২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কর্নেল তাহেরের বিচারের সাথে খালেদা জিয়ার বিচার মেলালে চলবে না : ড. কামাল

ড. কামাল হোসেন - সংগৃহীত

বিশিষ্ট আইনজীবী এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, কারাগারে আদালত বসানো সংবিধান সম্মত না। তিনি বলেন, কর্নেল তাহেরের বিচারের সাথে খালেদা জিয়ার বিচার মেলানো হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে কর্নেল তাহেরের বিচার হয়েছিল সামরিক আদালতে। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া উচিৎ এবং চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। সরকারের ভুলে যাওয়া উচিৎ নয় আমরা সভ্য সমাজে বাস করি।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জ নং-৩ (৩য় তলা)-এ গণফোরাম-এর উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ধরপাকড় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এব্যাপারে তিনি বলেন, যেভাবে ধরপাকড় হচ্ছে এটা নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে। কাউকে গ্রেফতার করতে হলে ওয়ারেন্টসহ ইউনিফর্ম পরে আসতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে। যেন সে জামিন চাইতে পারে। তিনি বলেন, বিশেষ কারণে দুই একবার সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে। তবে এটা এখন নিয়মিত করা হচ্ছে। কারো অপরাধ থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাও সংবিধানে স্পষ্ঠ করে উল্লেখ আছে কিভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এখন যা হচ্ছে সরকার তা করতে পারেনা।

তিনি বলেন, আমরা বেআইনি শাসনে চলে যাচ্ছি। সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। সাবধান হতে হবে। সমস্যার সমাধান করতে হবে। দ্রুত ধরপাকড় বন্ধ করা হোক আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ক্ষমতার প্রয়োগ হবে আইন ও সংবিধানের ভিত্তিতে। কিন্তু এখন যেভাবে সাদা পোশাকে ধরা হচ্ছে সেটা সংবিধান সম্মত নয়, আইনের লঙ্ঘন। সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে দেশ চালাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে না। সংবিধানে বলা আছে, কাউকে আটক করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে সোর্পদ করতে হবে। সংবিধানের এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। আমরা এ সব বিষয়ে আদালতে যাব। উচ্চ আদালতের কাছে আমরা আদেশ চাইব।

সোহরাওয়ার্দীতে নয় মহানগর নাট্যমঞ্চে
এদিকে ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছিল। জানা গেছে এক মাস আগে অনুমতি চেয়ে পাওয়া যায়নি। ফলে ঐক্য প্রক্রিয়ার সে সমাবেশটি হবে এখন গুলিস্থানস্থ মহানগর নাট্যমঞ্চে, স্থানটিতে অনুমতিও মিলেছে। তবে কেন সোহরাওয়ার্দীতে ঐক্য প্রক্রিয়াকে সেখানে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি জানতে ড. কামাল হোসেন ক্ষুদ্ধ কন্ঠে বলেন, এটা সরকারকে জিজ্ঞাস করুন। আমরা অনুমতি পাইনি। তাছাড়া আমি অনুমতি -এমন শব্দ বুঝি না। সরকার যখন তখন সেখানে সমাবেশ করবে আর আমরা বা বিরোধী দল চাইলে তাদের করতে দেয়া হবে এটা কি করে সম্ভব? এটা জমিদারি না।

এটা সংবিধানের ১৬ আনা পরিপন্থী। তাছাড়া সংবিধানে এসব বৈষম্যতো নেই। তিনি বলেন, সরকার এধরণের বৈষম্য করে সংবিধানকে বারবার অশ্রদ্ধা করছে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট এ আইনজীবি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। আমি আগে বলেছিলাম নির্বাচনটা আদৌ হবে কিনা। আসলে নির্বাচনটা হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পরিবেশ দরকার। কিন্তু এখন ভয়ভীতির আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। আমরা নির্বাচন চাই, কিন্তু দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতকে নিয়ে ঐক্য আমি করব না। অন্য কেউ করলে সেটা জানিনা। তবে জামায়াত তো এখন দলই নেই। তারা নির্বাচন করতে পারবে না। আমরা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টা ইতিবাচকভাবে চালিয়ে যাচ্ছি। ঐক্য হলে আপনারা জানতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনের উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, আওম শফিক উল্লাহ, মোশতাক আহমদ।

আরো পড়ুন: চিকিৎসা নিয়ে খালেদা জিয়ার রিটের শুনানি আজো ‘নট টুডে’
নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:৪৪
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটটির ওপর নট টুডে (শুনানি আজ নয়) আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

এর আগে গতকাল সোমবার খালেদা জিয়ার আবেদনটি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছিলো। তবে শুনানির প্রস্তুতির জন্য আরো সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে হাইকোর্টে সময় চেয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। এরপর মামলাটি মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় এলে তার ওপর শুনানি না করে পুনরায় সময় নেন তার আইনজীবীরা।

পরে কায়সার কামাল বলেন, ‘সরকার বেআইনীভাবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রেখেছেন। তিনি সেখানে বিনা চিকিৎসায় রয়েছেন। চিকিৎসা পাওয়া তার সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার। সেই অধিকার থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকার তাকে বারবার বঞ্চিত করছে। এর প্রতিকার চেয়ে আমরা হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করি।

সেই রিট আবেদনটি আজ হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ছিলো। আমরা আজকে আদালতকে জানিয়েছি, আজকের জন্য আমরা আবেদনটি পরিচালনা করতে চাই না। তখন আদালত এর কারণ জানতে চাইলেন। তখন সরকার পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু উন্নতি হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তখন আমি বললাম, আমাদের বিএনপির প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেটার প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে পাঁচজন ডাক্তারের নাম চাওয়া হয়েছিলো। সেই তালিকাও দেয়া হয়েছে।’

কায়সার বলেন, ‘যেহেতু সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে তাই আমরা আশা করছি, অন্যান্য অধিকার ক্ষুন্ন হলেও উনাকে সরকার চিকিৎসা দিবেন। সেই প্রত্যাশায় সরকারের পদক্ষেপ আমরা পর্যবেক্ষণ করছি এবং সময় নিচ্ছি। তবে আদালতকে জানিয়েছি, সরকার যদি খালেদা জিয়ার পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেন সেক্ষেত্রে হয়ত আমাদের এ মামলা পরিচালনা না করাও হতে পারে। তখন আদালত বলেন, আপনারা তো ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসা করতে চাচ্ছেন বলে পত্র-পত্রিকায় দেখছি। জবাবে আমরা বলি, তার উপযুক্ত চিকিৎসা যেখানে নিশ্চিত হবে সেখানেই তার চিকিৎসার দাবি করছি। তার অসুস্থতা অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট যেখানে হবে সে ধরণের হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চাচ্ছি।’

এ পর্যায়ে আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, যেহেতু আপনারা বিষয়টি পদক্ষেপগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন সেক্ষেত্রে নট টু ডে থাকলো। তবে পরবর্তিতে মামলাটি কার্যতালিকায় থাকবে।

দেশের বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চেয়ে হাইকোর্টের রিট আবেদন জানায় তার আইনজীবীরা। গত ৯ সেপ্টেম্বর রিটটি দায়েরের পর ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, রিটে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নির্দেশ এবং এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে তার চিকিৎসা দাবি করে আসছে তার আইনজীবীরা। কিন্তু সেখানে কোনো প্রতিকার না পেয়ে তারা এ রিট দায়ের করেন বলেও তার আইনজীবীরা জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।


আরো সংবাদ