১৫ অক্টোবর ২০১৯

আড়াইহাজারে সংঘর্ষে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ আহত ৩০

আড়াইহাজারে সংঘর্ষ চলাকালে ভাংচুর করা একটি দোকান - নয়া দিগন্ত

আড়াইহাজারে ২ গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সাবেক চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও নারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের বিশনন্দী বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চালাকালীন ভাংচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি দোকান।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দিন দুপুরে বিশনন্দী গ্রামের হাজী খোকনের জমিতে রোপনকৃত গরুর ঘাস তুলে নেয় দড়ি বিশনন্দী গ্রামের শাহনারা নামের এক মহিলা। এই নিয়ে খোকনের ছেলে শিকু সরকারের সাথে দড়ি বিশনন্দী গ্রামের শাহানারার ছেলে ওমর সানি ও মেয়ে তানিয়ার তর্ক বিতর্ক হয়। পরে ওমর সানী ও তানিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাদের মারধর করে শিকু ও তার ভাই রিফাত।

পরবর্তীতে এই খবর দড়ি বিশনন্দী গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে ওই গ্রামের সকল লোক একত্রিত হয়ে বিশনন্দী গ্রামের খোকনের বাড়িতে আক্রমণ করতে যায়। এতে উভয়পক্ষের লোকজন দা, ছুরি, টেটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে ৩ ঘন্টা। সন্ধ্যা ৬টায় থানা থেকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়।

সংঘর্ষে দড়ি বিশনন্দী গ্রামের ইউপি সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান হাজী বেনুজীরসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। সংঘর্ষে দড়ি বিশনন্দী গ্রামের ৮টি দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান। সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশের একটি প্রাইভেটার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ও ভাংচুর করা হয়েছে। অপরদিকে বিশনন্দী গ্রামের শিকু সরকার জানান, দড়ি বিশনন্দী গ্রামের লোকজন তাদের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে।

আহতদের মধ্যে ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান, বিশনন্দী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যন হাজী বেনুজীর আহমেদ, আল আমিন, তানিয়া, ওমর সানি, নিহাত, মঞ্জুর হাজী, শাহিন, হোসেন, আতিক, মোঃ আলী, ফারুক, মোস্তাকিন, শুক্কুর আলী, মোসলেহ উদ্দিন ও কবির হোসেনসহ ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উভয়পক্ষের লোকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

দেখুন:

আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum