Naya Diganta

নতুন শনাক্ত ১৪.৭৯ শতাংশ : সুস্থ হচ্ছে ৮২ শতাংশ

বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জনে ১৪.৭৯ জন নতুন করোনায় শনাক্ত হচ্ছে। অন্য দিকে আক্রান্ত ১০০ জনে সুস্থ হচ্ছে ৮২.০২ জন। গতকাল মঙ্গলবার দেশে নতুন করোনা আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ২৯৩ জন এবং মারা গেছে ৩১ জন। মৃতদের ১৪ জন নারী এবং অবশিষ্টরা পুরুষ। করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৬০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সীদের সংখ্যা ১৯ জন এবং ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের সংখ্যা সাতজন। মৃতদের সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ২৩ জন। করোনায় গতকালকের মৃত ব্যক্তিদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।
বাংলাদেশে তেমন শীত পড়েনি এখনো। তবু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, মূলত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালন না করায় করোনা আক্রান্ত বাড়ছে। বাইরে বের হলে মাস্ক পরা, বাইরের কোনো কিছু হাতের স্পর্শে এলে নাক-মুখে হাত দেয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। পানি ও সাবান না পেলে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। এই অভ্যাসগুলো ভালোভাবে চর্চা করলেই করোনা সংক্রমণ অনেক কমে যাবে। সাধারণত মানুষ বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে। রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলেই কেবল হাসপাতালে নেয়া হয়। যে কারণে এখনো রাজধানীতে শুধু করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত এক হাজার ১৯৫টি হাসপাতাল শয্যা খালি রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত রাজধানীতে ভর্তি ছিল দুই হাজার ২০৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে আইসিইউ শয্যা খালি আছে ৯০টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে করোনার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ২০৯ জন এবং শয্যা খালি আছে ৫৩১টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৩৯টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে ২০টিই খালি ছিল গতকাল পর্যন্ত। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে গতকাল সারা দেশ থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১৫ হাজার ৯৯৬টি এবং পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৫০১টি। গতকাল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা ছিল চার লাখ ৬৭ হাজার ২২৫ জন।
চট্টগ্রামে আরো ১৯৯ জন শনাক্ত
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে গত একদিনে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১৯৯ জন। এদের মধ্যে ১৭৮ জন নগরের ও ২১ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। মোট এক হাজার ৬৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এসব নতুন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: শেখ ফজলে রাব্বি জানান, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত শনাক্ত ২৫ হাজার ৩৩৪ জনের মধ্যে ২০ হাজার ১১৬ জন নগরের ও ছয় হাজার ২১৮ জন বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের বাসিন্দা।
সিভিল সার্জন জানান, গত সোমবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নমুনা পরীক্ষা করে ৪০ জনের, ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে ২২ জনের, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ৪৩ জনের ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আটজনের, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের একজনের, ইমপেরিয়াল হাসপাতালে ২৩ জনের ও শেভরনে ২৮ জনের, মা ও শিশু হাসপাতালে ১৪ জনের এবং জেনারেল হাসপাতাল রিজিওন্যাল টিউবারকুলোসিস র্যাফারেল ল্যাবরেটরিতে ২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
রাজশাহীতে একজনের মৃত্যু
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে করোনাভাইরাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাজশাহীতে মৃত্যু হয় তার। এ নিয়ে রাজশাহীতে করোনাভাইরাসে মোট ৫২ জনের মৃত্যু হলো। গতকাল মঙ্গলবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ল্যাবে মোট ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত সোমবার পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জনের করোনা পজিটিভ হয়। রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: সাইফুল ফেরদৌস সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাদের ল্যাবে এ দিন রাজশাহীর মোট ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি নমুনার করোনা পজিটিভ এবং ৭০ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। নমুনা বাতিল হয়েছে ১০টি।
বাজিতপুরে ২ চিকিৎসকসহ ৩ জন আক্রান্ত
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই চিকিৎসকসহ তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন পুরুষ এবং একজন নারী রয়েছেন। গত সোমবার রাতে বাজিতপুর হাসপাতালের ডা: তাহলিল হোসেন শাওন নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নতুন আক্রান্ত তিনজনসহ এ পর্যন্ত উপজেলায় সর্বমোট ২৮২ জন আক্রান্ত হলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলায় মোট ২৬৬ জন করোনা মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে উপজেলায় ১১ জন আক্রান্ত ব্যক্তি তাদের নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।