২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাড়ে তিন বছর বয়সে দাবা বোর্ডে

-

ওর যে বয়স তাতে ওকে তো দাবা বোর্ডে বসাতে তিনটি চেয়ার লগবে। তাহলে সে ঠিক মতো বোর্ড দেখতে পারবে। শমসের আলী তৃতীয় মহিলা রেটিং দাবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এভাবেই আরিশা হোসেন তুবাকে তুলে ধরেন রানী হামিদ। একটু পরে দেখা গেল আসলেই তিনটি চেয়ার লাগছে তুবার। তা না হলে যে বোর্ডের নাগাল পাচ্ছিল না সে। এই দাবার মধ্যে দিয়ে মহিলা দাবায় সর্বকনিষ্ঠ দাবাড়ু হিসেবে বড় আসরে অভিষেক হলো তুবার। প্রতিযোগিতার আগে ছোট্ট এই দাবাড়ুর সাথে কিছুক্ষণ দাবা প্র্যাকটিস করলেন বাংলাদেশের মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার রানী হামিদ। দিলেন কিছু জ্ঞানও।

এই বয়সে একটি মেয়ে যে দাবা খেলার সাহস করেছে এটা তো অনেক। এখনো চার বছর পূর্ণ হয়নি। তুবার মা আনোয়ারা খাতুন তথ্য দেন, ‘আমার মেয়ের বয়স তিন বছর পাঁচ মাস। পড়ছে লর্ডস অ্যান্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের কেজিতে।’ দাবায় এবারই তার প্রথম অংশগ্রহণ নয়। ক’দিন আগে শেখ রাসেল স্কুল দাবায় অংশ নিয়ে সাতজনের মধ্যে ষষ্ঠ হয় সে। জিতেছিল একটি ম্যাচ। ওই দিন টানা সাত রাউন্ড দাবা খেলেছিল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। ফেব্রুয়ারিতে দাবা ফেস্টিভালেও ছিল তার প্রতিনিধিত্ব। সে দিন অবশ্য নকআউট-ভিত্তিক খেলায় প্রথম ম্যাচেই হেরে যায় সে।

দাবা পরিবারের মেয়ে তুবা। আনোয়ারা খাতুন জানান, দুই বছর বয়স থেকে দাবায় হাতেখড়ি আমার মেয়ের। তার খালা আরিফা হোসেন মনি তাকে দাবা খেলা শেখান। মনি নিজেও জাতীয় দাবায় অংশ নিয়েছিলেন। পাঁচ বছর বয়সে তিনি খেলেছিলেন রানী হামিদের বিপক্ষে। পরে ২০০৭ সালে হারিয়েছিলেন রানী হামিদকে। তুবার নানী সেলিনা হোসেন দাবা খেলেছেন। নানীও দাবায় সময় দেন নাতনীকে। ভাই আবীর হোসেনও বাসায় তার দাবার অনুশীলনের সঙ্গী। সাড়ে তিন বছর বয়সে একটি ছোট মেয়ের সময় কাটানের কথা টিভি দেখে। দুরন্তপনা করে; কিন্তু তুবা বাসায় তিন চার ঘণ্টা সময় দেয় দাবার পেছনে। বাড়িতে টিভিতে ডিশের লাইন নেই। ফলে টিভির পেছনে ছোটার সুযোগ একবারেই সীমিত মেয়েটির। কাল দাবা বোর্ডে তাকে দেখা গেল কখনো মাথা দুলিয়ে দুষ্টুমি করছে। কখনো হয়ে যাচ্ছে অন্যমনস্ক।

তবে কথায় বেশ পাকা। নিজের লক্ষ্য স্থির করল এভাবে। ‘আমি গ্র্যান্ড মাস্টার হতে চাই।’ পাশ থেকে মা শিখিয়ে দিচ্ছিলেন, বলো, আন্তর্জাতিক মাস্টার হতে চাই। মাথা নাড়িয়ে তুবার প্রতিবাদ, না আমি গ্র্যান্ড মাস্টার হবো। মা-ও পরে জানান, ‘আমি মেয়েকে গ্র্যান্ড মাস্টার বানাব। এটাই পরিকল্পনা।’ কাল অবশ্য হেরে যায় তুবা।

তুবার বয়স সাড়ে তিনের কম এটা জেনে বিস্মিতই হলেন রানী হামিদ। তার প্রতিক্রিয়া, ‘কী বলেন মেয়েটির বয়স সাড়ে তিন বছর? আমার তো মনে হয় পাঁচ হবে।’ এর পর মজা করে বললেন, ‘বেশি না আমার চেয়ে মাত্র ৭০ বছরের ছোট।’ উল্লেখ্য, এখন ৭৫-এ পা দিয়েছেন রানী হামিদ। রানী হামিদের মতো ৫৬ বছর বয়সী দাবাড়ু জাহানারা হক রুনুও তথ্য দিলেন, এত ছোট মেয়ে আগে কখনো দাবা খেলেনি। একই সুর দাবা আরবিটার হারুনুর রশীদেরও।


আরো সংবাদ