২২ মে ২০২২
`

শুরুতে দর পতন হলেও দিন শেষে বড় উত্থান

ডিএসইর সূচক বেড়েছে ৮৯ পয়েন্ট
-

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মতবিরোধের জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে বড় দরপতন দেখা দেয়। তবে পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক আয়োজনের খবর আসার পর পতন কাটিয়ে বড় উত্থানে ফিরে। গতকাল দিনের লেনদেন শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব কটি সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনও।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই শেয়ারের দাম কমিয়ে বিক্রির প্রস্তাব দেন বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ। ফলে লেনদেনের শুরুতে অংশ নেয়া প্রায় সব কটি প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়। এতে প্রধান মূল্যসূচক ৮৬ পয়েন্ট কমে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। তবে লেনদেন চলাকালেই সংবাদ আসে পুঁজিবাজার নিয়ে আগামী ৭ ডিসেম্বর বৈঠক ডেকেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে শুরুর পতনের ধাক্কা কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে শেয়ারবাজার।
লেনদেনের শেষদিকে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় সূচকের বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৯৩৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্প//////ানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৬৩৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৪৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
দিনভর ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২০৮ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৮টির। আর ৪৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৪৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় এক হাজার ১০২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১৪২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১৫৬ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওয়ান ব্যাংকের ৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৫৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক।
ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑ পাওয়ার গ্রিড, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনালী পেপার, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, আইএফআইসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্স।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৫৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৬৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৫টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এর আগে একাধিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়ায় কয়েক দিন ধরেই দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন চলছিল। টানা আট দিনের দরপতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৩৮৮ পয়েন্ট পড়ে গেলে গত মঙ্গলবার বৈঠকে বসে এই দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বৈঠক শেষে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড নিয়ে কিছু আইনগত অস্পষ্টতা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিএসইসি-বাংলাদেশ ব্যাংক উভয়পক্ষ এ বিষয়ে আন্তরিক। আমাদের কারো সঙ্গে কারো কোনো মতবিরোধ নেই। তিনি বলেন, বৈঠকে আমার মনে হয়েছে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক খুবই আন্তরিক। যে কারণে তারা বন্ডে বিনিয়োগকে বিনিয়োগ সীমার বাহিরে রাখার অঙ্গীকার করেছেন। এ ছাড়া বিনিয়োগ সীমা গণনায় বাজার দরের পরিবর্তে কস্ট প্রাইসকে বিবেচনায় নেয়ার যে দীর্ঘদিনের চাহিদা রয়েছে, সেটাও তারা সমাধান করবেন। এ জন্য যা করণীয় তারা তাই করবেন।
বিএসইসির পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসার পর বুধবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১৪৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে সন্ধ্যার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, শেয়ারবাজারে তফসিলি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩-এ শেয়ারবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের বিষয়ে বিদ্যমান কিছু আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়ে বিএসইসির প্রতিনিধিদলকে স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সভার পরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রতিনিধির বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ওই সভার কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আসার পর শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্র“পে বিনিয়োগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্কের চিত্র উঠে আসে। আর বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়।


আরো সংবাদ


premium cement