১৩ জুলাই ২০২০

করোনায় ট্রায়াল পর্যায়ে ব্যবহৃত ওষুধ ও তার কার্যকরিতা

ডা: মমিনুল ইসলাম - ছবি : সংগৃহীত

করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রে কোন ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে সে বিষয়ে মতামত দিয়েছেন ডা. মমিনুল ইসলাম। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একজন ডাক্তার। হোম কোয়ারেন্টাইন থাকা অবস্থায় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনগণের উপকারের স্বার্থে করোনা চিকিৎসা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

তার দেয়া তথ্য মতে, করোনার সর্ব স্বীকৃত কোনো চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে আশার কথা হলো করোনা চিকিৎসায় কিছু ওষুধ নিয়ে চলমান ট্রায়াল চলছে।

ট্রায়াল ওষুধগুলোর মধ্যে সবথেকে কার্যকরী ওষুধটি আইভারমেকটিন (Ivermectin) ও ডক্সিসাইক্লিনের (Doxycyciln) কম্বিনেশন ব্যবহার।

আরো রয়েছে আইভারমেকটিন ও এজিথ্রোমাইসিনের (Azithromycin) কম্বিনেশন। এছাড়াও ট্রায়ালে চলছে হাইডোক্সিক্লোরকুইন, রেমিডেসভির (Remedicivir), ফেভিপিরাভির (Fevipiravir) ও প্লাজমা থেরাপি।

নতুনযুক্ত হয়েছে ডেক্সামিথাসন। তবে হাইডোক্সিক্লোরকুনের মতো এই ওষুধটি নিয়েও ভিন্ন মত রয়েছে ও এখনো বাংলাদেশে ব্যবহার শুরু হয়নি।

দেশে ব্যবহৃত ট্রায়াল ওষুধের মধ্যে সবথেকে সুলভ ও কার্যকরী হলো আইভারমেকটিন ও ডক্সিসাইক্লিনের কম্বিনেশন ডোজ। আইভারমেকটিন ৬ মিলিগ্রামের হয়ে থাকে ও এর এন্টি ভাইরাল ক্ষমতা রয়েছে। ডাক্তার জানিয়েছেন, ৬০ কেজি ওজনের বেশি যারা তারা প্রথমদিনে তিনটি করে খাবেন। আর ৬০ ওজনের কম যারা তাদের দুটো করে খেতে হবে।

এর সাথে কম্বিনেশন ওষুধ হলো ডক্সিসাইক্লিন। ১০০ মিলিগ্রামের এই ওষুধটি দিনে দুটি করে মোট সাতদিন খেতে হয়। এটি একটি এন্টিবায়োটিক ওষুধ। আইভারমেকটিন ও ডক্সিসাইক্লিন একই দিন থেকে সেবন শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

করোনা চিকিৎসায় এই ওষুধ দুটি অত্যন্ত কার্যকর বলে জানান এই চিকিৎসক।

আরো একটি কম্বিনেশন ট্রায়াল হলো আইভারমেকটিন ও এজিথ্রোমাইসিন। এজিথ্রোসাইসিন ৫০০ মিলিগ্রামের ওষুধ যা বাজারে জিম্যাক্স, ট্রিডোসিল, আজিন নামে পাওয়া যায়। এটি আইভারমেকটিনের সাথে দিনে একবার ৫ থেকে ৭ দিন খেতে হবে।

দেশের বেক্সিমকো, বিকনসহ বেশকিছু ওষুধ কোম্পানি এন্টিভারাল ওষুধ রেমিডেসভির ও ফেভিপিরাভির তৈরি করছে। তবে দুঃখের বিষয় হলো এই ওষুধ দুটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। যুক্তরাষ্ট্রে ফেভিপিরাভির ব্যবহারে আংশিক সফলতা পেলেও এই ওষুধগুলোর মূল্য দেশে প্রায় ৬০ হাজার টাকার মতো।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবথেকে গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা হলো প্লাজমা থেরাপি। তবে মজার বিষয় হলো আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই প্লাজমা থেরাপিও করোনায় ট্রায়াল পর্যায়ের চিকিৎসা। পূর্বেও নানা রোগে আরোগ্য লাভের জন্য ডাক্তাররা এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।

জার্মান শরীরবিদ এমিল ভন বেহারিং প্রথম এই প্লাজমা থেরাপি আবিষ্কার করেন। যার জন্য তিনি ১৯০১ সালে চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন। করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে উঠেলে তার শরীরে রক্তরসে প্রাকৃতিকভাবে এন্টিবডি তৈরি হয়। যা ওই ভাইরাসকে প্রতিহত করে। এই রেসকিউ ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থায় সুস্থ হওয়া ব্যক্তির শরীর থেকে ধার নিয়ে রোগীর শরীরে দেয়া হয়। এতে রোগীর শরীরেও ওই এন্টিবডির জন্ম নেয় যা করোনার ভাইরাসকে ধ্বংস করে। করোনা চিকিৎসায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে এই প্লাজমা থেরাপি চালু হয়েছে। অনেক ডাক্তারাও করোনা থেকে সুস্থ হয়ে প্লাজমা দান করছেন।

ডা. মমিনুল ইসলাম জানান, এক জন ব্যক্তির ব্যাগ ৪০০ মিলিলিটার প্লাজমা দিয়ে চারজন কোভিড রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব। তাই তিনি কোভিড-১৯ জয়ী সকলকে প্লাজমা দানের আহ্বান জানিয়েছেন।


আরো সংবাদ