Naya Diganta
তামাকের রাজ্যে ‘চা বিপ্লব’

সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করুন

তামাকের রাজ্যে ‘চা বিপ্লব’

‘তামাক অধ্যুষিত’ জেলা লালমনিরহাটে ক্ষতিকর তামাকের চাষ ছেড়ে চা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকেরা। তুলনামূলকভাবে কম পরিশ্রমে চা চাষ করা যায় এবং এটা বেশি লাভজনক বলে বেশ সম্ভাবনাময়। শিল্প ব্যাংকের সহায়তায় জেলার হাতিবান্ধায় একটি চা প্রক্রিয়াকরণ কারখানা ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে। তবে বিদ্যুৎ সঙ্কটের দরুন তা বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা কাঁচা চা পাতা বিক্রির ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে অন্য জেলায় গিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। ঢাকার একটি দৈনিক তাদের সচিত্র প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিশদভাবে তুলে ধরেছে।
পত্রিকাটি জানায়, চাষিরা প্রতি কেজি সবুজ কাঁচা চা পাতা ৩৪ টাকা করে কারখানায় বিক্রি করছেন। লালমনিরহাট জেলায় ৫২ জন কৃষক মোট প্রায় ৭৩ একর জমিতে চা বাগান প্রতিষ্ঠা করেছেন। আরো ২০ জন চা চাষি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। ২০১৮ সালে এ জেলায় মাত্র ৬৩ টন সবুজ কাঁচা চা পাতা উৎপন্ন হয়েছিল। গত বছর তা ৫ গুণ বেড়ে গিয়ে ৩১৫ টনে উন্নীত হয়েছে বলে বাংলাদেশ চা বোর্ডের ধারণা। তদুপরি, আরো ২০০ একর জমিতে চা বাগান তৈরি করার প্রক্রিয়া চলছে। চা উন্নয়ন বোর্ড নিজেই হাতিবান্ধায় চা গাছের চারার নার্সারি গড়ে তুলেছে। সেখানে প্রতিটি চারা মাত্র দুই টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বোর্ড চা চাষের ব্যাপারে রোপণ ও পরামর্শসহ নানা ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে। চা উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এক বিঘা জমিতে চা গাছের চারা রোপণে খরচ হয়ে থাকে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা। লালমনিরহাট জেলায় মাত্র এক বছর সময়ের মধ্যেই ওসব গাছ থেকে কাঁচা চা পাতা সংগ্রহ করা যায়। এতে বিঘাপ্রতি প্রথম বছরে চার হাজার, পরের বছর ১৬ হাজার, তৃতীয় বছরে ৩৪ হাজার, চতুর্থ বছরে ৪৮ হাজার এবং পঞ্চম বছরে ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের সবুজ কাঁচা চা পাতা বিক্রি করা সম্ভব। একেকটি চা গাছ থেকে অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় ধরে চা পাতা পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে চা চাষের পরের প্রত্যেক বছর ২০ শতাংশ আয় পরিচর্যাসহ বিভিন্ন কাজে খরচ করতে হয়। এ হিসাবে একাধারে ৫৫ বছর ধরে বছরে ৪০-৪৫ হাজার টাকা আয় হতে পারে কাঁচা চা পাতা থেকে।
জানা গেছে, হাতিবান্ধার চাষিরা আগে অনেক শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে যেখানে ক্ষতিকর তামাক ফলাতেন, এখন সেসব জমিতে সুপেয় সবুজ চায়ের কাঁচা পাতা উৎপাদন করা হচ্ছে। চায়ের চাষ করার জন্য অনেকের আগ্রহ থাকলেও বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজে উল্লিখিত টি প্রসেসিং ফ্যাক্টরিটি চালু করা যাচ্ছে না। এর মালিকের আরো অভিযোগ, এর মোট ব্যয়ের ৪৯ শতাংশের দায়িত্ব নিয়ে শিল্প ব্যাংক দুই কোটি ৩৭ লাখ টাকা ঋণ দেবে জানিয়েছিল। পরে ঋণ পাওয়া গেছে ৪২ লাখ টাকা কম। এতে অর্থাভাবের সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে, চা উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটে নিজস্ব নার্সারি থেকে চার লাখের বেশি চা চারা বিক্রি করেছে। তাদের টার্গেট ৪০ শতাংশের মতো পূরণ হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
শুধু লালমনিরহাট নয়, পার্বত্য বান্দরবানসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় সাম্প্রতিককালে ব্যাপকভাবে তামাক চাষ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল এতে নানাভাবে প্রণোদনা দিচ্ছে এবং সুকৌশলে প্রচারণা চলছে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তামাক শিল্পের। এ অবস্থায়, তামাক চাষ বন্ধ করে চা-সহ প্রয়োজনীয়, উপকারী ও লাভজনক বিভিন্ন ফসল ও পণ্য সে জমিতে ব্যাপক ভিত্তিতে উৎপাদনের জন্য কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেয়া দরকার।