২২ মে ২০১৯

‘টেররিজমেই’ কি মোদির লাভ ও ভরসা?

নরেন্দ্র মোদি - ফাইল ছবি

কাশ্মিরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের এক জেলা শহর পুলওয়ামা। সেই ‘পুলওয়ামা’ শব্দ এখন ভারত ছাড়িয়েও দেশে-বিদেশে বহুলালোচিত ঘটনা কী? গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামাতে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাক্রম খুবই পুরনো- ভারতের জন্মের সমান বয়সী নিরন্তর এক রাজনৈতিক অস্থিরতার নাম কাশ্মির; আর তাতে অসন্তুষ্ট কাশ্মিরি জনগণ। কাশ্মিরে সরকারের বলপ্রয়োগের মাত্রা কেমন তা বুঝাতে বলা হয়- সেখানে জনসংখ্যার চেয়েও বেশি জড়ো করা হয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। এই বিপুল সমাবেশ মানেই গণনিপীড়ন, হত্যা, গুম ইত্যাদি দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অজস্র ঘটনা। বিরাজ করছে রাজনৈতিক স্বাধীনতাহীন মারাত্মক পরিস্থিতি। আর এসবের বিপরীতে আছে গণ-আন্দোলন, এমনকি সশস্ত্র প্রতিরোধও।

এটাই ভারতের সরকারি ভাষ্যে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বা ‘সীমা পার কি আতঙ্কবাদ’। বলা হয়, ‘সব সমস্যা পাকিস্তান থেকে এসেছে; ভারত কিছু করেনি।’ যেন তাদের কাশ্মির নীতির কোনো নেতিবাচক ভূমিকা নেই। দেখে বোঝার বা জানার উপায় নেই এবং কেউ জানে না কাশ্মির নিয়ে ভারতের পরিকল্পনা কী। কাশ্মিরের সঙ্ঘাতের সমাপ্তি টানার পথ কী। সরকারি কড়া দমননীতিতে ভীতি ও সন্ত্রাস জারি রেখে কাশ্মিরে স্থিতিশীলতা কখনো আনা সম্ভব হবে না। আবার স্থানীয় জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দাঁড় করাতে সক্ষম হলেও সশস্ত্রভাবে ভারত সরকারকে পরাজিত করাও কোনো বাস্তবতা নয়। আবার কাশ্মিরের আর এক অংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত। সেই সূত্রে সেটাসহ পুরো কাশ্মির দখল করতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কোনো যুদ্ধে কেউ কারো কাছে পরাজিত হয়ে কাশ্মির সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, সে সম্ভাবনাও নেই। ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী। ফলে তাদের মধ্যে কোনো নির্ধারক যুদ্ধ নয়, একটা খুবই সীমিত ধরনের যুদ্ধই সম্ভব; যা আসলে আবার পারমাণবিক বোমা নিয়ে খেলা, এমনই ঝুঁকিপূর্ন।

এসব কিছু সত্ত্বেও বলপ্রয়োগের পথই একমাত্র উপায়, এমন বোধ ও নীতি আঁকড়ে বসে আছেন ভারতের শাসকেরা। বিশেষ করে বিজেপির মোদি সরকারের নীতি হলো, আরো হার্ডলাইন। এ কারণেই, যুক্তি-বুদ্ধিতে কাশ্মিরকে ভারতের অংশ দাবি করা কঠিন বলে বিজেপি মেনে নিচ্ছে। তাই কঠোর বলপ্রয়োগের পথ ধরেছে। আর মোদি সরকারের হার্ডলাইন নীতি মানে হলো- কঠোর বলপ্রয়োগ, দমন ও ভয়ের রাজত্ব কায়েম আর বাস্তবে মুসলমান মানেই অধস্তন বা আধা-নাগরিক, এসব নীতি ও অনুমানের ওপর দাঁড়ানো। এ ছাড়া, ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল করে দেবে বলে না বুঝে চিৎকার দেয়া বিজেপি তো আছেই।

ভারতের কনস্টিটিউশন কাশ্মিরের ওপরও প্রযোজ্য হওয়ার যে আইনি সূত্র, তা হলো আর্টিকেল ৩৭০ অর্থ বা বলা যায় কাশ্মির অন্যান্য রাজ্যের মতো ভারতের কোনো রাজ্য নয়, সেটা নেহরুর স্বীকার করে নেয়ার চিহ্ন। বরং বিশেষ স্বাধীন স্ট্যাটাসের অধিকারী এক রাজ্য কাশ্মির, যার নিজের আলাদা কনস্টিটিউশন ও পতাকা আছে, এই বিশেষ স্ট্যাটাসের কথাগুলোর স্বীকৃতি আছে ওই আর্টিকেলে। ফলে মোদির বিজেপির সরকার আর্টিকেল ৩৭০ মানে না বা বাতিল করে দেবে অথবা আর্টিকেল ৩৭০ একটা অস্থায়ী প্রভিশন তাই এটা এখন বাতিল ইত্যাদি, যা দাবি বিজেপির আছে তা অহেতুক ও অচল। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত বছর আর্টিকেল ৩৭০ একটা অস্থায়ী প্রভিশন, যা এখন অকার্যকর ইত্যাদি সব দাবি সংবলিত রিট নাকচ করে দিয়েছেন। তবুও তারা এতই একগুঁয়ে যে, এসব সত্ত্বেও এখনো বিজেপির সমর্থকেরা একই দাবি করে চলেছেন। এই হলো মোদির বিজেপি।

আমরা দেখছি, কাশ্মিরের আরেক বিষয় মোদির হাতে চালু হতে দেখা যাচ্ছে। উগ্র জাতীয়তাবাদ দেখানো বা উগ্র দেশপ্রেম প্রদর্শনের সবচেয়ে ভালো জায়গা বা ইস্যু হিসেবে কাশ্মিরকে ব্যবহার করা এর আগেও ছিল। এবার ভারতের আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা চার দিকে ফুটে ওঠায় বিজেপি নিজের ভাঙা ইমেজ খাড়া করার উপায় হিসেবে কাশ্মিরকে ব্যবহার করতে পুলওয়ামা ইস্যুকে মোদি ব্যবহার করলেন কিনা, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ভারতে এখন তুঙ্গে।

গত সপ্তাহে আমরা দেখেছি, ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রতিকূল নির্বাচনী ইস্যুগুলো সংখ্যায় বেশি। এ অবস্থায় এক বিদেশী গোয়েন্দা রিপোর্ট থেকে জানা- নির্বাচনের আগে পড়ে যাওয়া পাবলিক রেটিং চাঙা করতে সরকার কোনো পরিকল্পিত দাঙ্গা লাগাতে পারে, এমন আশঙ্কা বাড়ছিল। এবারের পুলওয়ামা ইস্যুটি হলো এক সুইসাইড বোমা হামলার ঘটনা। কিন্তু মোদি কি এ ঘটনাকেই নিজ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চেষ্টা করছেন, এই প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, এ কারণেই বিজেপি-আরএসএসের অঙ্গসংগঠনগুলো হামলার পরবর্তীকালে ভারত জুড়ে ‘পাকিস্তানের ওপর প্রতিশোধের হামলা’ করতে হবে বলে ধ্বনি তুলেছে। ভারতের যেকোনো সরকার জানে, পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ ভারতের জন্য কোনোই অপশন নয়। অপর দিকে কাশ্মিরি যারা ভারতের অন্যান্যে রাজ্যে ব্যবসা বা শিক্ষার সুযোগ নেয়া ইত্যাদি উদ্দেশ্যে আছেন বা এসেছেন [যেমন- দেরাদুনে যারা পড়তে এসেছেন অথবা কলকাতায় যারা ব্যবসা করতে এসেছেন] তাদের ওপর পরিকল্পিত উসকানি দিয়ে হামলা-করেছে বিজেপি। এতে মোদির উগ্র দেশপ্রেমের বয়ান যে নিতে চায়নি, অথবা উগ্রতা নরম করতে চেয়েছে- মোদির লোকেরা তাদেরকে দেশদ্রোহী আখ্যায়িত দিয়ে লাঞ্ছিত, অপমানিত ও পাবলিক লিঞ্চিং করেছে। এদিকে, জনমত সমীক্ষা করার কথিত এক উদ্যোগের মতে, ৩৬ শতাংশ লোক নাকি পাকিস্তানে এখন হামলার পক্ষে।

পুলওয়ামার ঘটনা সংক্ষেপে হলো, সিপিআরএফ বা সেন্ট্রাল পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এক বিশেষ পুলিশ বাহিনী। ট্রেনিংয়ের ধরন আর প্রাতিষ্ঠানিক গঠনের বিচারে এরা সেনাবাহিনী নয়; তবে আমাদের র‌্যাবের মতো তারাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে এক বিশেষ বাহিনী। সত্তরের দশকে ভারতে নকশাল আন্দোলন প্রবল হওয়ার মুখে বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মতো আক্রান্ত রাজ্যগুলোকে সহায়তা করতে বিশেষ ট্রেনিং দিয়ে ইন্দিরা সরকার এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছিল। তবে কোনো রাজ্যেই এ স্থায়ী উপস্থিতি নেই। কোনো রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে নিজের পুলিশের বাইরে অতিরিক্ত ফোর্সের সহায়তা চাইলে কেন্দ্রীয় সরকার কাছাকাছি কোনো আঞ্চলিক স্থায়ী ক্যাম্প থেকে এই বাহিনী পাঠিয়ে থাকে। ফলে প্রায় সব সময়ই মুভমেন্ট বা চলাচলের মধ্যে থাকে এই বাহিনী। তেমনি, ৮০টা বাসে করে প্রায় আড়াই হাজার সিআরপিএফ সদস্য পুলওয়ামা জেলা পার হওয়ার সময় সেই গাড়িবহরে আর একটা জিপ ঢুকিয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ৪০-এর বেশি জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত-নিহতের সংখ্যা দেখে যে স্বাভাবিক জন-অসন্তোষ, তাকে আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলতে মাঠে পরিকল্পিতভাবে নেমে পড়েছে বিজেপি-আরএসএসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলো যেমন- বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ইত্যাদি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাকেই দেখা গেল এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার। ওদিকে মোদির হিন্দুত্বের রাজনীতির ভয়াবহ প্রতিনিধির ভূমিকা দেখিয়েছেন তথাগত রায়। তিনি এখন মেঘালয় রাজ্য গভর্নর, ত্রিপুরার সাবেক গভর্নর এবং কলকাতা বিজেপির সাবেক নেতা ‘যা কিছু কাশ্মিরি, তা বয়কট করুন’- এই বলে গভর্নর আহ্বান জানিয়ে টুইট করেছেন। এর আগেও তিনি কাশ্মিরিদের কঠোর নির্যাতন-নিপীড়নের ভয় দেখিয়ে বাগে আনার পক্ষে ‘যুক্তি’ দিয়েছিলেন। গত ২০১৬ সালের এক বিবিসি রিপোর্টে তা দেখা যায়। রাজনীতিকদের মধ্যে একমাত্র মমতাকেই দেখা গেল বলতে যে, একজন গভর্নর কনস্টিটিউশনাল পদে থেকে কোনো একদল নাগরিকের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ান কী করে? তথাগত রায়ের দুর্ভাগ্য এমনই যে, মোদি সরকারের তথ্যমন্ত্রীও তার কাজের দায় নেননি। এ কাজের সাথে তিনি ‘একমত নন’ বলে জানিয়েছেন।

মমতা আরো কিছু মুখ্য প্রশ্ন তুলেছেন। হামলা হতে পারে- ‘মুখ্যমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন, ভোটের আগে ভারতজুড়ে দাঙ্গা লাগানো হতে পারে বলে মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়েছিল, তা কি ঠিক? আগাম খবর থাকা সত্ত্বেও কেন সেনা সরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়নি? কেন সিআরপিএফের অনুরোধ সত্ত্বেও এয়ারলিফট করা হলো না? এতবড় ব্যর্থতা কেন? এরপরও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হলো না কেন?’

এমন অভিযোগ ওঠাই স্বাভাবিক। কারণ যে হাইওয়েতে গাড়িবহরে হামলা হয়েছে, সেখানে কয়েক শ’ গজ পরে পরে চেকপোস্ট আছে, বলা হচ্ছে। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, গাফিলতি না থাকলে ৩৫০ কেজি বোমা নিয়ে একটা গাড়ি কিভাবে সেনা গাড়িবহরের ভেতরে ঢুকতে পারল? কংগ্রেসের প্রশ্ন- মোদি ৩৫০ গ্রাম গরুর মাংস সহজেই দেখতে পান, কিন্তু ৩৫০ কেজি আরডিএক্স দেখতে পান না কেন?

আমেরিকা প্রবাসী ভারতীয় অধ্যাপক সুমিত গাঙ্গুলীর লেখা ছাপিয়েছে আমেরিকার ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন। তিনি মোদি সরকারের কাশ্মির পলিসির ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি পরিসংখ্যান দেখিয়ে বলছেন, মোদির কঠোর কাশ্মিরি নীতির কারণেই এ আমলে হামলা ও মৃত্যুর সংখা বেড়েই চলেছে। আর তা দু’পক্ষেই, নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যায় আর কাশ্মিরি জনগণ বিশেষ করে মৃত তরুণের সংখ্যার ক্ষেত্রে।
কিন্তু এসবকে পাশ কাটিয়ে এটা ‘টেররিজমের সমস্যা’ বা পাকিস্তানের দায়-প্রশ্রয়ের দিকে আঙুল তুলে মোদি নিজের উদ্দেশ্য ও দায় এড়িয়েছেন। এই ঘটনায় কথিত হামলাকারী ‘আদিল আহমেদ দার’- তিনি ভারতীয় কাশ্মিরের পুলওয়ামার বাসিন্দা, হামলার ওই গাড়িও ভারতীয়। যে সংগঠনের ভারতীয় শাখার হয়ে তিনি কাজটি করেছেন তার হেড অফিস পাকিস্তানে। তবে এর পুরোটাই পাকিস্তানের দায় বলে মোদি আঙুল তুলে আসলে নিজের হাত ধুয়ে ফেলতে চেয়েছেন।

তবে আরেকটা বড় জটিলতা হলো, কোনটা টেররিজম বা সেই সূত্রে কে টেররিজম করছে? এটা অমীমাংসিত প্রশ্ন। প্রথমত, সব রাষ্ট্র মেনে নেয়Ñ টেররিজমের এমন কোনো কমন সংজ্ঞা বলে কিছুই নেই। এমনকি জাতিসঙ্ঘের হাতে বা তাদের দলিলেও নেই। তাই হাতে অস্ত্র নিলেই সে টেররিস্ট গ্রুপ নাও হতে পারে। তবে আমেরিকার নীতিতে বা জাতিসঙ্ঘের কাছে সন্ত্রাসী দলের একটা তালিকা আছে। এতে কোনো ভিত্তি ছাড়া যাকে খুশি টেররিস্ট বলে দেখানো হয়েছে; নাম ঢুকানো হয়েছে। সুতরাং এই সূত্রে সে ‘টেররিস্ট’। কেউ কাউকে টেররিস্ট বলবে কি না সেটি ওই রাষ্ট্রের স্ট্রাটেজিক স্বার্থে নির্ধারিত। মানে যার যার ‘রাষ্ট্রস্বার্থ’ এর নির্ণায়ক। ফলে বেলুচিস্তানের আন্দোলন ভারতের চোখে ‘স্বাধীনতাকামী’ আর পাকিস্তানের চোখে তারা ‘টেররিস্ট’। এ জন্যই জয়েশ-ই-মোহাম্মদ বা ভারতের চোখে যেগুলো টেরর সংগঠন, তাদের পাকিস্তানে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হয়। সেজন্য কারো বিরুদ্ধে টেররিজমের অভিযোগ এলে শেষে দেখা যায় যার যার রাষ্ট্রের প্রপাগান্ডায় জেতার ইস্যু। অতএব মূলত কেউ টেররিস্ট কি না সে দাবি এখানে অর্থহীন।
এটি এখন দেখার বিষয় যে, নরেন্দ্র মোদি এই হামলাকে নিজের ভোটবাক্সে কতটা কাজে লাগাতে পারেন। ভারতীয় আম ভোটারদের জ্ঞানবুদ্ধি আসলেই কতটা বাকি আছে, নাকি সবই সস্তা আবেগ ও সেন্টিমেন্ট?
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]


আরো সংবাদ




agario agario - agario