২৩ এপ্রিল ২০১৯

মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে প্রবাসীরা

মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে প্রবাসীরা - সংগৃহীত

থ্রি-প্লাস ওয়ানের মাধ্যমে দেশে ফেরার সুযোগ শেষ হওয়ার পরই শুক্রবার থেকে মালয়েশিয়াজুড়ে অভিযান শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ায় বাংলাদেশীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকেই।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া সাঁড়াশি এই অভিযানে কয়েকশ’ অবৈধ শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।  ইতিমধ্যে ৫১০ জন অবৈধ বিদেশি শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ।  এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী রয়েছেন। যারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন। অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় একজন নারী ইমিগ্রেশন অফিসার আহত হয়েছেন জানা গেছে।

সাঁড়াশি অভিযানের কারণে মালয়েশিয়ার বাঙালি অধ্যুষিত কোতারায়া এলাকা এখন ফাঁকা। এছাড়াও বাসগুলোতেও আর দেখা মিলছে না বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের। অভিযানের ফলে শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন একাধিক মালিক। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, ভিসা থাকা সত্ত্বেও গ্রেফতার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে এজেন্টের নামে ভিসা করে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করলেও  অভিবাসন বিভাগ বলছে, অনুমতি ছাড়া অন্য জায়গায় কাজ করলেই তাদেরকে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত করা হবে। ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান মুস্তাফার আলী সাংবাদিকদের বলেন, সম্ভাব্য সব জায়গায় আমাদের অভিযান পরিচালিত হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের আইনের আওতায় আনতে পারছি আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ শ্রমিক এবং মালিকদের সাথে কোনো আপস করা হবে না।

বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অভিবাসী ধরা পড়লেও এবারের অভিযানের বেলায় রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিতসহ জেল জরিমানার বিধান রয়েছে। তিন বাহিনীর সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করা হবে বলে জানান ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান।

বিদেশি নাগরিক দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান আরো জোরদার করা হবে। এছাড়া কাজের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করলে তাকেও অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে। আর অবৈধ হিসেবে ধরা পড়লেই ব্ল্যাকলিস্টসহ জেল জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশী বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই তারা সংগত কারণেই আতঙ্কিত। তবে দূতাবাসের তরফে সরকারকে সময় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২০১৪ থেকে গত ২৮শে আগস্ট পর্যন্ত ৮ লাখেরও বেশি অবৈধ অভিভাসী সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন। গত ৮ মাসে ৯৭১৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিভাসন বিষয়ক মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী জানিয়েছেন, এই সময়ে ২৯ হাজারেরও বেশি অবৈধ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ শ্রমিককে কাজ দেয়ার অভিযোগে ৮৮০ জন চাকরিদাতাকে জেলে নেয়া হয়েছে। এই অভিযান শুরু হওয়ার আগে মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহাথির মোহাম্মদ বিশেষ এক সিদ্ধান্তের অধীনে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে শ্রমিক নেয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন। সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। আধুনিককালের ক্রীতদাস হিসেবে যারা শ্রমিকদের গণ্য করছে তারাই চলতি অভিযানের মূল টার্গেট।

মালয়েশিয়ায় স্থায়ী নাগরিকত্ব পেয়েছেন জাকির নায়েক

০৭ জুলাই ২০১৮

মালয়েশিযার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ বলেছেন, ‘যতদিন পর্যন্ত জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি না করছেন, ততদিন তাঁকে ভারতে ফেরানোর কথা ভাবছে না মালয়েশিয়া সরকার। কারণ নায়েককে ইতিমধ্যেই স্থায়ী নাগরিকত্ব দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।  জাকির এদেশে আসার পর কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি৷ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার পর তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না৷’

সম্প্রতি ভারতে ফিরছেন ড. জাকির নায়ক- এমন খবর দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় ড. জাকির নায়েক বলেছেন, এই মুহূর্তে আমি ভারতে ফিরছি না। ভারত এখন আমার জন্য নিরাপদ না। যদি কখনো মনে করি ভারত সরকার আমার সাথে সঠিক বিচার করছে তখনই আমি দেশে ফিরব। 

দুই বছর আগে বাংলাদেশে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন এই ধর্মপ্রচারক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তার বক্তব্য শুনে নাকি উৎসাহ পেয়েছে জঙ্গিরা। তবে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় পিস টিভির সম্প্রচার। ভারতেও ব্যাপক সমালোচনায় মুখে তিনি দেশ ছেড়ে আশ্রয় নেন মালেশিয়ায়।

২০১৬ সালে বাংলাদেশের ঢাকার গুলশানে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের কয়েকজন জাকির নায়েকের প্রচারে প্রভাবিত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠলে তিনি ওই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘আমি শান্তির দূত, কখনো সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করিনি।’ তিনি সন্ত্রাসবাদকে নিন্দা করেন এবং 'ইসলামে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই' বলে মন্তব্য করেন। এ নিয়ে তিনি 'মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার' হচ্ছেন বলেও জাকির নায়েক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন। জাকির নায়েক সেই থেকেই বিদেশে আছেন এবং বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।

পিস টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জাকির নায়েক তার বক্তব্য ও মতামত প্রচার করতেন। বিশেষ করে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক তার বক্তব্যগুলো ছিল অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে সারা বিশ্বের প্রচুর অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। 

সিঙ্গাপুরের রাজারত্মম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাডিজের বিশ্লেষক রাশাদ আলী বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকার জাকির নায়েকের থাকার ব্যবস্থা করেছে, কারণ যৌক্তিকতার সঙ্গেই মালয়দের মধ্যে জনপ্রিয় চরিত্র হয়ে আছেন। এ অবস্থায় সরকার যদি তাকে দেশ থেকে বের করে দেয় তাহলে তা জনগণের দৃষ্টিতে ধর্মীয় বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

পাঁচ বছর আগেই মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে জাকির নায়েককে। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশের আইন বা শৃঙ্খলা ভাঙেননি। এ ছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে তার সম্পর্কে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে মালয়েশিয়াকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে তাকে আটক বা গ্রেফতারের কোনো কারণ নেই। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার বিরোধী দল ইসলামিক পার্টিও জাকির নায়েককে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছে এবং কোনো বিদেশী সরকারের হাতে তাকে তুলে না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat