১২ নভেম্বর ২০১৯

বাবরি মসজিদের জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের ব্লুপ্রিন্ট চূড়ান্ত!

-

ভারতের অযোধ্যায় মোগল আমলে তৈরি একটি মসজিদের জমির মালিক কারা আজ শনিবার সেই বিতর্কের নিষ্পত্তি করবে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ঘোষণা করা হয়েছে যে সকাল সাড়ে দশটায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবে।

বিতর্কিত জমিটি নিয়ে নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের হওয়ার ঠিক ৭০ বছর পরে অবশেষে রায় দিচ্ছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

রায়ে কী হবে তা আজ শনিবার জানা যাবে। তবে এর আগেই অযোধ্যার বিতর্কিত ওই জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য নির্মোহী আখড়া এবং শঙ্করাচার্য কে নিয়ে নির্মাণ কমিটি গঠন করেছে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। মন্দির নির্মাণ কিভাবে হবে তার ব্লুপ্রিন্ট ও ইতিমধ্যেই তৈরী করে ফেলেছে হিন্দু মহাসভা। এমনকি ভেতরে রাম সীতা লক্ষণ এবং হনুমানজীর মূর্তি কিভাবে নির্মাণ করা হবে তারও পরিকল্পনা প্রায় শেষ হিন্দু মহাসভার ।

শুক্রবার ভারতীয় গণমাধ্যম ধৈনিক যুগশঙ্খকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হিন্দু মহাসভার সভানেত্রী রাজশ্রী চৌধুরী জানান, অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে প্রথম থেকে আন্দোলনে আসা নির্মোহী আখড়া এবং হিন্দু ধর্মের প্রধান শঙ্করাচার্য ও হিন্দু মহাসভা এই তিন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন একযোগে একটি নির্মাণ কমিটি গঠন করছে এবং সমস্ত হিন্দু ধর্ম সংগঠনগুলিকে এই নির্মাণ কমিটিতে যোগদান করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে যাতে সবার মধ্যে একটা সুষ্ঠু সমন্বয় ঘটে এবং রাম মন্দির নির্মাণে আর কোন বাধা বা সমস্যার তৈরি না হয়। কিভাবে নির্মাণ হবে রাম মন্দির তার ব্লুপ্রিন্ট ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছে হিন্দু মহাসভা ।

এই প্রসঙ্গে রাজশ্রী জানান সেই প্রথম দিন থেকে আমরা এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত। তাই মন্দির কিভাবে নির্মাণ করবো বা মূর্তি কিভাবে নির্মাণ করা হবে তার পরিকল্পনা করা হয়ে গেছিল অনেক আগেই। বর্তমানেও আমি বহু সাধু মহারাজ এবং পারদর্শী ব্যক্তিবর্গ অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করেছি এবং এখনও করছি। আমাদের পরিকল্পনা এই মন্দিরটা আমরা নির্মাণ করবো এত সুন্দরভাবে যে সারা পৃথিবীতে রাম মন্দির একটা দ্রষ্টব্য বস্তু হয়ে থাকবে। যেমন খ্রিস্টানদের কাছে ভ্যাটিকান সিটি, মুসলিমদের কাছে মক্কা-মদিনা, সেরকমই হিন্দুদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান হবে এই অযোধ্যায় রাম মন্দির। মূল্যবান সেমি প্রিসিয়াস পাথর দিয়ে মন্দির নির্মাণ করব আমরা। মন্দিরের দেয়ালে পাথর কেটে খোদাই করে অঙ্কিত করা হবে রামলীলার সকল কাহিনী। ভিতরে শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি তৈরি হবে পান্না রঙের পাথর দিয়ে, রুবি পাথর দিয়ে তৈরি হবে সীতার মাতার মূর্তি লক্ষণ এর মূর্তি তৈরি করা হবে নবরত্ন দিয়ে, এবং প্রবল দিয়ে বানানো হবে হনুমানজীর মূর্তি। এবং প্রত্যেকটা মূর্তিকে ভূষিত করা বহু মূল্যবান রত্ন আভরণে।

আমি অনেক ইতিহাস , পুরান, বহু ধর্ম গ্রন্থ সহ বহু প্রামাণ্য নথি নিজে চর্চা করেছি এবং সেখান থেকে একটা ধারণা নিয়ে ও পণ্ডিতদের সাথে কথা বলেই মূর্তির নির্মাণের রূপরেখা তৈরিি করেছি আমরা। কারণ আমরা চাই এই অযোধ্যা রাম মন্দির শুধু এশিয়ার মধ্যে নয় সারা বিশ্বে একটা দ্রষ্টব্য স্থান হোক এবং হিন্দু ধর্মের ধারক ও বাহক হয়ে থাকুক চিরকাল। এই কারণে সুপ্রিম কোর্টের রায় বেরোনোর পর আর এক মুহূর্ত আর সময়় নষ্ট করতে রাজি নই আমরা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রর নিয়ে মন্দির নির্মাণ শুরু করে দিতে চাই আমরা এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছি রায়় ঘোষণার দিনের দিকে।

সূত্র : দৈনিক যুগশঙ্খ


আরো সংবাদ