২২ জানুয়ারি ২০২১
`

৫১ দিনে ঢামেক করোনা ইউনিটে ৭৮০ মৃত্যু

-

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১ মাস ২১ দিনে ৭৮০ জন মারা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ইউনিটে নতুন করে আরো ১৮ জন মারা গেছে। এদের মধ্যে করোনাভাইরাস পজিটিভ ৩ জন পুরুষ এবং ১ জন নারীসহ ৪ জনের। অন্যরা করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃতদের সবাইকেই করোনা সন্দেহে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল আসার আগেই এরা মারা যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর পরীক্ষা হয়। সে ক্ষেত্রে করোনা পজিটিভ হলে তাদেরকে করোনায় মৃত হিসেবে ধরা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঢামেক হাসপাতালে গত ২ মে থেকে শুরু হয় করোনা ইউনিটে ভর্তি কার্যক্রম। এখানে প্রতিদিনই রোগী ভর্তি হচ্ছে। রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এরমধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। আবার অনেকে মারা যাচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে নারী ও পুরুষ মিলে ৭৮০ জন মারা গেছে। এই হিসাব শুধু ভর্তির পর যারা মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে করোনা পজিটিভ হিসেবে ১৮৯ জনের কথা উল্লেখ করা হয়। বাকিরা মারা গেছে উপসর্গ নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৃতদের সবাইকেই করোনা সন্দেহে করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এদের হয়তো জ¦র, কাশি বা শ^াসকষ্ট থাকে। এসব উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসার পর তাদেরকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। এই উপসর্গ নিয়েই তাদের মৃত হয়। কিন্তু পরীক্ষায় তাদের করোনা নেগেটিভ পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাক্তার বলেন, উপসর্গ নিয়ে আসলেই যে তিনি করোনা রোগী হবেন তা কিন্তু নয়। উপসর্গ থাকলেও পজিটিভ নাও হতে পারে। কিন্তু তারপরেও তারা করোনা ইউনিটেই ভর্তি থাকেন।
ঢামেক হাসপাতালের মর্গ অফিসের ওয়ার্ড মাস্টার আব্দুল গফুর মঙ্গলবার বিকেলে এই মৃত্যুর বিষয়গুলো নিশ্চিত করে তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে নতুন করে আরো ১৮ জন মারা গেছে। এদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ এবং ১ জন নারীসহ ৪ করোনা পজিটিভে মারা যান। আমাদের এই হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য শিশু করোনা ইউনিটসহ ৩টি ইউনিট চালু করা হয়েছে। এখানে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসার জন্য ২৪ ঘণ্টাই খোলা রয়েছে। করোনা রোগী ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রতি দিনই আপডাউন করছে। করোনা ইউনিটে সার্বক্ষণিক রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। যারা করোনাভাইরাসে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন তাদের লাশগুলো আত্মীয়স্বজনের কাছে পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর করোনা পজিটিভে যারা মারা গেছে তাদের লাশ বিধিমোতাবেক তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।



আরো সংবাদ