১৫ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১, ৮ মহররম ১৪৪৬
`

ভাড়া বাসার বিড়ম্বনা

-

সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তনে নগর জীবনের প্রতি মানুষের ঝোঁক বেড়েছে। নগর জীবনে সব রকম সুযোগ-সুবিধা যেমন বেশি, পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও বেশি।
প্রতিদিনই কর্মসংস্থান বা ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় শহরমুখী হচ্ছে মানুষ। এসব মানুষের প্রায় ৮৫ শতাংশই ভাড়া বাসায় বসবাস করে। কিন্তু বর্তমানে শহরাঞ্চলে বাড়িভাড়া বিড়ম্বনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার সবচেয়ে বেশি নজির পাওয়া যায় রাজধানী ঢাকায়। কোনো কারণ ছাড়াই ভাড়া বাড়ানো, বাড়িওয়ালাদের দাপট বা স্বেচ্ছাচারিতা সব মিলিয়ে অসহায় শহরের ভাড়া বাসার বাসিন্দারা। নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চ-মধ্যবিত্ত সবাই বাড়ি ভাড়ার এ পাগলা ঘোড়ার কাছে অসহায়। যেন কোনো জবাবদিহি নেই।
ভাড়াটিয়াদের এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য বাড়ি ভাড়াসংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত হওয়া জরুরি। বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া বাড়ি ভাড়াসংক্রান্ত আইন জানেন না বলে তারা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ও বাড়িওয়ালারা তাদের প্রতারিত করে থাকেন।
ভাড়াটিয়াদের নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায়, বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১-এর কিছু দরকারি অংশ জেনে রাখা প্রয়োজন, ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১’ এর ১০ এবং ২৩ ধারা মোতাবেক বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রকের লিখিত আদেশ ছাড়া অন্য কোনোভাবে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ এক মাসের ভাড়ার বেশি কোনো রকম ভাড়া বা অন্য কোনো টাকা গ্রহণ করতে পারবেন না বাড়ির মালিক।
প্রতি মাসে পরিশোধ করা বাড়ি ভাড়ার রসিদটি বুঝে নিতে হবে, বাড়ির মালিক বা নিয়ন্ত্রক তা দিতে বাধ্য। আইনের ‘১৬ নাম্বার’ ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে ‘মানসম্মত’ ভাড়া নির্ধারণ হওয়ার তারিখ হতে দুই বছর পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। এর আগে ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না।
ভাড়া দিলেই শুধু নয়, সেই বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও বাড়িওয়ালার নজর দিতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বসবাসের উপযোগী করে বাড়িটি প্রস্তুত রাখতে বাড়ির মালিকের ওপর ‘২১ ধারা’ মোতাবেক বাধ্যবাধকতা আরোপিত রয়েছে।
বাড়ি ভাড়া বিষয়ে এসব আইনের প্রণয়ন অনেক আগে হলেও নেই এর যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন। এসব আইন বাস্তবায়িত হলে ভাড়া বাসায় বসবাসকারীদের বেশি ভাড়ার ভোগান্তি পোহাতে হতো না। এসব আইন বাস্তবায়নে ভাড়াটিয়াদের যেমন সচেতন হতে হবে, বুঝে নিতে হবে নিজের অধিকার, পাশাপাশি সরকারের উচিত আইনের সঠিক বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ নেয়া।
তবে মুদ্রার একপিঠ দেখলেই চলবে না। একজন বাড়িওয়ালার যেমন বাড়ি ভাড়া দেয়ার পরেও দায়বদ্ধতা থাকে; ঠিক তেমনি একজন ভাড়াটিয়ারও উচিত ভাড়া বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা। তার মধ্যে পড়েÑ সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। দরজা, জানালা বা দেয়ালের যেন ক্ষতি না হয়; সেভাবে ব্যবহার করা। সঠিক সময় সব ধরনের ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা। যেকোনো মেরামত বা ইনস্টলেশনের কাজে হাত দেয়ার আগে মালিকের অনুমতি নেয়া। ছোটখাটো মেরামতের কাজ মালিকের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে নিজে করে নেয়ার মানসিকতা।
বাড়িওয়ালার যেমন ভাড়া দেয়ার পর মানসম্মত ভাড়া থেকে শুরু করে ভাড়াটিয়াদের সব সুযোগ-সুবিধা দেখাশোনার দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি ভাড়াটিয়াদেরও কিছু দায়িত্ব থাকে। দু’পক্ষই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে একে অপরকে অভিযোগ করার পরিবর্তে, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হতে পারে; যা সবার পক্ষেই সুবিধাজনক ও সম্মানের। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 


আরো সংবাদ



premium cement