Naya Diganta

লাইব্রেরি

নতুন একটা চাকরিতে ঢুকেছি। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের লাইব্রেরি অ্যাসিস্ট্যান্ট। এর আগে খণ্ডকালীন হিসেবে চাকরির অভিজ্ঞতা আছে। তাই অফিসিয়াল রোল ফলো করতে সমস্যা হচ্ছে না। লাইব্রেরিয়ানের কাছ থেকে দ্রুত কাজ বুঝে নিয়েছি, গুছিয়েও নিয়েছি।
অফিসের পরিবেশ বেশ শান্তশিষ্ট, নীরব, সুমসাম। খুব ভালো লাগে। সময় কাটাতে বই পড়ি, পত্রিকা পড়ি। স্টুডেন্টরা এসে বই পড়ে। অনেকে আবার কার্ড দেখিয়ে বই নিয়ে যায়। ধীরে ধীরে সবার সাথে পরিচয় হয়, মিশতে থাকি। প্রত্যেকেই দারুণ আন্তরিক।
গাইনোকোলজিস্ট বুকশেলফের পাশে রাখা টেবিলটাতে কয়েকটা মেয়ে এসে বই পড়ে। প্রথম দিনেই লক্ষ করলাম কিছুক্ষণ পরপর একটা মেয়ে খালি আমার দিকে তাকায়। আমি গ্রাহ্য করিনি। কিন্তু না, প্রতিদিনই এরকম ঘটছে। কয়েকটা স্টুডেন্টও বিষয়টা অনুমান করতে পারল। আমি অনেকটাই বিব্রত বোধ করলাম, সাথে লজ্জিতও বটে।
একদিন মেয়েটা বই জমা দিতে আসে, একা। সুযোগ পেয়ে তাকে নিচু স্বরে বললাম, আপনি যা করছেন তা ঠিক নয়। এখানে সিসি ক্যামেরা আছে। আমার চাকরিটা খাবেন না, প্লিজ। মেয়েটি কিছুই বলল না। বই হাতে নিয়ে লাইব্রেরি থেকে হনহন করে বেরিয়ে গেল।
এ ঘটনার পর থেকে তিন-চার দিন পর্যন্ত মেয়েটিকে চোখে পড়েনি। আমিও ভুলে গেছি ব্যাপারটা। সময়মতো অফিসে আসছি, মনোযোগ দিয়ে কাজ করছি। কিন্তু ভূত একবার চাপলে সহজে ছাড়ে না। আবার শুরু হলো মেয়েটির উৎপাত। কেমন করুণ চোখে তাকায়। আমার ভয় লাগে।
কার কাছ থেকে যেন আমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করল। কল করে পরিচয় দিয়ে বলল, নিচের ক্যান্টিনে একটু আসেন। জরুরি কথা আছে। মনে মনে এর শেষ দেখে ছাড়ব ভেবে ক্যান্টিনে গেলাম। ভেতরে নিরিবিলি একটা টেবিলে বসে আছে। পাশে বসতেই আমার দিকে তাকিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে দিলো। কী করব বুঝে উঠতে পারছি না। একসময় মেয়েটি নিজে নিজে শান্ত হয়ে আমাকে বলল, আপনার বয়সী আমার একটা প্রতিবন্ধী বড় ভাই ছিল। দেড় বছর আগে হঠাৎ করে হারিয়ে যায়। শত চেষ্টা করেও খোঁজ পাইনি। দেখতে হুবহু না হলেও আপনার চেহারার সাথে তার চেহারার অনেকটাই মিল আছে। তাই বারবার আপনাকে দেখি আর আমার ভাইটার কথা মনে পড়ে।
কিশোরগঞ্জ