Naya Diganta

সুবর্ণজয়ন্তীতে লীনু বিল্লাহর বড় প্রাপ্তি

একজন লীনু বিল্লাহ, একজন দেশবরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও বটে। মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর-২-এর অধীনে তিনি সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। একজন লীনু বিল্লাহ আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনের গর্ব, আমাদের দেশের গর্ব। অথচ তার জীবনে প্রাপ্তি বলতে তেমন কিছুই নেই। গুণী এই ব্যক্তিত্ব অনায়াশে স্বীকার করেন যে, জীবদ্দশায় দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী দেখতে পারাটাই অনেক বড় প্রাপ্তি। লীনু বিল্লাহর কণ্ঠেই প্রথম দেশের সাড়া জাগানো দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার বাংলা মা তোর’ গানটি প্রথম শুনতে পায় এ দেশের শ্রোতারা। ১৯৭২ সালের ১০ মার্চ প্রথম এই গান প্রচারিত হয়। গানটি লেখা আবুল ওমরাহো মো: ফখরুদ্দিনের এবং সুর করা আলাউদ্দিন আলীর। বাংলাদেশ টেলিভিশনে গানটি প্রচারিত হয়েছিল। এ গান তখন সারা দেশে বেশ সাড়া ফেলেছিল। পরে এই গান সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠেও বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সাবিনা ইয়াসমিন এই গানটি গেয়েছিলেন ‘এক ঝাঁক বলাকা’ সিনেমার জন্য। অবশ্য সিনেমাটি পরে মুক্তি পায়নি। পরে লীনু বিল্লাহ মনিরুজ্জামান মনিরের কথায় আলাউদ্দিন আলীর সুরে ‘আমি আজ হেরে গেলাম’, ‘কান্না আমার বন্যা হয়ে’ লেখা হেদায়েত হোসেন, সুর আলাউদ্দিন আলী), ‘অন্য জীবন অনন্য মন’ (লেখা মনিরুজ্জামান মনির, সুর আলাউদ্দিন আলী), আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুরে এস এম হেদায়েতের লেখা ‘গীতি কেমন আছো’, মনিরুজ্জামান মনিরের লেখা ও আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুরে ‘কেন দেরি করে এলে বন্ধু’, ‘অন্তর আমার করলাম নোঙর’সহ শেখ সাদী খান, লাকী আখান্দসহ আরো অনেকের সুরে গান করেছেন তিনি। পঞ্চাশেরও বেশি মৌলিক গান আছে লীনু বিল্লাহর কণ্ঠে। নুরুজ্জামান শেখের লেখা ও আলাউদ্দিন আলীর সুর করা জাফর ইকবাল, শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া ‘যেভাবেই বাঁচি বেঁচে তো আছি’ গানটি তৃতীয়বারের মতো লীনু বিল্লাহর কণ্ঠে বিশেষত দ্বিতীয় অন্তরায় এক অন্যরকম রূপ পায়। যা শ্রোতাদের মাঝে ভীষণ ভালোলাগার সৃষ্টি করে। লীনু বিল্লাহ জানান, তার প্রকাশিত অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘বেস্ট অব লীনু বিল্লাহ’, ‘গীতি কেমন আছো’, ‘কথা আছে’। মুক্তিযোদ্ধা এবং শিল্পী হিসেবে জীবনের প্রাপ্তি প্রসঙ্গে লীনু বিল্লাহ বলেন, ‘এ কথা আমার নয়, কয়েকজন সাহিত্যিকের কথা যে- স্বাধীন দেশ জীবিত মুক্তিযোদ্ধা দেখতে চায় না।