১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দুই গোয়েন্দার অভিযান

-

সাতচল্লিশ.
নদীর ওপরের বরফের স্তর মসৃণ নয় মোটেও। অসমতল। এবড়ো-খেবড়ো। টিলা-টক্করও আছে। লাফিয়ে উঠল স্লেজ। টিলা পেরিয়ে আসার পর রেজার কথার জবাব দিলো জোসি, ‘সত্তর-আশিটা দল হবে।’
হিসাব করল সুজা, সত্তর-আশিটা দলে অন্তত হাজারখানেক কুকুর। অ্যাংকারেজে একটা দেখার মতো দৃশ্য হবে।
নদীর ওপাড়ে তাকাল সে। ‘পাহাড়ে তো তেমন তুষার দেখছি না। গলে যায় নাকি?’
‘থাকলে তো গলবে,’ জোসি বলল। ‘শুনে অবাক হবে, আমাদের এদিকটা আসলে এক ধরনের মরু অঞ্চল। বছরে ১২ ইঞ্চির বেশি তুষারপাত হয় না। এই বরফ তো তৈরি হয়েছে নদীর পানি জমে।’
সামনে রাস্তাটা দুই ভাগ হয়ে গেছে। চেঁচিয়ে উঠল জোসি, ‘জি, ডায়মন্ড, জি!’
দলের কুকুরগুলোকে নিয়ে ডান দিকের পথটা ধরে ছুটল ডায়মন্ড হার্ট।
আরো মাইল দুই এগোনোর পর ইউকন থেকে সরে এলো জোসি, অপেক্ষাকৃত সরু আরেকটা নদীর ওপর দিয়ে স্লেজ ছোটাল। বন্ধুদের জানাল, ‘মিংক রিভারে যাওয়ার এটা শর্টকাট।’
মিনিট দশেক পর গতি কমিয়ে দিলো কুকুরগুলো। চিন্তিত মনে হলো জোসিকে।
‘কী হয়েছে?’ জানতে চাইল রেজা।
দ্বিধা করছে জোসি। ‘সামনে নরম বরফ।’
বকের মতো গলা বাড়িয়ে দিয়ে সামনে তাকাল রেজা। তার চোখে বরফের স্তরে কোনো তফাত ধরা পড়ল না।
‘নদীর তলায়ও ঝরনা আছে এখানে, জানো বোধহয়।’ বরফের স্তর পাতলা হয়ে যাওয়ার কারণটা ব্যাখ্যা করল জোসি, ‘সেগুলো থেকে গরম পানি বেরিয়ে নিচের দিকের বরফ গলিয়ে দেয়। বছরের এ সময়টাতেই এ ঘটনা বেশি ঘটে।’ (চলবে)

 

 


আরো সংবাদ