১৭ অক্টোবর ২০১৯

অথচ শোনানো হচ্ছে সরকার গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখছে : সুলতানা কামাল

অথচ শোনানো হচ্ছে সরকার গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখছে - ছবি : সংগৃহীত

মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতি সব যাত্রীর পক্ষ থেকে শুধু এটুকুই বলেছে যে রাস্তায় বের হলে যেন তারা নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন। এমন নিরীহ একটি সংগঠনের নেতা মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে যদি রিমান্ডে নেয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে হতবাক হতে হয়। অথচ সমস্ত ক্ষেত্রে শোনানো হচ্ছে, সরকার গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখছে, তাদের উন্নয়নের কোনো তুলনা নেই।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এতে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সামসুদ্দীন চৌধুরী এসব কথা বলেন। মোজাম্মেল হক চৌধুরী হচ্ছেন সংগঠটির সভাপতি।

সুলতানা কামাল আরো বলেন, এমন উন্নয়ন হচ্ছে যে রাস্তায় প্রতিদিন ১০ জনের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। উন্নয়নের নানা ক্ষেত্র আছে, কিন্তু সব জায়গায় মানুষের সব সময় সম্পৃক্ত হতে হয় না। মানুষকে প্রতিদিন পথে নামতে হয়, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়। এটি মৌলিক অগ্রাধিকারের জায়গা। রাষ্ট্র যদি সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে না পারে, তবে আমরা কথা বলব না? আমরা সোচ্চার হবো না?’ তিনি মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে মানবাধিকারকর্মী হিসেবে উপস্থাপন করে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন।

এদিকে শিশুকন্যা ফাতেমা তুজ জহুরাকে কোলে করে হাজির হয়ে মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্ত্রী বিজু আক্তার বলেন, আমি এখন কোনো কথা বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই। শুধু প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার বিনীত অনুরোধ যেন আমার স্বামীকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়া হয়।এরপর তিনি আর কথা বলতে পারেননি।

অপরদিকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সামসুদ্দীন চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, মোজাম্মেল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে যাত্রী কল্যাণ সমিতি অত্যন্ত গঠনমূলকভাবে সততার সাথে যাত্রী অধিকার আন্দোলনকে চাঙ্গা করেছেন। সকল মহল এ আন্দোলনকে নৈতিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন। সড়ক নিরাপত্তায় সরকার যাতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে জন্য সহায়ক শক্তি হিসেবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কাজ করে। সংগঠনের উদ্দেশ্য কাউকে দায়ী করা না, যাত্রী সাধারণের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ দেখিয়ে দেওয়া। দেশের ১৬ কোটি যাত্রীকে যারা জিম্মি করেছেন তারা গুটিকতক। এই অপশক্তি কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে ভুল বুঝিয়ে নিজেদের অপকর্ম, সড়কে নৈরাজ্য চালানোর জন্য মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। এই হুমকি-ধমকি তাকে যাত্রী অধিকার আন্দোলন থেকে বিরত করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। কায়েমি স্বার্থে একটি গোষ্টীর প্রতিহিংসার শিকারে আজ তিনি কারাগারে। একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। দোষ তার একটাই তিনি সড়কে মানুষ হত্যার প্রতিবাদ করেন, সোচ্চার থাকেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি একটি নিবন্ধিত সংগঠন দাবি করে তিনি বলেন এই সংগঠন যাত্রীর অধিকার, যাত্রী সচেতনতা, নিয়ে কাজ করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি খায়রুল আমিন, যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দীন আহেমদ, নির্বাহী সদস্য আমান উল্যাহ মাহফুজ, ঢাকা মহানগর যাত্রী কল্যাণ সমিতির সদস্য মনিরুজ্জামান, মোঃ ফারুকসহ প্রমুখ।

আরো পড়ুন ::

ঢাকায় লেগুনা বন্ধ : কী বলছেন যাত্রীরা?

ঢাকার কয়েকটি প্রধান সড়কে হিউম্যান হলার বা লেগুনা চলাচল ছিল স্বাভাবিক চিত্র, কারণ বাসের বিকল্প হিসেবে অনেকে এই লেগুনায় চড়েন।

তবে কয়েকদিন ধরে ঢাকার প্রধান কয়েকটি রাস্তায় এই স্বাভাবিক চিত্র দেখা যাচ্ছে না। কারণ গত মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে জানান ‘রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে এখন থেকে লেগুনা চলবে না’।


প্রধান সড়ক বলতে ফার্মগেট থেকে মিরপুর ১০, ফার্মগেট থেকে মহাখালী, ফার্মগেট থেকে জিগাতলা, ফার্মগেট থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে নিউমার্কেট, ট্যানারি মোড় থেকে নিউমার্কেট, গাবতলী থেকে বাড্ডা ভায়া মহাখালী-গুলশান-উত্তরা মাস্কট প্লাজা ও দিয়াবাড়ি, গুলিস্তান থেকে মালিবাগ রেলগেট-সিপাহীবাগ-গোড়ান, ডিএসসিসি নগর ভবন থেকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা অন্যতম।

ঢাকার রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে মাসব্যাপী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রধান সড়কে লেগুনা চলাচল বন্ধের ঘোষণা আসে ডিএমপির পক্ষ থেকে।

তবে অনেক সাধারণ যাত্রী রাস্তায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে যেমন লেগুনার ওপর নির্ভরশীল, তেমনি এই যানটির রুট পারমিট, চালক ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও রয়েছে।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘অনুমোদিত রুট পারমিট নিয়েই লেগুনাগুলো চলছে। বন্ধ করার ঘোষণার ক্ষেত্রে সে বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।’

তবে ডিএমপি থেকে বলা হয়েছে যে, শহরের বাইরে বা উপকন্ঠে লেগুনা চলতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
এদিকে প্রধান সড়তে লেগুনা চলাচল বন্ধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। কারণ রাজধানী ঢাকার অনেক মানুষ যাতায়াত করেন এই লেগুনাতে করে। অনেকেরই মন্তব্য বাসের বিকল্প এই যানটি বন্ধ হওয়াতে সাধারণ মানুষ পড়েছেন বিপাকে।

এই বিষয় নিয়ে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় অনেকেই নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

যেমন সাঈদ হাসান নামে একজন লিখেছেন- ‘লেগুনার বিকল্প ব্যবস্থা না করে লেগুনা উঠিয়ে দেওয়া অন্যায়, এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় জনগণকে। নেতারা এসি গাড়িতে বসে তা বুঝে না। জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের থেকে আর কিইবা আশা করা যায়?’

এমডি খান নামের আরেক ব্যক্তি লিখেছেন- ‘সরকারের উচিত প্রাইভেট গাড়ির উপর নীতিমালা প্রয়োগ করা, কিন্তু তা না করে পাবলিক পরিবহনের উপর নীতিমালা প্রয়োগ করছে।

যে সাইজের প্রাইভেট গাড়িতে ১-৪ যাত্রী চলাচল করে, ঠিক সেই একই সাইজের লেগুনাতে ১৪-১৬ যাত্রী চলাচল করে। রাস্তায় যানজটের জন্য লেগুনা দায়ী না, দায়ী প্রাইভেট কার। তাই এমন নীতিমালা গ্রহণ করুন, যা সাধারণ মানুষের উপকার হয় এবং ঢাকা শহরের যানজট দূর হয়।’

‘যেখানে আগে খিলগাঁও থেকে গুলিস্তান যেতাম ১২ টাকা দিয়ে আর সেখান থেকে রিকশায় যেতে লাগে ৮০ টাকা তারপর আবার রিকশাদের তেল মারা লাগে।’

‘ডিএমপির আগে এসব রুটে বিকল্প যানবাহন দিয়ে লেগুনা বন্ধ করা উচিত ছিলো। লেগুনা দিয়ে অনেক চিপাচাপা গলিতে যাওয়া যেতো অনেক সহজে, আর এখন ওইসব জায়গা ৩ গুন ভাড়া বেশি দিয়ে যাওয়া লাগে’- লিখেছেন সোয়েব লস্কর।

তবে ভিন্নমত দিয়েছেন সায়িদ এ সায়িদ । তার মতে, ‘লেগুনার চালকের বয়স অনেক কম থাকে, এছাড়া তারা অদক্ষ। লেগুনায় উঠলে নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হয়। শহরে ব্যক্তিগত গাড়ি কমিয়ে সাধারণ পরিবহন বাড়িয়ে যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা দরকার।’

প্রিন্স রনি লিখেছেন- ‘লেগুনা বন্ধ করার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। এখন আমাদের অনেক দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।’

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ অটো-রিকশা অটোটেম্পু পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।


আরো সংবাদ

ট্রাম্পের 'অতুলনীয় জ্ঞানের' সিদ্ধান্তে বদলে গেল সিরিয়া যুদ্ধের চিত্র (৩২১৮৮)ভারতের সাথে তোষামোদির সম্পর্ক চাচ্ছে না বিএনপি (১৮৪৫৫)মেডিকেলে চান্স পেলো রাজমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া সুলতানা (১৪৯৪৬)তুরস্ককে নিজ ভূখণ্ডের জন্য লড়াই করতে দিন : ট্রাম্প (১৪৭০৩)আবরারকে টর্চার সেলে ডেকে নিয়েছিল নাজমুস সাদাত : নির্যাতনের ভয়ঙ্কর বর্ণনা (১৩৮১৫)পাকিস্তানকে পানি দেব না : মোদি (১১২৭৪)১১৭ দেশের মধ্যে ১০২ : ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে ভারত (৮৯৭০)তুহিনকে বাবার কোলে পরিবারের সদস্যরা হত্যা করেছে : পুলিশ (৮৮৮৫)বাঁচার লড়াই করছে ভারতে জীবন্ত কবর দেয়া মেয়ে শিশুটি (৮৬৮৭)এক ভাই মেডিকেলে আরেক ভাই ঢাবিতে (৮৫২৩)



astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa