১৩ জুন ২০২১
`

ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ : মিশা সওদাগর

ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ : মিশা সওদাগর - ছবি - সংগৃহীত

বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান খল অভিনেতা মিশা সওদাগর। আট শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি তিনি। করোনাভাইরাসের মধ্যে তার দিনকাল এবং বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেছেন নয়া দিগন্তের সাথে। লিখেছেন আলমগীর কবির


করোনার কারণে মহাসঙ্কটের মধ্য পড়েছে চলচ্চিত্র। এ বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
আমি আসলে এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। যে বিষয়ের সমাধান আমার কাছে নেই সেটি নিয়ে বলে কোনো লাভ নেই। প্রতিদিন টেলিভিশনে টকশো হচ্ছে। কেউ না কেউ এসব নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু এতে লাভ কী হচ্ছে। আমার তো মনে হয় তিন হাজার, পাঁচ হাজার টাকার খাম ছাড়া ওই সব টকশোতে আলোচকদেরও কোনো কিছু পাওয়ার থাকে না। বর্তমানে সিনেমা হল আছে মাত্র ৩০টি, তাও সিনেমা নেই, প্রযোজক নেই, প্রযোজনা সংস্থা নেই। আগে প্রোডাকশন হাউজের নাম শোনে বলে দেয়া যেত, তাদের ছবি চলবে। আমি ওই রকম ২০-২৫টি প্রোডাকশন হাউজের নাম বলে দিতে পারব এখনো। বর্তমানে তাদের হাতে নতুন কোনো সিনেমা নেই। আর শিল্পীদের কথা বলেন তো, কার ছবি এখন চলে? নির্ভর করা মতো একজনও পাবেন না। সুতরাং এসব নিয়ে কথা বলে লাভ কী?

ওসব নিয়ে কথা না বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আপনি এখন কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ ভালো রাখছেন। বয়স ৫৫ হয়ে গেছে, তাও সবার দোয়ায় ভালো আছি। চার দিকে এখন মহামারী চলছে এ অবস্থায় সুস্থ থাকাটা খুব দরকার। আমি মন থেকে ইসলাম ধর্মকে ধারণ করি এবং পালন করি। পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান করি। ইসলামই আমাকে এই শিক্ষা দিয়েছে। এদিক থেকে আমার মনে হয়, আল্লাহ আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে করোনাভাইরাস পাঠিয়েছেন। আমরা এখন নিজের সাথে কমিটমেন্ট রক্ষা করি না, সরকারের সাথে কমিটমেন্ট রাখি না। চার দিকে শুধু নৈতিকতার অবক্ষয়। আমাদের বিবেকবোধ কল্যাণের পথে জাগ্রত করার জন্য আল্লাহ আমাদের সাম্যের পথে, ন্যায়ের পথে আসার বার্তা দিয়েছেন করোনাভাইরাস দিয়ে।


এই বার্তার পর মানুষ কি সচেতন হচ্ছে বলে আপনার মনে হয়?
সচেতন হওয়ার দায়িত্ব ব্যক্তির নিজেকেই নিতে হবে। এখন প্রত্যেকেই বিভিন্ন চ্যানেলে কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহজলভ্য হওয়ার ফলে এ সুযোগটা সবাই পাচ্ছেন। এখন ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশী দেশ আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত। অথচ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এত তীব্র হয়েছে যে, সেখানে অক্সিজেনের অভাবে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছে। এগুলো দেখে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। তা না হলে কেউ রক্ষা পাবে না। রোজা রেখে ইফতারের আগে আমি দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমাদের হেদায়েত দেন।


আপনি তো করোনার মধ্যে লম্বা সময় দেশের বাইরে ছিলেন, দেশ ফিরলেন কবে আর যাবেন কবে?
গত ২১ মার্চ আমি দেশে এসেছি। হাতে জমে থাকা কিছু কাজও শেষ করেছি। আর যাওয়ার ব্যাপারটা আমি এখনো জানি না। কারণ আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে আমি নিউ ইয়র্ক এবং ট্যাক্সাস মিলিয়ে থাকি। ট্যাক্সাসের ডালাসে আমার বড় ছেলেটা পড়াশোনা করে।


করোনায় সম্প্রতি কবরী আপাসহ চলচ্চিত্রের অনেক গুণী মানুষকে বিদায় নিতে হয়েছে। তাদের সাথে কোনো স্মৃতির কথা আপনার মনে পড়ে?
বাংলাদেশের নাম নিলে যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম চলে আসে, তেমনিভাবে দেশের চলচ্চিত্রের নাম নিলে রাজ্জাক-কবরীর নাম আসে। কবরী আপা চলচ্চিত্র পরিচালনায় এসেছিলেন ’৭১-এর মিছিল’ নির্মাণের মাধ্যমে। ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য আপা আমাকে ডেকেছিলেন। আমার হাতে তখন অনেক কাজের শিডিউল ছিল। কিন্তু আপা বলা মাত্র রাজি হয়ে গেলাম। এর জন্য আমি কোনো পারিশ্রমিক নেইনি। আপা বেশ কয়েকবার আমাকে দিতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছি, আপনার ছবিতে আমাকে নিয়েছেন সেটাই আমার অনেক বড় সম্মানি। এককথায় তিনি ছিলেন অভিভাবকের মতো। আমি যখক শিল্পী সমিতির নির্বাচন করি কবরী আপা প্রকাশ্যে সবার কাছে ভোট চেয়েছেন। ওয়াসিম ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম দেখা একটি সিনেমার শুটিংয়ের আউটডোরে। ওনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। একদিন রাতে গাড়িতে বাসায় ফেরার সময় ওনি আমাকে বললেন, তোমার তো বাসায় গিয়েও অনেক কাজ। কথাটা ওনি বলেছিলেন, কারণ তিনি জানতে রাতে ফিরে নামাজের প্রস্তুতির জন্য এক ঘণ্টা লাগবে। তা ছাড়া ওয়াসিম ভাইয়ের ছোটভাই ফারহাদ ছিল আমার বন্ধু। ১৯৮৬ সালে নতুন মুখ বাছাই পর্বে আমরা দু’জনই নায়ক হিসেবে সিলেক্ট হয়েছিলাম। এ দিকে আলমগীর ভাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আজো (২৫ এপ্রিল) কথা হয়েছে তিনি এখন আগের চেয়ে ভালো। সানীর পরিবারের ও খোঁজখবর নিয়েছি।


শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তো ওমর সানী-মৌসুমী পরিবারের সাথে আমাদের কিছুটা দূরত্বের কথা শোনা গিয়েছিল।
আমি নেগেটিভ কোনো কিছু মনে রাখতে চাই না। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আমি সানীর সাথে কথা বলেছি, বাসায় গিয়ে মৌসুমীর সাথে কথা বলে এসেছি। আসলে শিল্পী সমিতির পদ তো বড় কথা নয়, আমরা সবাই আসলে শিল্পী এবং সহকর্মী। রিয়াজের সাথেও তো আমাদের তীক্ষè সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ও করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর ওর সাথেও কথা বলেছি।

সম্প্রতি আপনাদের কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পর তাদের লাশ কাঁধে গোরস্তানে যাওয়ার দৃশ্য দেখে বেশ ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এ উদ্যোগটি নিয়ে কিছু বলুন?
এ উদ্যোগটা আসলে আমাদের দায়িত্ববোধ থেকেই। একজন শিল্পী সারা জীবন চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রের কোনো প্রতিনিধি না থাকলে সেটি কেমন দেখায়। করোনার কারণে অনেক কোনো শিল্পী কবরী আপা কিংবা ওয়াসিম ভাইকে দেখতে আসতে পারেনি। করোনা না থাকলে হয়তো অনেকেই আসতেন। এ অবস্থায় আমি আর জায়েদ না গেলে পরিবারের লোকজন কী মনে করত।

আপনার সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কিছু বলুন?
এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেই শেষ করেছি ‘শান’ ছবির কাজ। তার পর কাজ শুরু করি ‘অমানুষ’ নামের একটি ছবি। নতুন লকডাউন শুরু না হলে এখন আমার ব্যস্ত থাকার কথা ‘রিভেঞ্জ’ ছবির কাজ নিয়ে। এ ছাড়া ‘প্রেম প্রিতি’ ও ‘আগুন’ নামের আরো দু’টি কাজ আমার হাতে রয়েছে।

 



আরো সংবাদ


ভিয়েনা আলোচনার সব পক্ষ সফল উপসংহারে পৌঁছাতে চায় রামেকে ২৪ ঘন্টায় আরো ১৩ জনের মৃত্যু সোনারগাঁওয়ে বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত নিলামে ২৩৮ কোটি টাকা দর হেঁকে মহাকাশ যাত্রার টিকিট জয় ‘গোলান মালভূমি মুক্ত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ ‘বাজেট প্রণয়নে এমপিদের অংশ নেয়ার সুযোগ ছিল না’ গণতন্ত্রের মর্যাদার সাথে বেমামান সরকারের কাজকর্ম : ভারতের সমালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এবার ফিলিস্তিনি নারীকে গুলি করে হত্যা করল ইসরাইলি সেনারা পাকিস্তান লিগের ম্যাচে মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ফ্যাফ দু’প্লেসি প্রথম সিঙ্গলস গ্র্যান্ডস্লাম জিতলেন ডাবলসের স্পেশালিস্ট ক্রিচিকোভা দুর্ধর্ষ বেলজিয়াম, পাত্তাই পেল না রুশ ব্রিগেড

সকল