Naya Diganta

এনআইডি নম্বরকে খতিয়ান নম্বর করে ম্যাপ প্রকাশের প্রস্তাব

এনআইডি নম্বরকে খতিয়ান নম্বর করে ম্যাপ প্রকাশের প্রস্তাব

বিদ্যমান ভূমি ব্যবস্থাপনায় সারা দেশে জমির মালিকের সংখ্যা জানার সুযোগ নেই। কার নামে কোন কোন স্থানে কত পরিমাণ জমি আছে সেটিও জানা প্রায় অসম্ভব। ভূমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ লেগেই আছে। জবরদখল, জাল দলিল করে অন্যের জমি আত্মসাৎ করার ঘটনাও নিত্যদিনের। এমন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দেশের জেলার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়নের মডেলে ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে জাতীয় জিআইএসএর মাধ্যমে জরিপকার্য পরিচালনা করে এনআইডি নম্বরকে একটি খতিয়ান নম্বর হিসেবে ডিজিটালি ম্যাপসহ প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার। আগামী মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া ডিসি সম্মেলনে এমন প্রস্তাব উপত্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবের সপক্ষে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে প্রত্যেক ব্যক্তির নিষ্কন্টক জমির মালিকানা নিশ্চিত হবে। সারা দেশের জন্য অভিন্ন ডিজিটাল খতিয়ান প্রস্তুত করা যাতে এইক ব্যক্তিকে মাত্রাতিরিক্ত সম্পদ অর্জনে জবাবদিহির মধ্যে আনা যায়। প্রত্যেক ব্যক্তি তার এনআইডি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি একাউন্টের মালিক হবে এবং জমির মালিকানা বদল হলে ডিজিটালি তার জমির পরিমাণ ডেবিট/ক্রেডিট হবে। এনআইডি ব্যবহারের মাধ্যমে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে জমির বণ্টনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা যাবে। সরকারি জমি চিহ্নিত করার মাধ্যমে খাস জমির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এ ছাড়াও বিছিন্নভাবে জরিপের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় সীমানা দ্বন্দ্ব বাড়ছে ছাড়া কমছে না। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে জিআইএসের মাধ্যমে প্রায় নিভর্ুুলভাবে জরিপ করা সম্ভব হবে।


সরকারি খাস জমি সংরক্ষণের জন্য অর্থনৈতিক খাত সৃষ্টির প্রস্তাবনা দিয়েছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক। প্রস্তাবের পক্ষে তিনি বলেন, সরকারি খাস জমি রক্ষণাবেক্ষণ একটি চ্যালেঞ্জিং এবং নিয়মিত কাজ। যেকোনো মামলায় সরকার পক্ষে রায় হওয়ার পর সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে দখলের প্রয়োজন অন্যথায় পুনরায় বেদখল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণপূর্বক সরকারি জমিতে বৃক্ষরোপণ করলে বনায়ন কার্যক্রমও সম্পন্ন হয় এবং সরকারি জমি বেদখল রোধ করে দখল নিশ্চিত হয়। খাস জমিতে সাইনবোর্ড লাগানো, গাছ লাগানো, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ইত্যাদি বিষয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) গণকে অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।


প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার। প্রস্তাবের পক্ষে তিনি বলেন, প্রতি ইউনিয়নে একটি করে ভূমি অফিস থাকার নীতি থাকলেও সিলেট বিভাগে মোট ৩৩৮টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ১৫২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে ভূমি অফিস না থাকায় রাজস্ব প্রশাসনে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সম্পাদনে গতিশীলতা সৃষ্টি হচ্ছে না। ভূমি উন্নয়ন কর আদায় এবং ভূমির রেকর্ড হালনাগাদকরণে নানাবিধ সমস্যা হচ্ছে।


সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি, ২০০৯-এর ৫(১) এবং ৫(৫) নম্বর ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন গাইবান্ধা ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক। প্রস্তাবের পক্ষে তারা বলেন, সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি, ২০০৯ এর ৫ (১) নম্বর ধারা অনুসারে নিকটবর্তী বা তীরবর্তী সমিতি বিবেচনায় কম মূল্যে ইজারা প্রদানের কারণে রাজস্ব হ্রাস পায়। কোনো কোনো জেলা/উপজেলায় নিবন্ধিত সমিতির তুলনায় জলমহালের সংখ্যা বেশি থাকে। সে ক্ষেত্রে নিবন্ধিত সমিতিগুলো সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি ২০০৯ এর ৫(৫) নম্বর ধারা মতে দু’টির বেশি জলমহালের জন্য আবেদন করতে না পারায় এ রকম ক্ষেত্রে বেশ কিছু জলমহাল ইজারা প্রদান করা যায় না। এ ক্ষেত্রে খাস কালেকশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের কারণে সরকারি আদায় হ্রাস পেয়ে থাকে। ফলে রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে বর্ণিত বিধান সংশোধন করা প্রয়োজন।

হাট-বাজার সম্প্রসারণে অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চান রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার। প্রস্তাবের পক্ষে তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৫ সালের ৭ অক্টোবরের পরিপত্রের ২(১০) অনুচ্ছেদে পেরিফেরিভুক্ত হাটের সম্পত্তি সম্প্রসারণের ফলে নতুনভাবে পেরিফেরিভুক্ত হাটের সম্পত্তি সম্প্রসারণের ফলে নতুনভাবে পেরিফেরিভুক্ত করতে হলে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণের কথা বলা হয়েছে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থ হাট বাজারের উন্নয়ন তহবিল থেকে পরিশোধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ তহবিলে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ অপ্রতুল বিধায় বর্তমান বাজার মূল্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয় না। ফলে নতুনভাবে পেরিফেরিভুক্ত করাও সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে হাটবাজার ইজারার অর্থ হতে ৭-ভূমি রাজস্ব খাতে জমাকৃত অর্থ হতে অধিগ্রহণের সময় ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরাদ্দ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।