২৫ মে ২০২২
`

দশমিনায় ১১ নেতার শোকজে তোলপাড়, দ্বিধাবিভক্ত উপজেলা আ’লীগ


পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকে নৌকার পক্ষে কাজ না করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার শোকজ করার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। শোকজের ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

এদিকে শোকজ পাওয়া নেতারা নৌকার পক্ষে মিছিল মিটিং উঠান বৈঠক করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন শোকজের।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ নভেম্বর দশমিনা সদর ও বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই দুটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেন। ওই নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ না করার অজুহাত দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহামুদ লিটন স্বাক্ষরিত শোকজের চিঠি উত্থাপন করা হয়।

শোকজ পাওয়া নেতারা বলেছেন, ওই চিঠি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাজি আবু বকর সিদ্দিক, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গৌতম রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট উত্তম কর্মকার, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মামুন সিকদার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন পালোয়ান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট অরূপ কর্মকারসহ ১১ নেতার নাম উল্লেখ করে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে শোকজ পাওয়া নেতাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শোকজ পাওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গৌতম রায় বলেন, ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে আমি দশমিনা সদর ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়নে নির্বাচন করে পরাজিত হই। সেই নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে টেলিফোন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন, সেই প্রতিহিংসার কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অপবাদ দিয়ে আমাকে শোকজ করা হয়েছে। আমি নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছি - তার বহু তথ্যপ্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।

দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আজীজ মিয়া বলেন, আমি শোকজের ব্যাপারে কিছুই জানিনা, পরে শুনেছি আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত ১১ নেতাকে শোকজ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, আমি জানি শোকজ পাওয়া নেতারা অন্য ইউনিয়নে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। হয়তো সেইভাবে তারা সদর ইউনিয়নের নির্বাচনে সময় দিতে পারেননি। রেষারেষির কারণে শোকজের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা বলেন, নৌকা প্রার্থীর বিপরীতে আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে শোকজের বিষয়টি কিছুটা বিশ্বাস করা যেতো, কিন্তু নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখার প্রার্থীর পক্ষে তারা কাজ করেছেন বা হাতপাখার প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন - এটা মোটেও বিশ্বাসযোগ্য না। দলীয় প্রতিহিংসার কারণে শোকজের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে হচ্ছে। তিনি জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানান।

‍উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিকদার গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে ওই ১১ নেতাকে শোকজ করা হয়েছে।


আরো সংবাদ


premium cement