আসরগুলো হয় চার বছর পরপর। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে) ও ক্লাবগুলোর মতানৈক্যের কারণেই হয় না প্রিমিয়ার লিগ। কালের বিবর্তনে খেলার চেয়ে প্রাধান্য পেয়েছে অর্থ। এবারো একটি সভায় কয়েকটি ক্লাব অর্থের দাবি করলে বাহফে সভাপতি ও বিমানবাহিনী প্রধান বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাহফেকে এক কোটি টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। ক্লাবগুলোর মাঝে এই টাকা সমানভাবে বণ্টন হবে নাকি অবস্থান (চ্যাম্পিয়ন, রানার্স আপের ক্রমানুসারে) অনুসারে। তা নিয়ে দ্বিধা।
প্রিমিয়ারে মোট ১৩টি দল রয়েছে। মোহামেডান, আবাহনী, মেরিনার্স, ঊষা ক্রীড়া চক্র, সোনালী ব্যাংক, সাধারণ বীমা, বাংলাদেশ স্পোর্টিং, আজাদ, ওয়ান্ডারার্স, অ্যাজাক্স, দিলকুশা, ভিক্টোরিয়া, বাংলাদেশ পুলিশ। এর মাঝে ঊষা না খেলায় শাস্তি হিসেবে এবং ওয়ান্ডারার্স পয়েন্ট তালিকায় তলানিতে থাকায় অবনমন হয়েছে। এবার ১১ দল নিয়ে হবে প্রিমিয়ার। সেরা তিন-চারটি ক্লাব চাচ্ছে অবস্থানের আলোকে বণ্টন আর বাকিরা চাচ্ছে সমবণ্টন। কেউ কেউ বলছেন প্রথম পাঁচ ক্লাবকে ১০ লাখ করে এবং পরের ক্লাবগুলোকে পাঁচ লাখ করে টাকা দেয়া হোক। বাকি ২০ লাখ টাকা প্রাইজমানি হিসেবে রাখা হোক।
আবাহনীর মাহবুব হারুন জানান, ‘যেহেতু হকিতে এ জাতীয় চিন্তাভাবনা প্রথম সেহেতু বাহফের ভাবা উচিত কারা কত টাকার দল গঠন করে। পজিশন অনুপাতেই বণ্টন করা উচিত। বাকিটা বাহফে সিদ্ধান্ত নিবে কিভাবে কী করবে।’
বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাবের হাজী মো: হুমায়ুন জানান, ‘বড় ক্লাবগুলোর তো টাকার অভাব নেই। নিচের সারির ক্লাবগুলো অর্থের অভাবেই ভালো দল গড়তে পারে না। সে হিসেবে সমবণ্টন হলে উপকৃত হবে বেশির ভাগ ক্লাব। বড় ক্লাবগুলো এই টাকা অফিস খরচ হিসেবে চালাবে আর নিচের সারির দলগুলো ভালো প্লেয়ার পেতে খরচ করবে। রেশিও করলে কোনো ফল আসবে না।’
মেরিনার্স ইয়াংসের হাসানউল্লাহ রানা জানান, ‘প্রথাগত নিয়ম হলো রেশিও অনুপাতে বণ্টন। বড় টিমগুলোর বেশি খরচ তাই রেশিও অনুপাতে বণ্টন হওয়া উচিত। আর কিছু টাকা রেখে দেয়া উচিত প্রাইজমানির জন্য। যা বোনাস নামে গণ্য হবে। বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হলো, বাহফে সভাপতি টাকাটা এনেছেন। উনি শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর সাথে সভা করে সিদ্ধান্ত নিবেন। আর টাকা দিলে ক্লাবগুলোর সাধারণ সম্পাদক লিখিত দিয়ে নিতে হবে।’
আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের টুটুল কুমার নাগ ও অ্যাজাক্সের মঈনুজ্জামান পিলার বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাই অসুবিধায় আছে। তারপরও লিগ খেলার জন্য সবাই প্রস্তুত। সে হিসেবে সমবণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবে। আর অবশ্যই বাহফেকে প্রক্রিয়া ঠিক করতে হবে।
বাহফে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো: ইউসুফ বলেন, ‘এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি কিভাবে বণ্টন হবে। সভাপতি সাহেব যেহেতু অনুদান এনেছেন উনিই সিদ্ধান্ত দিবেন কিভাবে কী করা হবে।’



আরো সংবাদ