২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের মতো হামলা হতে পারে দুই বিশেষজ্ঞের হুঁশিয়ারি

-

৯/১১-এর হামলার ঘটনা তদন্ত কমিশনের সাবেক দুই সদস্য হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন যে, মার্কিন মুল্লুকে আবার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তারা মনে করছেন যে, চরমপন্থীরা নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে এবং তারা আবারো আঘাত হানবে।
১১ সেপ্টেম্বর কমিশনের বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন এমন দুই জন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদেরকে অবশ্যই এখনই কাজ করতে হবে, নচেত পরবর্তীতে আমাদেরকে দুর্দশার শিকার হতে হবে, মার্কিন ভূখণ্ডে আরেক দফা সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটবে।
৯/১১ হামলার ১৭তম বার্ষিকীতে ‘আমরা ফের সন্ত্রাসী হামলার অপেক্ষায় থাকতে পারি না,... সময় আমাদের মিত্র নয়’ শীর্ষক এক মতামত নিবন্ধে সাবেক দুই বিশেষজ্ঞ এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ওই হামলায় ২৯৯৬ জন নিহত ও ৬০০০ জন আহত হয়। ইউএসএ টুডেতে প্রকাশিত নিবন্ধটি লিখেছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও নিউজার্সির গভর্নর থমাস কিন এবং ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য লি হ্যামিল্টন। তারা ‘ইসলামি’ সন্ত্রাসী হামলার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি সম্পর্কে সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
২০০১ সালে নিউ ইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ও পেন্টাগনে যাত্রীবাহী বিমানের সাহায্যে হামলার পর ওই কমিশন গঠন করা হয়। হামলায় ব্যবহৃত ফাইট ৯৩কে ভূপাতিত করা হয়। মার্কিন ভূখণ্ডে ওই ভয়াবহ হামলার ঘটনা তদন্তে ১১ সেপ্টেম্বর কমিশনটি গঠন করা হয়। ব্যাপকভিত্তিক রিপোর্ট দেয়ার পর ২০০৪ সালে ওই কমিশন ভেঙে দেয়া হয়।
দুই বিশেষজ্ঞ লিখেছেন, ‘পরবর্তী ১১ সেপ্টেম্বর ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে যাতে চরমপন্থী গ্রুপগুলো শিকড় গাড়তে এবং বিস্তারিত হতে ও কার্যক্রম চালাতে না পারে। কমিশনে কর্মরত অবস্থায় তারা হামলার হুমকি কমাতে তিনটি লক্ষ্যের সুপারিক করেছেন। তাহলোÑ ‘সন্ত্রাসী ও তাদের সংগঠনগুলোর ওপর হামলা চালানো, হামলা রোধে ও হামলার প্রস্তুতি প্রতিরোধ করা এবং ‘ইসলামি’ সন্ত্রাসবাদের বিস্তাররোধে অব্যাহতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’ তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দু’টি লক্ষ্য অর্জনে বেশ অগ্রগতি অর্জন করলেও তৃতীয় লক্ষ্যের ব্যাপারে তেমন একটা অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
দুই বিশেষজ্ঞ দুঃখ করে বলেন, ৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ শুরু ও বিস্তার ঘটানোর পর এ পর্যন্ত দশ হাজার হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং ব্যয় হয়েছে ৫.৬ ট্রিলিয়ন ডলার; কিন্তু এ যুদ্ধের কোনো শেষ এখনো দেখা যাচ্ছে না। তারা বলেন, ১৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে লড়াই করছে। তাদের এখন ‘প্রতিরোধমূলক কৌশল’ অবলম্বন করতে হবে যাতে ওই সব দেশ নিজেরাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। সে জন্য তাদের সেনাবাহিনী তৈরি করে দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। ওই দেশগুলো যাতে আরো ১৭ বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে সেজন্যে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সহায়তা দিতে হবে। তারা ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন কৌশলের প্রচ্ছন্ন সমালোচনা করে লিখেছেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে জাতিগঠন কোনো কাজে আসছে না।

 


আরো সংবাদ