২৫ মে ২০২০

আশুলিয়ায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনের অংশের স্থাপনা ভাংচুর

আশুলিয়ায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনের প্রবেশ গেটের দু’পাশের স্থাপনা রাতের আঁধারে ভাংচুর করা হয়। - নয়া দিগন্ত

আশুলিয়ায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনের প্রবেশ গেটের দু’পাশের সামনের স্থাপনা ভাংচুর হয়েছে। কে বা কারা এ ভাংচুর করেছে এ সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে পারেনি কেউ। তবে এ জমি দীর্ঘদিন যাবৎ দখলে থাকাবস্থায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ভোগ দখল করে আসছে এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র পিএইএ ভবনে প্রবেশের জন্য সুবিশাল নান্দনিক গেট নির্মাণ করেছিল গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। গত বছর উল্লেখিত গেটের দু’পাশের জমিখন্ড আওয়ামীলীগের সাভার উপজেলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন পিএইচএ ভবনের নান্দনিক গেটটি ভেঙ্গে দখল করে নেয়। দখলকৃত জমিতে দু’টি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া প্রদান করে। এ ঘটনায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

এ অবস্থায় বুধবার রাত আনুমানিক আড়াইটায় বুলডোজার ও ভেকু নিয়ে অজ্ঞাত ৫০/৬০ জন লোক এই অবৈধ স্থাপনা ভাংচুর করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল ফুড প্যালেস এন্ড পার্টি সেন্টারের ম্যানেজার আজহারুল ইসলাম বলেন, রাত আড়াইটায় গণস্বাস্থ্যের পিএইচএ ভবনের গেট সংলগ্ন তার হোটেলে ৫০/৬০ জন লোকের দল বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে হোটেলের ভৌত অবকাঠামো সহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়। ঘটনাটি তাৎক্ষনিকভাবে হোটেলের মালিক সাজ্জাদ হোসেন সজেদকে জানালে তিনি ওই রাতে তার বাসার ভাড়াটিয়া নাজমুলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় তিনি বাঁধা দিলে তাকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে বেদম মারধর করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে সে ব্যাপারে কাউকে সে চিনতে পারেননি বলেও জানান।

তবে গণস্বাস্থ্যের সাথে জমি সংক্রান্ত মামলা ও অনেক ঝামেলা রয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা নাসির উদ্দিনের। এ বিরোধকে কেন্দ্র করেই হয়তো বা কোন পক্ষ এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে সকালে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে কে বা কারা এ হামলা করেছে এ ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ থানায় কোন পক্ষই দায়ের করেনি বলে জানিয়েছেন থানার ইন্সপেক্টর(তদন্ত) মাসুদ পারভেজ।

জানতে চাইলে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিশির বলেন, পিএইচএ ভবনের গেট ও দু’পাশের জমি দীর্ঘদিন যাবৎ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ভোগ দলখ করে আসছে। গত বছর নাসির উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী গংরা একযোগে হামলা চালিয়ে পিএইএ ভবনের নান্দনিক গেটটি ভেঙ্গে ফেলে এবং দু’পাশের জমি জোরপূর্বক দখলে নেয়। এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল কলেজের আবাসিক নারী হলে হামলা চালিয়ে তাদেরকে বের করে দেয়। ওইসকল নারী শিক্ষার্থীদের মালামাল লুট করে নেয়। এমনকি পিএইচএ ভবনে হামলা চালিয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ ঘটনায় গণস্বাস্থ্য আদালতে মামলা করে। পাশাপাশি জমি সংক্রান্তও একটি মামলা দায়ের করে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পাথালিয়া মৌজায় জমি ক্রয় করে। আর নাসির উদ্দিন জমি ক্রয় করেন বাঁশবাড়ি মৌজায়। পাথালিয়া মৌজার জমি হলো রাস্তার পশ্চিম পাশে যা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা এবং পিএইচএ ভবনে প্রবেশের রাস্তাটিও পশ্চিম পাশে। আর রাস্তার পূর্ব পাশে হলো-বাঁশবাড়ি মৌজা। ওই মৌজায় নাসির উদ্দিন নাকি জমি ক্রয় করেছেন। অথচ জোরপূর্বক সে রাস্তার পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে প্রবেশ করে গেট ভাংচুর করে পাথালিয়া মৌজার প্রায় সোয়া আট শতাংশ জমিতে স্থাপনা তৈরি করেন। যার আদৌ কোন মালিকানার ভিত্তি নেই। এ জমি সংক্রান্ত ঘটনার মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সেখানে পাথালিয়া মৌজার প্রয়োজনীয় সংখ্যক জমির মালিকানার কোন কাগজ-পত্র নাসির উদ্দিন পেশ করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি রাতের আঁধারে ফৌজদারি অপরাধ ঘটিয়ে গণ স্বাস্থ্য ও গণবিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উল্টো মামলায় ফাঁসানোর পাঁয়তারা করছে এবং হুমকি দিয়েছে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মূর্তজা আলী বলেন, মামলায় হেরে যাওয়ার ভয়ে নাসির উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী গংরা একের পর এক সাজানো মামলা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হয়রানী করছে। গণস্বাস্থ্য একটি ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের জমি-জমা ও গাছ পালা কেটে নিয়ে নাসির উদ্দিন গংরা অবৈধভাবে দাবিদার সেজে অবৈধ আয়ের পথে লিপ্ত রয়েছেন। তারা একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, বয়োবৃদ্ধ ট্রাস্টি ডাঃ জাফরুল্লাহ সহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মামলা দিয়ে হয়রানি ও তাদের সুনাম ক্ষুন্নের চেষ্টা করছে চিহ্নিত নাসির উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী গংরা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশকে ম্যানেজ করে এ অবৈধ কর্মকান্ডে তারা লিপ্ত রয়েছে। যা একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য শুভ নয়।

জানতে চাইলে, আশুলিয়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাসুদ পারভেজ বলেন, ভাংচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোন পক্ষই এ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ থানায় দেয়নি।

 


আরো সংবাদ





maltepe evden eve nakliyat knight online indir hatay web tasarım ko cuce Friv gebze evden eve nakliyat buy Instagram likes www.catunited.com buy Instagram likes cheap Adiyaman tutunu