১৫ নভেম্বর ২০১৮

আমরা আমাদের জনগণকে অন্ধকারে রাখতে পারি না : তুরস্ক

আমরা আমাদের জনগণকে অন্ধকারে রাখতে পারি না : তুরস্ক - সংগৃহীত

তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রী ফাতিহ ডোনমেজ বলেছেন, তুরস্কের জ্বালানি খাত আমদানি নির্ভর এবং প্রতিবেশী ইরান তুরস্কের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে থাকে। তুরস্কের প্রায় ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গ্যাস চালিত। তাই ইরানের সাথে দীর্ঘ মেয়াদি যে গ্যাস চুক্তি রয়েছে তা অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা হবে। আমরা আমাদের জনগণকে অন্ধকারে রাখতে পারি না।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি আরো বলেছেন, তুরস্কের একটি প্রতিনিধিদল এখন আমেরিকা সফর করছে। তারা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলছেন। এ সফর থেকে একটি ভালো ফল আশা করছেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে তিনি একতরফা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ক্ষুব্ধ। তুরস্ক বৈধভাবে কাজ করছে বলে তিনি জানান। ইরানের রপ্তানি বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আঘাত হানতে গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে নতুন পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন শুরু করেছে আমেরিকা। 

এদিকে তুরস্কের সিনিয়র এক কূটনীতিক ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে সঙ্কট নিরসনের প্রচেষ্টায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বুধবার বৈঠক করেছেন। আমেরিকান যাজক অ্যান্ড্রিউ ব্রুনসনকে আটক করা নিয়ে এ দু’টি দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। তুরস্কের সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাদাৎ অনাল মার্কিন সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন সুলিভানের সাথে বৈঠক করেন।

এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এ দুই কর্মকর্তা যাজক ব্রনসনসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সঙ্কট সমাধানে প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছে উভয় দেশ।

সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে যাজক অ্যান্ড্রিউ ব্রুনসেনকে দুবছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল তুরস্কের আদালত। সাজা খাটার পর তাকে গৃহবন্দী করা হয়। ব্রুনসেনের পূর্ণ মুক্তি না দেয়ায় তুরস্কের ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট। তুরস্কও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।

ন্যাটোর মিত্র এ দুই দেশের মধ্যে এ বিরোধকে বিশ্লেষকরা সবচেয়ে বেশী উত্তেজনাপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েন হিসেবে দেখছেন। এর আগে ১৯৭৪ সালে তুরস্কের সাইপ্রাসে হামলা চালানোকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার করা হয় ৫০ বছর বয়সি মার্কিন যাজক ব্রুনসনকে৷ তাঁর বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা' এবং ‘গুপ্তচরবৃত্তির' অভিযোগ আনা হয়৷ অ্যান্ড্রু ব্রুনসন এখন তুরস্কে গৃহবন্দি আছেন৷ বিচারে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে ৩৫ বছর পর্যন্ত কারাভোগ করতে হতে পারে৷

যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে৷ এ সব অভিযোগের সপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই বলেও মনে করে যুক্তরাষ্ট্র৷ ১ আগস্ট তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র৷ দু'জনেই এরদোগানের ঘনিষ্ট বলে পরিচিত৷ যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা থেকে আসা এই যাজক ২৩ বছর ধরে তুরস্কে বাস করছেন এবং ইজমির রিসারেকশন চার্চ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন৷


আরো সংবাদ