২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

৬২ টি পিয়ন পদে ৩৭০০ পিএইচডি ও আশি হাজার স্নাতকের আবেদন

-

৫০ হাজারের বেশি স্নাতক, ২৮ হাজার স্নাতকোত্তর ও ৩৭০০ পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থী পিয়ন পদে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজ্য পুলিশের টেলিকম শাখায় ৬২ জন পিয়ন পদের জন্য আবেদন করেছেন ৯৩ হাজার ৫০০ জন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বিজ্ঞপ্তিতে পিয়ন পদের জন্য সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল পঞ্চম শ্রেণী পাস।

সংশ্লিষ্ট দফতর বলছে বিপুলসংখ্যক অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীর আবেদন পাওয়ায় পরীক্ষা পদ্ধতি বদলানো হবে।

৯৩ হাজার ৫০০ আবেদনকারীদের মধ্যে ৭৫০০ জনে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শেণি পর্যন্ত।

পুলিশ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, ১২ বছর পর রাজ্যটির ৬২টি পিয়নের পদ শূন্য হয়। চাকরিটি অনেকটা পোস্টম্যানের মতো। নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিকে পুলিশের টেলিকম বিভাগের বার্তা এক অফিস থেকে অন্য অফিসে নিয়ে যেতে হবে।

পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, গত ১৬ আগস্ট আবেদনের তারিখ শেষ হওয়ার পর ৬২টি পদের বিপরীতে তারা ৯৩ হাজার ৫০০ আবেদন পেয়েছেন। স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের পাশাপাশি আবেদনকারীদের মধ্যে এমবিএ (ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ও বিটেক (ব্যাচেলর অব টেকনোলজি) প্রার্থীও রয়েছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ৭৪০০ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত।

বিপুল সংখ্যক অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীর আবেদনের প্রবণতার জন্য বাজারে চাকরির অভাবকেই দায়ী করছেন পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তা ছাড়া পিয়ন পদের হলেও চাকরিটি পূর্ণকালীন সরকারি। আর শুরুতেই বেতন ২০ হাজার রুপি। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন বিপুলসংখ্যক প্রার্থী আবেদন করায় তাদের নির্বাচনী পরীক্ষা কিভাবে নেয়া হবে তা খতিয়ে দেখতে হচ্ছে।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-টেলিকম) পিকে তেওয়ারি বলেন, এটা বেশ ভালো যে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ আমাদের বিভাগে কাজ করবেন। তিনি বলেন, আমরা পরীক্ষা পদ্ধতি বদলে ফেলার চিন্তা করছি।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী একজন পিয়নকে অবশ্যই সাইকেল চালানো জানতে হয়। কিন্তু এবার থেকে আমরা প্রার্থীদের মৌলিক দক্ষতা দেখার জন্য একটি লিখিত পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবছি। এর মধ্যে থাকবে মৌলিক যুক্তিবিদ্যা, প্রার্থীদের সাধারণ জ্ঞান যাচাই করার কিছু প্রশ্ন ও কিছু মৌলিক গণিত।

পরীক্ষাটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে নেয়া হবে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

 

আরো পড়ুন: এক নিয়োগ পরীক্ষায়ই ১৯ লাখ আবেদনকারী !

নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক নিয়োগে ১২ হাজার পদের বিপরীতে আবেদন করেছে প্রায় ১৯ লাখ পরীক্ষার্থী। বাংলাদেশে নিয়োগ পরীক্ষায় এত বিপুল সংখ্যক আবেদনের অন্য কোন নজির নেই।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কট নিরসনে গত ৩০ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিপিই। গত ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এ আবেদন প্রক্রিয়া চলে। এসব পদের বিপরীতে সারা দেশে প্রায় ১৯ লাখ প্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগে অনলাইন আবেদন কার্যক্রম টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা যায়, ১২ হাজার পদের বিপরীতে সারা দেশে ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৭ আবেদন জমা পড়ে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাকরিবিধি অনুযায়ী আবেদনের ক্ষেত্রে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে পুরুষদের জন্য স্নাতক বা সমমানের পাস থাকতে হবে। আর নারীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয়/বিভাগ/সমমানে পাস হতে হবে।

ডিপিই সূত্র জানায়, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬৪ হাজার ৮২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক শূন্য রয়েছে। এ কারণে নতুন করে রাজস্বখাতভুক্ত আরও ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সহকারি শিক্ষক নিয়োগে পুরনো নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে নারী আবেদনকারীদের ৬০ শতাংশ কোটায় এইচএসসি বা সমমান পাস এবং পুরুষের জন্য ৪০ শতাংশ কোটায় স্নাতক বা সমমান পাস রাখা হয়েছে। এছাড়া পোষ্য কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ অন্যান্য কোটাও প্রযোজ্য হবে।

এর আগে ২০১৪ সালের স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে পারে।

খুব দ্রুত লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। ডিপিই ওয়েবসাইটে dpe.teletalk.com.bd প্রবেশপত্র ও যাবতীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।


আরো সংবাদ