০৭ মে ২০২৪, ২৪ বৈশাখ ১৪৩১, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৫
`


দৃষ্টিপাত : ‘পবিত্র বাহিনী’ ও জিয়ার প্রসঙ্গ

-

তদানীন্তন হানাদার বাহিনীকে ‘পাক বাহিনী’ লেখাতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন (বাংলাদেশ প্রতিদিন- ১২/১/২০২১)। তবে ‘পবিত্র’ অর্থে হানাদারদের ‘পাক’ লেখা হয় না। ‘পাকিস্তান’কে সংক্ষেপ করতে ‘পাক’ লিখেন অনেকে। কারো কারো বক্তব্য হলো, সংক্ষেপ করে পাকিস্তানকে ‘পাক’ বা হানাদার বাহিনীকে ‘পাক বাহিনী’ বললে আর আল্লাহ রাসূল পাক হওয়ার মধ্যে মানুষ কিভাবে পার্থক্য খুঁজবে? এটা খুবই খাঁটি কথা। রান্নাঘরকে অনেকে পাকঘর বলেন। তবে ‘পবিত্র’ অর্থে ‘পাক’ঘর বলেন না। কারো নামে ‘পীর’ শব্দ থাকলেই তার মুরিদ হওয়া যায় না। কারো নামে ‘নিজাম’ থাকলে তাকে ‘হায়দরাবাদের নিজাম’ মনে করা হয় না। ‘দলের ক্যাডার’ বললে বুঝা যায় রাজনৈতিক ‘মাস্তান’দের। আর ‘প্রশাসনের ক্যাডার’ বললে বুঝা যায় বিসিএস অফিসারদের। দলের নামে কৃষক শ্রমিক থাকলে দলনেতাকে কৃষক বা শ্রমিক হতে হয় কি? প্রয়োগ নিয়ে অর্থ করা হয়। কিছুকাল আগে আওয়ামী লীগ কাদের সিদ্দিকীকেও ‘রাজাকার’ বলেছিল। কিন্তু জনগণ ভালোই জানে, কে মুক্তিযোদ্ধা, আর কে রাজাকার।
কারো অবদানের স্বীকৃতি না দিলে ইতিহাস থেকে তার নাম মুছে যাবে না। ক্ষমতাসীন মহল জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকার করে না। এতে কিছু যায় আসে না। কারো অবদানের কথা প্রতিদিন প্রচার করতে হয় না। অসামান্য অবদানের মাধ্যমে জিয়া জনগণের অন্তরে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তার জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। শ্রদ্ধা জোর করে পাওয়া যায় না। এটা অন্তরের অনুভূতির বিষয়। জিয়া অস্ত্র হাতে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে একটি সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন এবং যুদ্ধে অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। তিনি ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। কারো অবদান স্বীকার না করা হীনম্মন্যতা। সত্য চিরদিন চাপা থাকে না। একদিন প্রকাশ পাবেই। হ
মাসুদ আহমেদ
বেলাব, নরসিংদী


আরো সংবাদ



premium cement