১৭ অক্টোবর ২০১৯

চিকিৎসার নামে ১৫ বছর ধরে যৌন নির্যাতন

ধর্ষণ
ইন্দোনেশিয়ায় ধর্ষণের প্রতিবাদ - ছবি: সংগৃহীত

আমাদের যেমন ওঝা, ইন্দোনেশিয়ায় তেমনই রয়েছে শামানদের অস্তিত্ব। কেউ তাদের বলে জাদুকর, কেউ বা কবিরাজ। তবে এবার, চিকিৎসার নামে এক তরুণীকে যৌনদাসী হিসেবে আটকে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ইন্দোনেশীয় এক শামানকে।

শামানের কাজও মৃত মানুষের আত্মা নিয়ে, অনেকটা ওঝা অথবা ভুডুর মতো। তবে এদের সঙ্গে শামানদের পার্থক্য হলো – এরা নাকি মন্দ আত্মার বিরুদ্ধে লড়াই করে, তাদের কাজে লাগায়। মূলত এবার ‘আধ্যাত্মিক' পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে থাকে। ইন্দোনেশিয়া, ভারত, নেপালসহ বিশ্বের বহু দেশেই এই চিকিৎসা পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে।

অথচ ইন্দোনেশিয়ার সোলাওয়েসি প্রদেশের বাজুংগান গ্রাম যে ঘটনাটা ঘটেছে, তাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অন্য এক সত্য। সেখানকার ৮৩ বছর বয়স্ক এক শামানকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। পুলিশের কথায়, ১৩ বছর বয়স্ক এক তরুণীকে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে যৌনদাসী হিসেবে নির্যাতন করে আসছিল ঐ শামান।

পুলিশ জানায়, ২০০৩ সালে নির্যাতিত মেয়েটির বয়স ছিল কেবল ১৩ বছর। চিকিৎসার জন্য জাগো নামের এই শামানের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। স্থানীয় পুলিশ প্রধান ইকবাল আল-কুদুসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, চিকিৎসার নামে জাগো তরুণীটিকে এই বলে প্রতারিত করে যে তার (মেয়েটির) ছেলেবন্ধুর ‘আত্মা’ শামানের শরীরের ওপর ভর করে তার সাথে দেখা করতে আসে। এ কথা বলে বছরের পর বছর মেয়েটিকে ধর্ষণ করছিল শামান জাগো।

বাজুংগান গ্রামের পাশ্ববর্তী জঙ্গল থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশপ্রধান। তার কথায়, ‘নির্যাতিত মেয়েটি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে এবং সে কারো সাথে কথা বলতে চাইছে না। তাই তার যত দ্রুত সম্ভব মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।’

এদিকে হারিয়ে যাওয়ার পর পরই মেয়েটির পরিবার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছিল৷। কিন্তু সে সময় তারা চিকিৎসক শামানের কাছে মেয়েটির বিষয়ে জানতে চাইলে তরুণীটি হারিয়ে গেছে এবং আর কখনোই ফিরবে না বলে তাদের জানায় জাগো।

আরো পড়ুন :
অনলাইনে সন্তানকে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করলেন মা
৯ বছরের শিশু সন্তানকে অনলাইনে যৌন নির্যাতনকারীদের কাছে বিক্রি করার দায়ে এক জার্মান নারী ও তার সঙ্গীকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তদন্তকারীরা বলছেন, তাদের দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ শিশু নির্যাতনের ঘটনা এটি।

বেরিন টি. নামের ৪৮ বছরের ওই নারীকে সাড়ে ১২ বছরের জেল দিয়েছে জার্মানির এক আদালত। ৩৯ বছর বয়সি ক্রিশ্চিয়ান এল. নামের সঙ্গীকে দেয়া হয়েছে ১২ বছরের কারাদণ্ড। তারা দু’জন মিলে তাদের ৯ বছরের ছেলেকে অর্থের বিনিময়ে অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের হাতে তুলে দিতেন।

ফ্রাইবুর্গ শহরের কাছে সটাউফেন নামক জায়গায় এক যৌন নির্যাতন চক্রের মূল হোতা ছিলেন তারা।

তদন্তকারীরা বলছেন, শুধু অন্যদের হাতে তুলে দেয়া না, এই দু’জন নিজেরাই তাদের সন্তানকে যৌন নির্যাতন করতেন।

বেরিন টি. ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে ৬০ ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে জোর করে যৌনকর্মে বাধ্য করা, মৌখিক নির্যাতন, ধর্ষণও আছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, অনলাইনে যোগাযোগ হওয়া বেশ কিছু জার্মান ও বিদেশি নাগরিককে তারা ৯ বছরের এই শিশুকে ধর্ষণ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। দুই বছর ধরে এই কাজ করে তারা হাজার হাজার ইউরো উপার্জন করেছেন।

এ ধরনের অনেক নির্যাতনের দৃশ্য রেকর্ড করে ভিডিও অনলাইনে বিক্রি করা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে ছেলেটিকে মুখোশ পড়িয়ে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে।

অজ্ঞাত এক ফোনে তথ্য পেয়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশ এই চক্রকে সনাক্ত করে৷ বেরিন টি. ও তার সঙ্গীসহ মোট আটজনকে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শিশু নির্যাতনের আরো অভিযোগ রয়েছে।

জার্মানির তিন নাগরিক, সুইজারল্যান্ডের একজন এবং স্পেনের এক নাগরিককে এই মামলায় ৮ থেকে ১০ বছরের জেল দেয়া হয়েছে।

প্রসিকিউটররা অবশ্য শিশুটির মায়ের সাড়ে ১৪ বছর ও তার সঙ্গীর সাড়ে ১৩ বছরের জেল চেয়েছিলেন।

সূত্র: ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa