Naya Diganta

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দ্বারা তার চিকিৎসা ব্যবস্থার দাবি

জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দ্বারা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বিএসএমএমইউ শাখা।

ড্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, তাকে (বেগম জিয়া) তার প্রাপ্য জামিন দিয়ে মুক্ত পরিবেশে তার পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। অন্যথায় চিকিৎসক সমাজ নীরবে বসে থাকবে না। দেশের সকল জনগণকে সাথে নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন গড়ে তুলবে।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে খালেদা জিয়ার বর্তমান শারিরীক অবস্থা নিয়ে ড্যাব বিএসএমএমইউ শাখা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসক নেতারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ড্যাবের সহসভাপতি ডা. হেলাল উদ্দিন, উপদেষ্টা ডা. মো. সহিদুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব ডা. কাজী মাযাহারুল ইসলাম দোলন, ড্যাব বিএসএমএমইউ শাখার সভাপতি ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, সিনিয়র সহসভাপতি ডা. শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. শহিদুল হক রাহাত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, দফতর সম্পাদক ডা. মো. মশিউর রহমান কাজল প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ড্যাবের বিএসএমএমইউ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. শেখ ফরহাদ বলেন, ইদানিং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থা নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা অসত্য বিভ্রান্তিমূলক ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা মনে করে খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তীলে তীলে নিঃশেষ করে দেওয়ার অপপ্রয়াসে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অসত্য সংবাদ পরিবেশন করেছেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া চরম অসুস্থতায় ভুগছেন। বাস্তবিক অর্থে উনি ধীরে ধীরে পঙ্গুত্বের দিকে যাচ্ছেন। এই সময় যথাযথ চিকিৎসা না দিলে তার এই অবস্থা স্থায়ী রূপ নিতে পারে। অথচ বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ সরকারের অশুভ ইশারায় জাতিকে বিভ্রান্ত করতে ও খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন ভণ্ডুল করতে সত্য গোপন করছেন।

ডা. ফরহাদ বলেন, আপনারা জানেন ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে নিজ পায়ে হেটে জেলখানায় প্রবেশ করেন। নিজে হেটে দোতলায় তার নির্ধারিত রূমে যান। এমনকি জেলখানায় থেকে আগেরবার যখন বিএসএমএমইউতে আসেন তখন গাড়ি থেকে নেমে নিজে লিফট পর্যন্ত হেটে যান। সময়ে পরিক্রমায় তিনি কিভাবে আজকের অবস্থায় উপনীত হলেন? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে সঠিক চিকিৎসার অভাবে তিনি ধীরে ধীরে এই অবস্থায় উপনীত হয়েছেন। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ ২৮ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন তা সত্যের অপলাপ।

ড্যাবের এই নেতা বলেন, একজন রোগীর মেডিকেল রিপোর্ট পেশ করতে এত সময় লাগার কারণ নেই। আমাদের জানামতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকগণ তার মেডিকেল রিপোর্ট দুইদফা প্রস্তত করে বিএসএমএমইউ’র উপাচার্যর কাছে জমা দিয়েছেন। তদুপরি অধিকতর পরীক্ষার নামে কালক্ষেপনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে স্বাস্থ্য ঝুকির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। যা বাংলাদেশের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটা খালেদা জিয়াকে মৃত্যু ঝুকির দিকে ধাবিত করার অপকৌশল।